kalerkantho


স্কুলের পাঠ্য বইয়ে পরিবর্তন কেন অবৈধ নয়

জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘প্রথিতযশা ও স্বনামধন্য’ লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন করা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ রুল জারি করেন। হাইকোর্টের আদেশে শিক্ষাসচিব, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং চার শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষাবিদ মমতাজ জাহানের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান। যেসব লেখকের লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে তার একটি তালিকা রিট আবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, হেফাজতে ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক, পাকিস্তানি ভাবধারা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

মামুন মাহবুব জানান, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে গোলাম মোস্তফার লেখা ‘প্রার্থনা’, একই শ্রেণির বাংলা বইয়ে হুমায়ুন আজাদের লেখা কবিতা ‘বই’, ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা চারুপাঠ থেকে এস ওয়াজেদ আলীর ‘রাঁচি ভ্রমণ’, সানাউল হকের কবিতা ‘সভা’ বাদ দেওয়া হয়েছে।

একই শ্রেণির আনন্দ পাঠ থেকে সত্যেন সেনের গল্প ‘লাল গরুটা’, একই বই থেকে শরত্চন্দ্রের গল্প ‘লালু’ এবং উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর ‘রামায়ণ কাহিনী’ বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নবম শ্রেণির বাংলা বই থেকে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’, রতন দাসের কবিতা ‘সুখের লাগিয়া’, ভারত চন্দ্রের ‘আমার সন্তান’, লালন সাঁইয়ের ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘খতিয়ান’ এবং তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বই থেকে কুসুমকুমারী দাসের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতার একাদশ থেকে চতুর্দশ লাইন বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে সবাই মিলে করি কাজ, তৃতীয় শ্রেণিতে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.), চতুর্থ শ্রেণিতে খলিফা হযরত ওমর (রা.), পঞ্চম শ্রেণিতে বিদায় হজ্জ ও শহীদ তিতুমীর, ষষ্ঠ শ্রেণিতে সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নীল নদ ও পিরামিডের দেশ’, জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতা, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র ‘সততার পুরস্কার’, সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ে হাবিবুল্লাহ বাহারের ‘মরু ভাস্কর’, কায়কোবাদের ‘প্রার্থনা’, কালিদাস রায়ের ‘বাবরের মহত্ব’ এবং শাহ মুহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’ কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঠ্যপুস্তকে নতুন করে কিছু গল্প, কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কিছু বিখ্যাত লেখকের লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত লেখার অধিকাংশই ধর্মশিক্ষা বইয়ে রয়েছে।

রিট আবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৩ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে স্বনামধন্য ও সুপরিচিত লেখকদের অসাম্প্রাদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ৮ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই সব লেখকের লেখা বাদ দিতে বলা হয়। ওই দাবির পর চলতি বছর জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম বোর্ড (এনসিটিবি) প্রগতিশীল স্বনামধন্য লেখকদের অনেক লেখা বাদ দেয় এবং হেফাজতে ইসলামের সুপারিশকৃত লেখা যুক্ত করে।


মন্তব্য