kalerkantho


বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উৎসব

আকাশে পানিতে আলোর ফোয়ারা

নওশাদ জামিল   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



আকাশে পানিতে আলোর ফোয়ারা

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশব্যাপী আতশবাজির আয়োজন করা হয়। গতকাল রাতে হাতিরঝিল থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে ৮টা। রাজধানীর সুবিশাল হাতিরঝিল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হাজারো মানুষের ভেতরে উৎসাহের জোয়ার। হঠাৎই অন্ধকারে লেকের ওপর সশব্দে লাল, নীল, হলুদ আলোর ঝলকানি শুরু হয়ে গেল। আকাশে ক্ষণে ক্ষণে আনন্দে যেন ফেটে পড়ছিল রংবেরঙের আতশবাজি। কী অপূর্ব সেই আলোর নাচন! অসংখ্য মানুষ বারবার হাততালি দিচ্ছিল তুমুল উচ্ছ্বাসে। সেই আনন্দে তাল মেলাল হাতিরঝিলের পানি। কিছুক্ষণ পরপরই লেকের পানিতেও চলতে থাকে রঙের নাচন। আকাশে আলোর ঝলকানি, নিচে পানিতে তার প্রতিফলন। হাতিরঝিলের সৌন্দর্য অন্য রূপ ধারণ করে। এই আলোক উৎসব চলাকালে হাজার মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে হাতিরঝিল।

মহাকাশে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর সফল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশে আনন্দ-উৎসব উদ্যাপন করে সরকার। একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় এই উদ্যাপন হয়। একই সঙ্গে রাজধানীতে পৃথক দুটি স্থানে বড় আয়োজনে উদ্যাপন করা হয় এই উৎসব। সবচেয়ে বড় আয়োজনটি ছিল হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটার প্রাঙ্গণে। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল আতশবাজি ও ফানুস উৎসব। উৎসবে আতশবাজি ছাড়াও ছিল সংগীতায়োজন। গানের তালে তালে আকাশে ফেটে পড়ে আতশবাজি। পানিতে নেচে ওঠে আলোর ফোয়ারা। সব মিলিয়ে এক ঘণ্টার এ উৎসব প্রাণভরে উপভোগ করে অসংখ্য মানুষ।

আলোর উৎসব উপলক্ষে হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাতে আতশবাজি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এ সময় তিনি বলেন, ‘মহাকাশে সফলভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণই প্রমাণ করে বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতির পিতার সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে পূরণ হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তারই প্রমাণ মহাকাশের বুকে লাল-সবুজের পতাকার উৎক্ষেপণ।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের একদিন কৃত্রিম উপগ্রহ হবে। জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

উৎসবের শুরুতে বাংলাদেশের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। তাতে স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পর্যন্ত নানা মাইলফলক তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণ নিয়ে দুটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় স্যাটেলাইটের নানা কারিগরি দিক।

তার আগে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো দেশের জন্য গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়ে বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ দেশের স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১। তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মহাকাশে পাঠানো এই কৃত্রিম উপগ্রহ কাজ শুরু করলে বিদেশি স্যাটেলাইটনির্ভরতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতি হবে।

 

 



মন্তব্য