kalerkantho


কালের কণ্ঠ জীববিজ্ঞান উৎসব-২০১৭

বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকার প্রত্যয়

কালের কণ্ঠ আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব-২০১৭-এ উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামের দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘যুক্তরাজ্যে বাঘের গর্জন’ স্লোগান সামনে রেখে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ’র পাঠক সংগঠন শুভসংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘কালের কণ্ঠ জীববিজ্ঞান উৎসব ২০১৭’। বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অলিম্পিয়াডে গতকাল শুক্রবার ঢাকা উত্তর অংশে ঢাকার আশপাশের আটটি জেলার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এক ঘণ্টার পরীক্ষায় মোট এক হাজার ২৮৪ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়াম ও আশপাশের কয়েকটি ভবনের মোট ১৩টি কক্ষে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বের পর তিনটি ক্যাটাগরিতে ১২০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। উত্তীর্ণ প্রত্যেককে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, সংসদের উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোপালগঞ্জ) উপাচার্য ড. খন্দকার নাছিম উদ্দিন, কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ড. মনিরুল ইসলাম, উপদেষ্টা ড. জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ খ ম গোলাম সারওয়ার, কালের কণ্ঠ’র ইভেন্ট ও শুভসংঘ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন, সহসম্পাদক জাকারিয়া জামান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মশিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তারিক আহমেদ রুদ্র উপস্থিত ছিলেন।

কালের কণ্ঠ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড উপলক্ষে সকাল থেকেই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম ও আশপাশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের উপস্থিতি ঘটে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে সকাল ১০টায় এক হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থী ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা অংশ নেয়।

পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে সকাল পৌনে ১০টায় পরীক্ষার্থীদের হলগুলো পরিদর্শনে যান কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। তিনি বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন ও পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান।

এক ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় জীববিজ্ঞান উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে রাজধানী ও আশপাশ জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন। মিরপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসছুম প্রথমেই জানতে চায় কচুরিপানা যে গুণে পানিতে ভেসে থাকতে পারে, তা অন্য প্রাণীর মধ্যে দেওয়া হলে ভেসে থাকবে কি না? জবাবে বলা হয়, কচুরিপানার মধ্যে যে ‘অ্যারেনকাইমা’ থাকে তা অন্য প্রাণীর মধ্যে থাকলে ভেসে থাকবে। ’ দ্বিতীয় প্রশ্ন করে মাসরিয়া মানছুর এশা। সে জানতে চায় কৃত্রিমভাবে ডিএনএ তৈরি করা যায় কি না?

উত্তরে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই কৃত্রিম উপায়ে ডিএনএ তৈরি করা হয়েছে। ’ এভাবে চলতে থাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে জীববিজ্ঞানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। ভালো প্রশ্নকারীদের দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার।

অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জীববিজ্ঞান উৎসবে এসে অনেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখে খুবই ভালো লেগেছে। এখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। এ আয়োজন থেকে কেউ কেউ মূল উৎসবে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যাবে। উৎসবে অংশ নেওয়া সবার প্রতি কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইল। ’

ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১২ সালে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড শুরু হয়। এ কাজটি আমরা প্রথমে নিজ অর্থে শুরু করি। চিকিৎসা ও কৃষিবিজ্ঞানে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে। ’ ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, বিজ্ঞানের সব দিক নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করলে চলবে না, একই সঙ্গে কৃষিবিজ্ঞানকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

আয়োজকরা জানান, এ পর্বে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার ৭৫টি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এক হাজার ২৮৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে ১২০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে তিন ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আহসানুর রাজি। পরে অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে উপস্থিত অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন। এ পর্বের বিজয়ী প্রত্যেকে জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবে অংশ নিতে পারবে বলেও জানানো হয়।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জীববিজ্ঞান উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ আট জেলা অংশ নেবে।

উল্লেখ্য, শুভসংঘের দেড় শতাধিক সদস্য পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন।


মন্তব্য