kalerkantho


আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘মুক্তিযুদ্ধ নিরন্তর’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘মুক্তিযুদ্ধ নিরন্তর’

ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে একক আবৃত্তিসন্ধ্যায় হাসান আরিফ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে দেশের কথা বললেন বাচিকশিল্পী হাসান আরিফ। তাঁর ভরাট কণ্ঠের কবিতায় উঠে এলো মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা। দুই ঘণ্টার আবৃত্তিসন্ধ্যায় কবিতার আশ্রয়ে খুঁজে ফিরলেন তিনি হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধ নিরন্তর’ শীর্ষক এই একক আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি)।

বৃষ্টিঝরা সন্ধ্যায় বিশ্বমানব ও নিজের জন্য প্রার্থনা দিয়ে আবৃত্তি শুরু করেন হাসান আরিফ। রবীন্দ্র-রচনা থেকে পাঠ করে শেষ করেন এ প্রার্থনা পর্ব। এরপর ছিল ‘দেশ বন্দনা’। এ অধ্যায়ে শিল্পী পাঠ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নম নম বাংলাদেশ নম’, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ও হুমায়ুন আজাদের ‘শুভেচ্ছা’ শিরোনামের কবিতাগুলো। এরপর ‘আত্মপরিচয়’ পর্বে শিল্পী নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে পাওয়া কিছু কবিতা পাঠ করেন। এগুলোর মধ্যে ছিল তারাপদ রায়ের ‘একেকটা দিন’ ও ‘কয়েকটা দিন’, মীর মাসরুর জামানের ‘সূচীপত্র’ এবং নির্মলেন্দু গুণের ‘কোন কোন দিন প্রিয় হয়ে উঠে’।

‘বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়’ শিরোনাম পর্বের শুরুতেই পাঠ করেন কবি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’।

এরপর পাঠ করেন কবিতা সিংহের ‘মুজিব ভাই’, সাধু উন্মেষ দাশের ‘ইয়াহিয়া খানের তাণ্ডব নৃত্য’, আনিসুল হকের ‘মানুষ জাতভেদ’, সোহেল আনোয়ারের ‘এখনও একাত্তর’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এক গাঁয়ে’, কাজী নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘কোন এক মাকে’, মুস্তাফা আনোয়ারের ‘বৈশাখে রুদ্র জামা’, শুভ দাসগুপ্তের ‘রাত বেড়েছে’। নারী নির্যাতন বন্ধের দাবিতে শিল্পী পাঠ করেন ‘চিৎকার করো মেয়ে, দেখি কতদূর বলা যায়’। ছোট্ট একটি পর্বে সাজানো ছিল ‘বসন্তে বন্ধু হারানোর বেদনা, আবার বসন্তে জেগে ওঠার কথা’। এতে সদ্য প্রয়াত লোকসংগীতশিল্পী বন্ধু কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে উৎসর্গ করে তিনি পাঠ করেন শ্রীজাতের লেখা দুটি কবিতা ‘মৃত্যু কেবল মিথ্যে হোক’ ও ‘জলের উপর পানি না পানির উপর জল’। শিমুল মোহাম্মদের ‘একাত্তরে তখন আমি অনেক ছোট’ কবিতাটি পাঠের মাধ্যমে পরিবেশনা শেষ করেন হাসান আরিফ।

দুই কীর্তিমান স্মরণে বন্ধু রহো রহো সাথে

বাংলার সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকাটি অবিস্মরণীয়। একজন সুরের সাধনায় প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন মানবিক সমাজ। অন্যজন রং-তুলির আঁচড়ে বারবার এঁকেছেন বাংলাদেশকে। প্রথমজন হলেন সংগীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হক। দ্বিতীয়জন চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। দুজনেই জন্মেছিলেন অগ্নিঝরা এই মার্চ মাসে। আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলন প্রতিষ্ঠায় রয়েছে তাঁদের অনবদ্য ভূমিকা। সাহিত্যের বাচিকচর্চার সংগঠনটির প্রাণপুরুষ হিসেবে পরিচিত এই দুই কীর্তিমান। জন্মদিনকে উপলক্ষ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মরণ করা হলো বরেণ্য ব্যক্তিত্বদ্বয়কে। গানের সুরে নিবেদন করা হলো শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে জানানো হলো ভালোবাসা। আলোচনায় বলা হলো দুজনের কীর্তিময় জীবনের কথা। গতকাল সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে ‘বন্ধু রহো রহো সাথে’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   

উদীচীর গণসংগীত প্রতিযোগিতা

আগামী ২৮ মার্চ থেকে উদীচীর আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘অষ্টম সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্ব। শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে শুরু হয় বিভিন্ন বিভাগের প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগীয় পর্বে ‘ক’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে নূর জাকিয়া প্রাপ্তি, আর দ্বিতীয় হয়েছে শেহের মাহমুদ স্মিতা, তৃতীয় হয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌস নাফিসা। ‘খ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে মায়েশা সুলতানা ঊর্বি, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে দুলারি ভট্টাচার্য সিঁথি ও তৃতীয় হয়েছে জয়শ্রী চৌধুরী বৃষ্টি। ‘গ’ বিভাগে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন আনান বাউল। এ বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান। তৃতীয় স্থান পেয়েছেন অন্তু সরকার। আর দলীয় অর্থাৎ ‘ঘ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে নারায়ণগঞ্জের যোদ্ধা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছে উদীচী মিরপুর শাখা। ২৮ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা।


মন্তব্য