kalerkantho


হেফাজতের বিবৃতি

পহেলা বৈশাখে বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ বরণের নামে বিভিন্ন জীবজন্তুর মূর্তি নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা, মুখে উল্কি আঁকা এবং নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণসহ সব অনৈসলামিকতা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার জন্য মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনাইদ বাবুনগরী। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে এবার পহেলা বৈশাখ দেশের সব সরকারি স্কুল-কলেজে মঙ্গল শোভাযাত্রার মতো ‘ঈমান বিধ্বংসী আগ্রাসী সংস্কৃতির’ আয়োজনকে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাধ্যতামূলক করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ‘ঈমান-আক্বিদা ও ইসলামবিরোধী’ এই নির্দেশনা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন বাবুনগরী।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘মুসলিম ছাত্রদের ঈমানবিরোধী রীতি পালনে রাষ্ট্র কখনোই বাধ্য করতে পারে না। এটা নাগরিকদের অধিকার রক্ষার ও সংবিধানের মৌলিক নীতিমালার ঘোরতর বিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘বর্ষবরণের নামে মূলত মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদাবিরোধী ভিনদেশি হিন্দুত্ববাদী ও আগ্রাসী সংস্কৃতির প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামের বিশ্বাস মতে কোনো জীবজন্তু, বন্য প্রাণী ও দেবদেবীর মূর্তির কাছে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করলে ঈমান থাকবে না।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশীয় সংস্কৃতি মানে যেসব আচরণ ও রীতি দেশের মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়। অথচ শিক্ষা অধিদপ্তর পহেলা বৈশাখ সারা দেশের কোমলমতি লাখ লাখ মুসলিম ছাত্রকে এমন এক সংস্কৃতি পালনে বাধ্য করতে চাচ্ছে, যে সংস্কৃতির রীতি ও ধরন সম্পর্কে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কোনো ধারণা নেই।’

হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, বর্ষবরণের উৎসবের নামে নারী-পুরুষ পরস্পরের মুখে উল্কি আঁকা, জীবজন্তুর মুখোশ পরা, নারীরা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরিধান করে উলুধ্বনি দেওয়া হিন্দু ধর্মীয় রীতি। এ ছাড়া পান্তা-ইলিশের সংস্কৃতির চর্চা এ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কোনো অংশ নয়, বরং এটা গ্রামবাংলার খেটে খাওয়া কোটি কোটি মানুষের দরিদ্রতার সঙ্গে উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়।



মন্তব্য