চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ইয়াবা কারবারি নুরুল ইসলাম ইরান (৪৫)। এর জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইরানকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। সেই সঙ্গে তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে ও বেশ কিছু আস্তানা ভেঙে দিয়েছে গ্রামবাসী।
শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে ও একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ইয়াবা কারবারি ইরানের কিছু ইয়াবা তার এক ব্যাবসায়িক পার্টনার হারিয়ে ফেলে। ইয়াবাগুলো কোথায় আছে ইরান জানতে চাইলে ওই পার্টনার নিজে বাঁচতে স্থানীয় কিশোর নাঈম (১৫) ও এমরানের (২০) কাছে আছে বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইরান সেই রাতেই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কিশোর নাঈম ও এমরানকে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। নাঈমকে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চামড়া তুলে, নখ তুলে আঘাত করে আধমরা অবস্থায় তার বাড়ির সামনে ফেলে যায়। একই সময় এমরানকে মারতে থাকলে তার বাড়ির লোকজন ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
তারপর নাঈম ও এমরান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শুক্রবার বিকেলে নাঈম মারা যায়। সে দক্ষিণ ভাটেরখীলের বাসিন্দা মো. খোকনের ছেলে।
নাঈমের মৃত্যুর খবরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শনিবার এ ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিকেলে নাইমের জানাজা ও দাফন হয়। জানাজার সময় মাইকে গ্রামবাসী ঘোষণা করে, এ রকম অত্যাচার তারা মেনে নেবে না। এতে পাল্টা হুমকি হিসেবে ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে এলাকাবাসী আরো ক্ষিপ্ত হয়। তারপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে লাশ দাফনের পর চার গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে ইরানকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। শনিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ইরানের ২৫ থেকে ৩০টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে তার ঘরবাড়িও জ্বালিয়ে দেয় এলাকাবাসী।
নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক জানান, ইরান শক্ত মোটা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারতে মারতে নাইমের নখ, চামড়া তুলে নেয়।
আহত এমরানের মা হাসিনা বেগম জানান, ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ইরানের হাত থেকে তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করে চমেকে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরে আহত এমরান।
গতকাল দুপুরে দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে গেলে এলাকাবাসী ইরানের নানা কুকীর্তির কথা জানায়। তারা জানায়, এই ইরান গত ৯ এপ্রিল শামীম (৪০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকেও পূর্বশত্রুতার জেরে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে। তার ইয়াবার কারবার নিয়ে কেউ কথা বললেই তাকে ছুরিকাঘাত করত। এভাবে অন্তত ১২ থেকে ১৩ জন তার ছুরিকাঘাতে আহত হন।
সাহাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, তাঁর ছেলে জয়নালকেও ছুরিকাঘাত করেছে ইরান। একটি বিশাল মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে সে। তার অত্যাচারে অন্তত ১৫টি পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সর্বশেষ দুটি নিষ্পাপ ছেলে নাঈম ও এমরানকে তুলে নিয়ে একজনকে খুনের পরও তার দম্ভ কমেনি। জানাজার সময় সে ফাঁকা গুলি চালায়। এতে গ্রামবাসী তাকে খুঁজে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলে এবং তারা ঘোষণা দেয়, এই গ্রামে তার লাশ দাফন করতে দেওয়া হবে না। গতকাল রবিবারও এলাকার শত শত ছেলে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ইরানের সঙ্গীদের খুঁজছিল। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী ইরান কর্তৃক নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরপর নাঈমের জানাজা শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইরানকে হত্যা করে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া তার আস্তানাগুলোও ভেঙে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা ইয়াবা ব্যবসায়ী সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

