kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উদ্যোগ

গাছ, শিক্ষার্থী এবং ইউএনও

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাছ, শিক্ষার্থী এবং ইউএনও

ফাতেমানগর পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে চারা গাছ হাতে ইউএনও ও শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সবুজ মন। সুন্দর পৃথিবী।

কল্যাণকর কাজের শক্তি অনেক। কত আর বেশি লাগে, ভেতরে তো বারুদ থাকেই। আর আমাদের স্কুল শিক্ষার্থীরা কত সবুজ, কত উদ্যমী। তাদের প্রেরণা দিলে, শুভ-সমৃদ্ধির সমাজ ফেরত দেবে তারা। ত্রিশালের ফাতেমানগর পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়। গাছের চারা হাতে দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। ভরা স্কুল মাঠে যেন সবুজের উৎসব। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে গাছের চারা। যেন অন্তরালে অপেক্ষা করছে সুন্দর মন, অনন্য বাংলাদেশ।

হ্যাঁ, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সবুজ মন জাগাতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন। তিনি স্কুলে স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন গাছের চারা। শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ-উদ্দীপনায় সেই চারা খোলা জায়গায়, আঙিনায় রোপণ করছে। শুধু এতেই শেষ নয়, গাছ রোপণের ব্যাপারে রাখা হচ্ছে খোঁজখবর। গাছ রক্ষা করার জন্য শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে ধারণা।

ইউএনও আবু জাফর রিপন উপজেলার ২৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত দিয়ে সাড়ে তিন লাখ গাছের চারা রোপণের টার্গেট নিয়েছেন। ইতিমধ্যে এক লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি গাছের চারা রোপণ করা হবে বলে গতকাল জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের ফাঁকা জায়গায় চলছে বাগান তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে কোর্ট ভবন চত্বরে আম বাগান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সামনের জায়গায় নারিকেল বাগান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কয়েক মাস ধরে পুরো উপজেলায় এই বৃক্ষরোপণকে ঘিরে চলছে আনন্দ-উদ্দীপনা।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ত্রিশালের বর্তমান ইউএনও আবু জাফর রিপন গত ১২ এপ্রিল কাজে যোগ দেন। প্রায় মাসখানেক সময় পর এলাকায় গাছ রোপণের ইচ্ছার কথা জানান স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে। বিশেষ করে গাছ রোপণের বিষয়টিকে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেছে নেন। এ চিন্তা থেকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর থেকে স্কুলে স্কুলে গিয়ে ক্ষাির্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন। চারা বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত করেন তিনি।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানে নিজে অনুষ্ঠান করেছেন। অন্যগুলোতে প্রতিনিধি পাঠিয়ে চারা বিতরণ করেন নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন। ব্যক্তিগত, শুভানুধ্যায়ী, স্কুলের তহবিল ও উপজেলা পরিষদের টাকা দিয়েই এসব গাছের চারা সংগ্রহ করছেন তিনি।

জানা যায়, সর্বপ্রথম গাছের চারা বিতরণ করা হয় উপজেলার পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্কুলে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃক্ষরোপণ শেষ হবে। উপজেলা পরিষদ এলাকায় মোট ১০টি বাগান করা হবে। এর মধ্যে দুটি আম বাগান, একটি নারিকেল ও একটি পেয়ারার বাগানের কাজ শেষ হয়েছে।

নজরুল সেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাবিব আনোয়ার বলে, ‘আমি গাছ নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় রোপণ করেছি। এ ছাড়া স্কুলেও চারা রোপণ করেছি। ’ পোড়াবাড়ী স্কুলের শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলে, ‘আমাদের স্কুলের মাঠ ছিল ফাঁকা। এখন সেখানে গাছের চারা রোপণ হয়েছে। দেখতেও ভালো লাগে। ’ ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুত্ফুন্নেছা বিউটি বলেন, ‘ত্রিশালে যেভাবে বৃক্ষরোপণ হয়েছে, সারা দেশে এভাবে বৃক্ষরোপণ হলে দেশে সবুজ বিপ্লব ঘটে যেত। ’  তিনি আরো বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের জন্য ত্রিশালবাসী বর্তমান ইউএনওকে সারা জীবন মনে রাখবেন। ’ 

ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে এ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে বৃক্ষপ্রেমী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব গ্রিন হাউস ইফেক্টের কারণে হুমকির মুখে। এর থেকে উত্তোরণের উপায় বৃক্ষরোপণ। এ ছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিজেরা চারা রোপণ করে পরিচর্যা করলে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম আর মমত্ববোধ জাগ্রত হওয়ার হবে। এ অবস্থায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার জন্যই গাছ লাগানোর বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সবুজ বনায়নের ওপর আমাদের প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার স্যার ও জেলা প্রশাসক স্যারের অনুপ্রেরণায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করি। অফিশিয়াল দায়িত্বের পাশাপাশি এ কাজগুলো আমি নিজে তদারকি করে সবুজ ত্রিশাল গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ’


মন্তব্য