kalerkantho


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবম সমাবর্তন আজ

প্রতিষ্ঠার ৬১ বছরে মাত্র আটটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবম সমাবর্তন আজ

১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র আটটি। সর্বশেষ সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালে। আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এর নবম সমাবর্তন। তবে এখন থেকে নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আজকের সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে অধিকাংশ নিবন্ধনকারী রাজশাহীতে এসে পৌঁছেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে শেষ সমাবর্তন (ষষ্ঠ) অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ২৯ জানুয়ারি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর অ্যাডমিরাল এস এম আহসানের সভাপতিত্বে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ২২ এপ্রিল। ওই সমাবর্তনে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ফরাসি মনীষা আঁন্দ্রে মালরোকে ডি-লিট প্রদান করা হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এবং উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ। পরে ৯৯৮ জন গ্র্যাজুয়েটের অংশগ্রহণে ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম সমাবর্তন। আর শেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর। ছয় হাজার ৯৭৪ জন নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েটের অংশগ্রহণে ওই সমাবর্তনের বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নবম সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তালাত আহমদ। এবারের সমাবর্তনে চার হাজার ৭৭১ জন নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট, আট শতাধিক শিক্ষক ও পাঁচ শতাধিক অতিথি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। নিবন্ধিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনসামগ্রী বিতরণ গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে নিজ নিজ বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করা যাবে। এমবিবিএস, বিডিএস ও অন্য ডিগ্রিধারীদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।

গতকাল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জমিয়ে আড্ডায় ব্যস্ত পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে। সমাবর্তনে আসা সাবেক শিক্ষার্থীদের সৌজন্যে অনেক বিভাগই আয়োজন করেছে স্মৃতিচারণা, আড্ডা অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে সমাবর্তনের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, 'সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন একটি কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। প্রায় ৬২ বছরে ৯টি সমাবর্তন আয়োজন হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক। তবে এখন থেকে নিয়মিতভাবে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।'

 



মন্তব্য