kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে বিশুদ্ধ আরবি ভাষায়

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে বিশুদ্ধ আরবি ভাষায়

১০৩. আমি (আল্লাহ) তো জানি যে সত্যি তারা (কাফিররা) বলে, তাকে [মহানবী (সা.)] শিক্ষা দেয় একজন মানুষ। তারা যার কথা আরোপ করে, সে তো আরবিভাষী নয়, অথচ কোরআনের ভাষা বিশুদ্ধ আরবি। [সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৩ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : মক্কার এক খ্রিস্টান দাসের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাঝেমধ্যে দেখা হতো। এতে কাফিররা বলাবলি শুরু করে যে মহানবী (সা.)-কে এই দাস কোরআন শিক্ষা দেয়। ছেলেটি ছিল খ্রিস্টান। পরে সে মুসলমান হয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন ঘটনা শুনে মক্কার মুশরিকরা এ ধরনের রটনা রটায়। সে ছিল অনারবি। অথচ কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে বিশুদ্ধ আরবি ভাষায়।

বিশ্বে হাজারো ভাষা প্রচলিত আছে। আছে অগণিত জাতি। দেশ, কাল ও জাতির কথা বিবেচনা করে প্রত্যেকের নিজ নিজ ভাষায় কোরআন নাজিল করা আল্লাহর পক্ষে কঠিন ছিল না। এর পরও কোরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর অনেক কারণ আছে। আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এ ভাষায় ভাব প্রকাশের অসংখ্য উপায় আছে। প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহ তাআলা সব মানুষকে আরবি ভাষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন। ফলে প্রত্যেকেই নিজেদের প্রয়োজনমাফিক ভাষাটি সহজেই শিখে নিতে পারে। তাই ইসলামের দাওয়াত নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম যখনই কোনো নতুন অঞ্চলে গিয়েছেন, সেখানকার মানুষ ইসলাম কবুলের সঙ্গে সঙ্গে ওই ভাষাও আয়ত্ত করে নিয়েছে। ফলে মক্কা-মদিনার সীমানা ছাড়িয়ে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, সুদান, মৌরিতানিয়া, মিসর, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় ভাষা হয়ে ওঠে আরবি। অথচ এসবের কোনোটিতেই আরবি তাদের জাতীয় ভাষা ছিল না। আরবি বর্ণমালা সম্পর্কে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, আরবি, ফিনিসিয়ান, হিব্রু, আরমায়িক, সুরিয়ানি প্রভৃতি বর্ণমালা মূল সামি বা সেমিটিক বর্ণমালা থেকে উদ্ভূত। পাশ্চাত্য লিপিবিদরা অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছেন যে গ্রিক, লাতিন, ইংরেজি প্রভৃতি ইউরোপীয় বর্ণমালার উৎপত্তিও সেই মূল সামি বর্ণমালা থেকে। কেউ কেউ প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছেন যে ভারতের ব্রাহ্মলিপিও এই সামি বর্ণমালা থেকে উদ্ভূত। (সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড, পৃ. ৭৪)

এ বিষয়ে এ সি মুরহাউস ‘রাইটিং অ্যান্ড দ্য আলফাবেট’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ‘পৃথিবীতে বর্ণমালা আছে মাত্র একটি। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র তা-ই ছড়িয়েছে এবং বিভিন্ন ছদ্মরূপ ধারণ করেও মূলে তা এক ও অভিন্ন। বিষয়টি চাক্ষুষ দেখানো যায়।’

পৃথিবীর ভাষাগুলো কত ভাগে বিভক্ত, তা নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে। আল্লামা শিবলি নুমানি ও সৈয়দ সুলায়মান নদভি ভাষা পরিবারকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেন—

(ক) আর্য বা ইন্দো-ইউরোপীয়। বাংলা, সংস্কৃত, ফরাসি, লাতিন, ইংরেজি ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত।

(খ) সেমিটিক। হিব্রু, আরমায়িক, আরবি ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত।

(গ) তুরানি বা মঙ্গোলিয়া। চৈনিক, জাপানি, তুর্কি ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত। (শিবলি নুমানি : মাকালাতে শিবলি, দ্বিতীয় খণ্ড, আযমগড়, ১৯৫০ পৃ. ১)

ইসলামী গবেষকরা ছাড়াও পাশ্চাত্যের বহু ভাষাবিজ্ঞানী এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে প্রধান ও মৌলিক ভাষা হলো সেমিটিক ভাষা। সেখান থেকেই আরবি ভাষার জন্ম। আরবি ভাষার মতো এত সমৃদ্ধিশালী, মোহনীয়, সুমিষ্ট ও চিত্তাকর্ষক ভাষা পৃথিবীতে আর নেই। এর প্রাঞ্জলতা, সাবলীলতা, ভাবগাম্ভীর্য, নান্দনিকতা ও সৃষ্টিশীলতা এ ভাষাকে পৃথিবীর অন্য সব ভাষা থেকে স্বতন্ত্র মহিমায় দেদীপ্যমান করে রেখেছে। সুতরাং মর্যাদার দিক থেকে অন্যান্য ভাষার চেয়ে আরবি ভাষার গুরুত্ব অনেক বেশি।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য