kalerkantho


ইলিশ ধরা

জেলে নিবন্ধনের ৩০% ভুয়া

বাতিলের দাবি ২৭ সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রুপালি ইলিশ ধরার সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন ভুয়া জেলেদের নিবন্ধন বাতিল করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন দেশের ২৭টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। যারা প্রকৃত জেলে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি সংগঠনের নেতাদের।

অনলাইন নলেজ সোসাইটি, অর্পণ, উদ্দীপন, উদয়ন বাংলাদেশ, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, এসডিও, মুক্তির ডাক ও কোস্ট ট্রাস্টসহ ২৭ সংগঠনের দেওয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত জেলেদের নামে যাদের আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ভুয়া। অর্থাৎ এই ৩০ শতাংশ কখনো মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত নয়। আবার ৪০ শতাংশের মতো জেলে এখনো আইডি কার্ড পায়নি বা আওতার বাইরে রয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, ভুয়া জেলেদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে ইলিশ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার অন্ততপক্ষে এক সপ্তাহ আগে জেলেদের হাতে চাল বা টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে “প্রকৃত জেলে নয় এমন লোকদের ‘জেলে নিবন্ধন’ বাতিল করতে হবে : মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কমপক্ষে সাত দিন আগেই প্রকৃত জেলেদের চাল বা টাকা দিতে হবে” শিরোনামের এই মানববন্ধনে সংগঠনের নেতারা সাতটি দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো চাল বণ্টনপ্রক্রিয়ায় জেলেদের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা, প্রভাবশালীদের হাত থেকে এ বণ্টনব্যবস্থা নিয়ে নেওয়া, জেলেদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা এবং চালের সমপরিমাণ টাকা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কিংবা মোবাইলের মাধ্যমে বিতরণ করতে হবে, কৃষিঋণের মতো স্বল্প সুদে জেলেদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে, জলবায়ু তহবিল (বিসিসিটি) থেকে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার জন্য জেলেদের বিশেষ কোটার ব্যবস্থা করা, প্রতিটি জেলেঘাটে আবহাওয়াজনিত সতর্কবার্তার জন্য সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা এবং প্রতিটি নৌকায় রেডিও ও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করা।

কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক সনৎ কুমার ভৌমিক বলেন, ইলিশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে প্রতিবছর ৪৪ হাজার মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময় (মার্চ-এপ্রিল) সরকার প্রতিটি জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা।

কিন্তু সে চাল এখন পর্যন্ত অনেক জেলের হাতেই পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুক্তির ডাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ ইকবাল বলেন, আইডি কার্ড পাওয়াদের ৩০ শতাংশ কোনো দিনও মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত নয়। আবার প্রায় ৪০ শতাংশের অধিক জেলে এখনো আইডি কার্ড পায়নি বা আওতার বাইরে রয়েছে।


মন্তব্য