kalerkantho


ই-নাইন ফোরামের ঢাকা ঘোষণা

২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে একমত হয়েছেন ৯টি দেশের শিক্ষামন্ত্রীরা। জেন্ডার সমতা, সব শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখাসহ আন্তর্জাতিক গুণগত মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হবে ই-নাইনভুক্ত দেশগুলোর অন্যতম লক্ষ্য।

বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই ৯টি উন্নয়নশীল দেশ পরস্পরের সহযোগিতা নিয়ে এ সময়ের মধ্যেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে।

রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলে গতকাল সোমবার ‘ই-নাইন’ ফোরামের তিন দিনব্যাপী মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা ঘোষণায় এসব কথা বলা হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের লক্ষ্যসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ই-নাইনের নতুন চেয়ারম্যান বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ই-নাইনভুক্ত দেশগুলো হলো—চীন, ভারত, ব্রাজিল, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণে নির্দিষ্ট ‘কর্মপন্থা’ ঠিক করেছে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ৯টি দেশ। এ সময়সীমায় সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা ও শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্য ঠিক করতে আমরা এক জায়গায় মিলিত হয়েছি। ঘোষণাপত্রে ৯টি দেশের একই রকম সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মপন্থা ঠিক করা হয়েছে। ”

ঢাকা ঘোষণায় বলা হয়, ই-নাইনভুক্ত দেশে পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা, অর্ধেকের বেশি স্কুলের বাইরের শিশু এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নিরক্ষর যুবক ও বয়স্ক মানুষের বাস। এ মানুষগুলোকে সাক্ষরতার মধ্যে নিয়ে আসা মানে সারা পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষের শিক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।

ঢাকা ঘোষণায় এসডিজি-৪ অর্জনে আন্তর্দেশীয় শিক্ষা সফর, পারস্পরিক সংযোগের ফলে অর্জিত সাফল্য নিয়ে গবেষণা, দেশগুলোর শিক্ষার অংশীজনের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বৈঠকের বিষয়েও মতৈক্যে পৌঁছেছে ৯টি দেশ।

ই-নাইনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশের সমস্যাগুলো অনেকটা কাটিয়ে উঠেছি। আমরা শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্কুলে আনতে পারলেও ধরে রাখাটা হবে আমাদের প্রধান কাজ। ’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর জন্য আমরা একটি প্রস্তাবনা দিয়েছি। তবে ই-নাইন প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট দরকার হবে না। পাশাপাশি ইউনেসকো এ বিষয়ে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ই-নাইনভুক্ত দেশগুলোর জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশই বয়স্ক নিরক্ষর। তাদের সাক্ষরতার মধ্যে আনাটাও বড় চ্যালেঞ্জ। ’  ইউনেসকোর সহকারী পরিচালক কিয়ান তান বলেন, ‘শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে অধিক জনসংখ্যাভুক্ত ৯টি দেশকে ই-নাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব দেশে উন্নত শিক্ষা প্রদানে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে সব সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো কিভাবে শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছবে তা নির্দিষ্টকরণে আমরা এক জায়গায় এসেছি। ’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী উপেন্দ্র কিশোর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ইউনেসকো মহাপরিচালকের বৈঠক : বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ও ই-নাইনের নতুন চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে র‌্যাডিসন হোটেলে গতকাল পৃথক বৈঠক করেন ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউনেসকো বাংলাদেশের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভালোমানের শিক্ষক এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষকদের মান উন্নয়নে নিয়মিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকরা শিশুদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা অর্জিত হয়েছে।

ই-নাইন ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ইরিনা বোকোভা।


মন্তব্য