kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লক্ষ বৃক্ষের স্বপ্নযাত্রা

দেবদাস মজুমদার, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ বৃক্ষের স্বপ্নযাত্রা

প্রকৃতি রুষ্ট হলে মানুষ বিপন্ন হবে। মানুষের জন্যই প্রাণ ও প্রকৃতিকে তুষ্ট করতে হবে।

সে জন্যই সবুজ বাঁচাই, সবুজে বাঁচি—এ বক্তব্য সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষায় সাত তরুণ স্বপ্ন দেখছেন লক্ষ বৃক্ষের। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁরা নেমেছেন বৃক্ষরোপণ অভিযানে।

উপকূলে এক লাখ ফলদ, ঔষধি ও শোভন ফুলের গাছ লাগানোর শুভ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক স্বপ্নযাত্রা শুরু হল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে। কলেজ ক্যাম্পাসকে গ্রিন ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করে গতকাল শনিবার ২১টি ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন এই তরুণরা।

মহান একুশের চেতনা ধারণ করেই ২১টি বৃক্ষের চারা রোপণ এই কলেজ প্রাঙ্গণে। এসব চারার মধ্যে একটি গাছের চারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আর সাতটি চারা সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর নামে উৎসর্গ করা হয়।

সাত উদ্যোক্তা তরুণের ‘সবুজ বাংলা’ নামের পরিবেশ উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে গাছের চারা রোপণের এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরিদ উদ্দিন। মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক মজনু গাছের চারা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা লুত্ফর রহমান সাকু, মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুস সালাম আজাদী, কলেজ শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোহসেনুল মান্না, মো. সগীর হোসেন প্রমুখ।

কলেজ ও উদ্যোক্তা সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার প্রবাসী ও মঠবাড়িয়ার সাত তরুণ মিলে উপকূলজুড়ে এক লাখ পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন। তাঁরা ‘সবুজ বাংলা’ নামের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন গড়ে তোলেন। এই সামাজিক উদ্যোগের লক্ষ্য গাছ লাগানোর জন্য সবাইকে সচেতন করা। এর পাশাপাশি আরো মানুষকে পরিবেশ সুরক্ষার কাজে উদ্যোগী করে তোলা।

সবুজ বাংলা উপকূলজুড়ে যে লাখ গাছ লাগাবে সেগুলোর মধ্যে আছে সফেদা, নিম, জলপাই, জাম, পেয়ারা, আম, আমলকী, জাম্বুরা, ডেউয়া, কামরাঙা, নৈল ও নারিকেল।

‘সবুজ বাংলা’র অন্যতম উদ্যোক্তা মো. রাসেল সবুজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে আমাদের উপকূলীয় পরিবেশ বিপন্ন। আমাদের প্রকৃতি সুরক্ষা করেই বাঁচতে হবে। আমাদের সবুজেই বেঁচে থাকতে হবে। আমাদের সম্মিলিত সচেতন উদ্যোগে উপকূলের সবুজ পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব। ’

রাসেল বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সংগঠন উপকূলের পরিবেশ সুরক্ষায় নানা কাজ করছে। কিন্তু ব্যক্তি মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমের উদ্যোগ ক্রমে মরে যাচ্ছে। অসচেতনতার কারণে উপকূলে নানা আগ্রাসী গাছের বংশবিস্তারও ঘটছে। পরিবেশবান্ধব অনেক গাছের প্রজাতি আর প্রাণ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। পাখির আবাসস্থল আর পাখির খাদ্যের অভাব।

এই তরুণ বলেন, ‘আমাদের পরিবেশবান্ধব গাছ আর প্রাণবৈচিত্র্য বাঁচানো জরুরি। সবাই মিলেই পরিবেশ বাঁচাতে হবে। ’ তিনি বলেন, এ লক্ষ্য নিয়ে উপকূলে আগ্রাসী নয়, পরিবেশবান্ধব ফলদ, ঔষধি আর নানা প্রজাতির শোভন ফুলের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি স্বপ্ন ও একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে তাঁরা বাস্তবায়ন করতে চান। জন্য তাঁরা একটি নার্সারিও করতে চান। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি করে নার্সারি স্থাপনেরও স্বপ্ন দেখেন তাঁরা।

মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক খান মজনু বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষায় উপকূলে এক লাখ গাছের চারা লাগানোর এমন মহতী উদ্যোগের খবর শুনে তরুণদের সাথে সংহতি জানাতে ছুটে এসেছি। আশার কথা, এ তরুণরাই সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনার দিকে আমাদের নিয়ে যেতে পারবে। এই পরিবেশ-উদ্যোগ অভাবনীয় ও প্রশংসনীয়। ’

মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষার এমন স্বপ্নের উদ্যোগটি আমার কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দ বোধ করছি। আমরা উদ্যোক্তা তরুণদের এমন শুভ কাজকে স্বাগত জানাই। ’

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরিদ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক লাখ ফলদ, ঔষধি আর বর্ণিল ফুলের চারা রোপণের স্বপ্নটা আমাকে উত্ফুল্ল করে তুলেছে। তরুণদের এমন শুভ স্বপ্ন তো বিস্ময়কর। এটা আমাকে আশাবাদী করেছে। এমন কাজে আমি নিজেকেও সম্পৃক্ত করেছি। ’ সবাইকে এমন উদ্যোগে শামিল হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।


মন্তব্য