kalerkantho


পাখি

শিকারি \'তুরমতি বাজ\'

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, শ্রীমঙ্গল    

২৩ আগস্ট, ২০১৪ ০০:০০



শিকারি \'তুরমতি বাজ\'

আকাশে ডানা মেলে শিকারের দিকে ধেয়ে চলেছে পাখিটি। ছবি : আবু বকর সিদ্দিক

ধারালো ঠোঁট আর তীক্ষ্ণ নখের অধিকারী সে। এই ঠোঁট অন্য পাখিদের মতো খোলা প্রান্তর থেকে শস্যদানা খুঁটে খাওয়ার জন্য নয়। ছোট ছোট প্রাণীর শরীর থেকে মাংস ছিঁড়ে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এদের ঠোঁট। কাঙ্ক্ষিত শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পায়ের সুতীক্ষ্ণ নখ বিঁধিয়ে ছুরির মতো ঠোঁট দিয়ে শিকারের শরীরের মাংস টেনে টেনে খেতে এরা ভীষণ পটু।
পাখিটির ইংরেজি নাম Red-necked Falcon বা Red-headed Falcon। আবার Red-headed Merlin নামেও ডাকা হয়। বৈজ্ঞানিক নাম Falco chicquera। তবে বাংলা নামে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই পাখিকে ‘লাল ঘাড় শাহিন’ হিসেবে নামকরণ করলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এটি ‘তুরমতি বাজ’ নামে অধিক পরিচিত।
বাজ ও শিকারি পাখি গবেষক মোহাম্মদ ফয়সাল কালের কণ্ঠকে এ বিষয়ে বলেন, “ফ্যালকন নামের এই পাখিটি বাজ বা শাহিন নামে পরিচিত। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এটি ‘বাজপাখি’ হিসেবে অধিক পরিচিত। সে হিসেবে এর নাম ‘তুরমতি বাজ’। তবে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব পাখিটিকে ‘লাল ঘাড় শাহিন’ নামকরণ করেছে। শাহিন শব্দটি আসলে উর্দু ও ফার্সি ভাষায় প্রচলিত। আমাদের দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে যে নামটি প্রচলিত নয় সেই নাম ব্যবহার করার চেয়ে আমাদের দেশে শত শত বছর ধরে প্রচলিত নামটিই ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি। বাজপাখি হিসেবে সবাই আসলে ফ্যালকন পাখিগুলোই চেনে।”
মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘তুরমতি বাজ দুর্লভ প্রজাতির পাখি। সারা দেশেই এদের খুব কম সংখ্যায় পাওয়া যায়। ২০০৬ সাল থেকে পাখিটির ওপর গবেষণা করছি। এরা আমাদের আবাসিক পাখি। তবে এরা বনের পাখি নয়। এটির দৈর্ঘ্য গড়ে ৩৪ সেন্টিমিটার। খুলনা বিভাগ ছাড়া দেশের সব বিভাগেই এই পাখির বিচরণের রেকর্ড রয়েছে।’ তিনি বলেন, বেশির ভাগ শিকারি পাখির একটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- স্ত্রী পাখি কিছুটা বড় হয় পুরুষ পাখির চেয়ে। ডিসেম্বর থেকে জুন ওদের প্রজনন মৌসুম। ফ্যালকন পাখিগুলো নিজেরা বাসা তৈরি করে না। কাক বা অন্য প্রজাতির পাখিদের পরিত্যক্ত বাসা দখল করে ওরা ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটায়।
পাখিটির বিচরণ সম্পর্কে মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘তুরমতি বাজের মূল বিচরণ এশিয়া অঞ্চলে। আমাদের দেশে প্রায় দশ প্রজাতির ফ্যালকন বা বাজপাখির বিচরণ রয়েছে। এদের কিছু পরিযায়ী এবং কিছু স্থায়ী আবাসিক পাখি। এরা লোকালয়, পতিত জমি, ধানক্ষেতসহ খোলা প্রান্তরে ঘুরে বেড়ায়। শিকারি পাখি বড় বড় গাছ, বড় বড় স্থাপনা বা বিদ্যুতের বড় খুঁটির ওপর বসে চারদিকে খেয়াল করে। গাছের উঁচু ডাল কিংবা বিদ্যুতের তারে বসে শিকার খুঁজতে থাকে। সাধারণত ওরা আকাশে উড়ন্ত অবস্থায়ই শিকার ধরে। মূলত চড়ুই, খঞ্জনসহ ছোট ছোট পাখি ধরে খায়। এ ছাড়া বাদুড়, চামচিকা, ইঁদুর প্রভৃতি প্রাণীও ওদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে। ওদের কর্মচঞ্চলতা খুব বেশি থাকে ভোরে এবং সন্ধ্যার ঠিক আগে।’


মন্তব্য