kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বধ্যভূমিতে কাঁদছে স্মৃতিস্তম্ভ

আবুল কাশেম ও আরিফুর রহমান   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেসব স্থান বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল সেই সব স্থানে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলো ভেঙে পড়ছে অবহেলায়। দলীয় লোকদের ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নির্মিত এসব স্মৃতিসৌধের বেশির ভাগই অকেজো হয়ে পড়ছে।

সীমানা প্রাচীর খুলে নিয়ে গেছে নেশাখোররা। মাদকসেবীদের আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হওয়া এসব বধ্যভূমিতে ভয়ে সন্তানদের যেতে দেন না মা-বাবারা। কিশোরগঞ্জে বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধে ল্যাট্রিনের সংযোগ থাকায় মানুষের মল-মূত্র ভেসে আসছে। বগুড়ায় বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভটি এখন রিকশা আর টেম্পোর গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে অনিয়মের কারণে কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে এসব বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সারা দেশে চিহ্নিত ১৯৩টি বধ্যভূমি থেকে ৩৫টি নির্বাচন করে তাতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বাস্তবায়ন করে সরকার। এ প্রকল্পের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এই ৩৫টি বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভের মধ্য থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১২টিতে সমীক্ষা চালিয়েছে আইএমইডি। তাদের প্রতিবেদনে স্মৃতিস্তম্ভগুলো নির্মাণের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিশদ বর্ণনা রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিদেশে থাকায় এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইএমইডি সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আইএমইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৩৫টি স্মৃতিস্তম্ভের হালনাগাদ অবস্থা জানার জন্য আইএমইডিকে সমীক্ষা চালাতে অনুরোধ করেছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের শুরুতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সমীক্ষার কাজ শুরু করে আইএমইডি। সমীক্ষা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার আহসান হোসেন, পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আল মামুন, সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান। আর ব্যক্তি পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। চলতি মাসের শুরুতে সমীক্ষা শেষে প্রতিবেদন তৈরি করে আইএমইডি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে বধ্যভূমির উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা হয়নি। স্মৃতিস্তম্ভগুলো বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি ধরা পড়েছে। অনেক স্মৃতিস্তম্ভ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আর নির্মাণকাজ শেষে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কোনোরকমে নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে বেশির ভাগ স্মৃতিস্তম্ভ থেকে খসে পড়ছে টাইলস।

প্রকল্প অনুযায়ী, সব জায়গায় ৩৫ ফুট উচ্চতার মূল স্তম্ভ নির্মাণ করার কথা থাকলেও মিরপুর জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়া বাকিগুলোতে তা হয়নি। প্রতিটি ক্ষেত্রে পাঁচ ফুট উচ্চতার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কথা থাকলেও ১২টিতে সমীক্ষা চালিয়ে একটিতেও তা পাওয়া যায়নি। সব স্মৃতিস্তম্ভে পতাকা রাখার বেদি নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রবেশপথ, অভিবাদন গ্রহণের স্থানও সঠিকভাবে নির্মিত হয়নি। স্মৃতিস্তম্ভগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য সফল হয়নি উল্লেখ করে আইএমইডি বলেছে, বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ফলে ওই সব এলাকার তরুণ, যুবসমাজ ও আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আশাব্যঞ্জকভাবে উজ্জীবিত হয়নি।

আইএমইডি বলেছে, এসব স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে বধ্যভূমির উপযুক্ত স্থান নির্বাচন না করা, দলীয় ঠিকাদার নির্বাচন, নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান নিশ্চিত না করা, প্রকল্প কাজের পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারি না করা, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত না করা, প্রকল্পের ত্রুটিপূর্ণ নকশা প্রণয়ন, স্মৃতিস্তম্ভগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় এসব বধ্যভূমিতে যেতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে কোনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। তা ছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বধ্যভূমির এসব স্মৃতিসৌধে যে যাবে, সে জন্য প্রকল্প অঞ্চলকে পর্যটন খাতের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়নি।

স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রভাব মূল্যায়ন করে আইএমইডি বলেছে, ‘যে উদ্দেশ্যে এসব স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, তা সফল হয়নি। স্মৃতিস্তম্ভ এলাকার বেশির ভাগ মানুষই মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবস, ওই এলাকায় অবস্থিত বধ্যভূমি বা স্মৃতিস্তম্ভ বিষয়ে তেমন কিছুই জানে না। তাই এসব স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো কোনো সামাজিক প্রভাব আইএমইডির মূল্যায়ন সমীক্ষায় উঠে আসেনি। ’

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বধ্যভূমিগুলো অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় আছে। বেশির ভাগ বধ্যভূমিতে কোনো নামফলক নেই। নেই কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সীমানা প্রাচীর। স্মৃতিস্তম্ভগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর এবং অনেকটা পরিত্যক্ত স্থানের মতো পড়ে আছে। বেশির ভাগ বধ্যভূমিতে সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। কিশোরগঞ্জে অবস্থিত বধ্যভূমিতে ল্যাট্রিনের স্যুয়ারেজ লাইন সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ এলাকাটি রিকশা ও টেম্পোর গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় অধিবাসীরা বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলোর ব্যাপারে নির্বিকার। শুধু দু-একটি স্থানে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা হয়।

মিরপুর জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ মূল্যায়ন করে আইএমইডি বলেছে, ৩৫ ফুট উচ্চতার মূল স্তম্ভে ১০টি বিচ্যুতি রয়েছে। চারপাশের দেয়ালে রয়েছে আরো ১০টি বিচ্যুতি। বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে পতাকা রাখার স্থানে পাঁচটি ও কেন্দ্রীয় চত্বরে ১১টি বিচ্যুতি ধরা পড়েছে। মূল প্রবেশ পথে ত্রুটি রয়েছে ১২টি। প্রকল্পের জমির পরিমাণ একেক জায়গায় একেক রকম বলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি গ্রামে বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির কোনো প্রতিষ্ঠা সাল জানা সম্ভব হয়নি আইএমইডি কর্মকর্তাদের পক্ষে। এ স্মৃতিস্তম্ভের কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। এর মিনারও নির্মাণ করা হয়নি। স্মৃতিস্তম্ভটির অবস্থা ভালো নয়। অযত্ন, অবহেলা ও নোংরা অবস্থায় পর্যবসিত এটি। এ বধ্যভূমিতে আসা-যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই। শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে অবস্থিত বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভটির অবস্থাও ভালো নয়। সেখানে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই।

কিশোরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিন আইএমইডিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এটি নির্মাণ করার চেয়ে না করাই ভালো ছিল। এটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নোংরা, ভাঙা, মল-মূত্র ও টয়লেটের ট্যাংকি থেকে অবিরত নোংরা পানি চুইয়ে পড়ছে। যারা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার শিকার হয়েছিল, আজ তাদের এভাবেই সম্মান জানানো হচ্ছে! এটি অত্যন্ত দুঃখের। ’ 

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের বর্তমান অবস্থান ‘খুব খারাপ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে আইএমইডির প্রতিবেদনে। এই স্মৃতিস্তম্ভে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই, যাতায়াতের রাস্তাও কাঁচা। নেই কোনো বিশ্রামাগার ও নিরাপত্তাকর্মী। আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বধ্যভূমির তেমন কোনো কাজ করা হয়নি। নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী হয়নি। স্থানীয় লোকেরা এটি নিজেদের মতো করে নির্মাণ করেছে। স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে এটি তেমন কোনো মূল্যায়ন পায়নি। নির্ধারিত নকশার কোনো কিছুই এখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নাটোর সদর উপজেলার ফুলবাগান বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আইএমইডি বলেছে, স্মৃতিস্তম্ভটি মোট ১২ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি দেখতে সুন্দর হলেও অবকাঠামোগতভাবে বেশ দুর্বল। শহরে প্রধান সড়কের পাশেই নির্মিত হওয়ায় এটি সহজে চোখে পড়ার মতো। তবে এটি নির্মাণে ভালোমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি।

আইএমইডির প্রতিবেদন মতে, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে ভালোমানের কংক্রিট ব্যবহার করা হয়নি। স্মৃতিস্তম্ভটি টাইলস দ্বারা নির্মিত। কিন্তু ম্যাসোনারি কাজ ভালো করা হয়নি। টাইলসগুলো মিনারের স্তম্ভ থেকে খুলে পড়ছে। এটি নির্মাণে ভালো মানের ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। স্থানীয়দের কাছ থেকে দরপত্রে অনেক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্মৃতিস্তম্ভের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। কুমিল্লা শহরের রসুলপুর বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের অবস্থাও একই রকম। এ স্মৃতিস্তম্ভটির টাইলস ভেঙে পড়ছে। সীমানা প্রাচীরও ভেঙে পড়ে আছে। যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া রায়পাড়ায় বধ্যভূমির ৫.৫ শতাংশ জমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি ‘নামে মাত্র স্মৃতিস্তম্ভ’। ওই বধ্যভূমির জায়গা খুবই সংকীর্ণ। নকশা অনুযায়ী স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে ওঠেনি। স্মৃতিস্তম্ভে কোনো পতাকা বেদিও স্থাপন করা হয়নি। নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে অবকাঠামোগত কোনো কাজ হয়নি বললেই চলে। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীর বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেও ভালো মানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। এখনো এর সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ বাকি। তবে এর মূল স্তম্ভের নিচের দিক দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ স্তম্ভের অবস্থা খুবই নাজুক। স্তম্ভটির দেয়াল ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে। এ বধ্যভূমিতে কোনো ফলক নেই। এখানে নেশাখোরদের আনাগোনা বেশি। অনেক অভিভাবক সন্তানদের এ স্মৃতিসৌধে যেতে দেন না। স্মৃতিস্তম্ভের চারদিকে নিরাপত্তা গ্রিল দেওয়া হয়েছিল, তবে নেশাখোররা তা খুলে নিয়ে গেছে। বগুড়া শহরের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভের মিনার জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। বধ্যভূমির চারপাশের পরিবেশও খুব খারাপ। স্মৃতিস্তম্ভের মিনার টাইলস দ্বারা নির্মিত হলেও সেই টাইলসও খসে পড়ছে। এখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। বধ্যভূমিতে রিকশা ও টেম্পোর গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। বরিশাল সদর উপজেলার বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। খুবই নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে কোনো রকমে তা নির্মাণ করা হয়েছে। টাইলস দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হলেও টাইলসগুলো এখন খুলে পড়ছে। এ বধ্যভূমির দরপত্রে অনেক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর বর্তমান অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের মিনারটি টাইলস দ্বারা বেষ্টিত। কিন্তু বধ্যভূমির অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় টাইলস খুলে পড়ছে। ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্ট নিম্নমানের হওয়ায় অবকাঠামোর ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখানে কংক্রিটও খুলে পড়ে গেছে।

স্মৃতিস্তম্ভগুলো সুরক্ষায় বেশ কিছু সুপারিশ করে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পটিকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন, সুধীসমাজের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলোর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার, জাদুঘর, মুক্তমঞ্চ, মিলনায়তন তৈরি করে বধ্যভূমিগুলোকে একটি ‘মুক্তিযুদ্ধ চর্চাকেন্দ্র’ হিসেবে রূপান্তর করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র বা পিকনিক স্পটসহ দর্শনীয় স্থাপনা গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভে অন্তত একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। স্থাপনাগুলোতে নামফলক বসানো ও নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে ‘বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করে শহীদদের পরিবারকে ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত করা যেতে পারে।


মন্তব্য