kalerkantho


আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড

চার খুদে বিজ্ঞানী যাচ্ছে ভিয়েতনাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চার খুদে বিজ্ঞানী যাচ্ছে ভিয়েতনাম

আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে নির্বাচিত চার খুদে বিজ্ঞানী—আইমান ওয়াদুদ, ওয়াসিক হাসান, মাইশা এম প্রমি ও ওয়াসি রহমান চৌধুরি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো এ বছর আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হলো চার খুদে বিজ্ঞানী। গতকাল রবিবার বিকেলে আশুলিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি মিলনায়তনে দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্পে যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়।

নির্বাচিত চার শিক্ষার্থী হলো সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আইমান ওয়াদুদ, মাস্টারমাইন্ডের ওয়াসিক হাসান, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মাইশা এম প্রমি এবং স্কলাস্টিকার ওয়াসি রহমান চৌধুরি।

আশুলিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠানে গত ১১ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্প-২০১৬। এ ক্যাম্পের আয়োজন করে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি। গতকাল ছিল ক্যাম্পের সমাপনী দিবস এবং বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল।

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির চেয়ারম্যান ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহিদুর রশীদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য  দেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. মো. সলিমুল্লাহ, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, বিজ্ঞানী ড.  জাহাঙ্গীর আলম ও কেশব চন্দ্র দাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা কামাল দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই ক্যাম্পে যারা এসেছে তারা স্বপ্ন দেখে। এদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ একদিন নোবেল প্রাইজ পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বড় স্বপ্ন দেখতে হবে।

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পে যারা এসেছে তারা কিছু শেখার জন্য বা বড় একটি আগ্রহ নিয়ে এসেছে। এটাই বিশাল, এরা অনেক দূর যাবে। বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরা টিকে যাবে। ’ তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের কাজ নিজে করার মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. মো. শাহিদুর রশীদ ভূইয়া বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে জীববিজ্ঞানে। অন্যগুলো ধার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কার সর্বত্রই জীববিজ্ঞানের সাফল্য। তিনি শিক্ষার্থীদের এই পথ চলার জন্য এবং জীববিজ্ঞানকে ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পূর্ণ সদস্য দেশ ৬১টি। আর প্রাথমিক সদস্যপদ পাওয়া চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ গত বছর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিটি জাতীয় দল থেকে চারজন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে।

ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে দ্বিতীয় জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওই উৎসবে ৪৭টি জেলা থেকে এক হাজার ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অষ্টম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ উৎসবে অংশ নেয়। এদের মধ্য থেকে ৬০ জনকে নির্বাচিত করা হয় দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য। তাদের মধ্য থেকে ৪১ জন তিন দিনের এই বায়োক্যাম্পে অংশ নেয়। এই ৪১ জনের মধ্যে ২৩ জন ছেলে ও ১৮ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। এই ক্যাম্প থেকেই এবার চার শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে।

দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্পের মিডিয়া পার্টনার হচ্ছে কালের কণ্ঠ এবং অনলাইন পার্টনার বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম।


মন্তব্য