kalerkantho


এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

আমার অর্থ অর্জন সম্মান সব কিছুর মূলে ফুটবল

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে বললেন একটা হৃদয়ছোঁয়া কথা, 'সা   

১৫ মে, ২০১৫ ০০:০০



আমার অর্থ অর্জন সম্মান সব কিছুর মূলে ফুটবল

ছবি : মীর ফরিদ

প্রশ্ন : সেই খুলনা থেকে আপনার ফুটবলার হওয়ার গল্পটা যদি শুরু করতেন।

আব্দুস সালাম মুর্শেদী : একটা ব্যাপার হয়তো অনেকেই জানে না, খুলনার এক ক্রীড়া পরিবারে আমার জন্ম। বাবা অ্যাথলেট ছিলেন। আর পেশায় শিক্ষক, প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপারিটেনডেন্ট। বড় ভাই জামাল উদ্দিন হায়দার খুব ভালো ভলিবল খেলতেন। পূর্ব পাকিস্তান দলে খেলতেন। মেজ ভাইও খেলাধুলায় খুব ভালো ছিলেন, সব কিছু খেলতেন। সে জন্যই বোধ হয় নির্দিষ্ট কিছু হয়ে ওঠা হয়নি তাঁর, ব্যবসা-বাণিজ্যেও সফল হতে পারেননি। তবে লম্বা-চউড়া-ফরসা- দেখতে দারুণ সুপুরুষ। সেজ ভাই আজাদ আবুল কালাম ভারোত্তোলনে অনেকবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন, বডি বিল্ডিংয়ে তো বটেই। অনেক বছর 'মিস্টার বাংলাদেশ' ছিলেন। তাঁর স্ত্রী শাহীন আজাদও ডিসকাস থ্রোতে চ্যাম্পিয়ন। এ রকম পরিবারের ছোট ছেলে হয়ে আমার পক্ষে খেলাধুলাবর্জিত থাকা কঠিন। আমার সৌভাগ্য যে আমি ফুটবলার হয়েছি।

প্রশ্ন : সৌভাগ্য কেন বলছেন?

সালাম : চার ভাই দুই বোনের মধ্যে একমাত্র আমিই ফুটবলার হয়েছি। আমি কিন্তু ১০০ মিটার স্প্রিন্টও করতাম। শেষ পর্যন্ত অ্যাথলেটিকসের দিকে না গিয়ে ফুটবলার হয়েছি। কী খেলেছি জানি না, তবে ফুটবলার না হলে আজ এ জায়গায় পৌঁছতে পারতাম কিনা সন্দেহ। সত্যি বলছি, সেই টানাপড়েনের সময়ে দাঁড়িয়ে আজকের এই বৈভব-সম্মানের জীবন কল্পনাও করতে পারিনি।

প্রশ্ন : বলা হয়, টিনের স্যুটকেস নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন ১৯৭৭ সালে।

সালাম : সেটা মিথ্যা নয়। অনেকে হয়তো হাসবেন, টিনের স্যুটকেস নিয়েই আমি গুলিস্তানে নেমেছিলাম। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, মফস্বলের এক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানের এর চেয়ে ভালো ব্যাগ ছিল না। এসেছি আজাদ স্পোর্টিংয়ে খেলার প্রস্তাব পেয়ে। তবে ক্লাবে আমার 'এন্ট্রি নেওয়ার' ঘটনাটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, ঢাকা আমার কাছে একেবারে অপরিচিত, তারপর অজানা ক্লাব কালচার। ক্লাবে ঢোকার মুখে কচি ভাই (ক্রিকেটার পাইলটের চাচা) কেমন আছি জিজ্ঞেস করলেন। পরক্ষণেই চেয়ারে বসা আরেকজন আমার দিকে উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে বললেন, 'কী বে হালায়, নয়া মাল দেহি, কোত্তে আইছে। ভালাই তো লাগে।' তিনি আমার সম্পর্কে এ রকম বললেন কেন। এই ভাষার সঙ্গে আমি পরিচিত নই, ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : নতুন পরিবেশে ঢোকার মুখেই ধাক্কা!

সালাম : একদম সে রকম। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ আছে, মাঠে খেলে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ আছে। যা-ই হোক, এর মধ্যেও প্র্যাকটিস করে যাচ্ছি। কয়েক দিন বাদে আজাদের হয়ে আমার প্রথম ম্যাচ শক্তিশালী রহমতগঞ্জের বিপক্ষে। আজাদের অবস্থা খারাপ, পয়েন্ট হারিয়ে রেলিগেশনের দোরগোড়ায়, অথচ ফেডারেশনে বেশির ভাগই আজাদের কর্মকর্তা। ঢাকা মাঠে আমার প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষের কাউকে চিনি না, শুধু জানি খুব ভালো দল রহমতগঞ্জ। কচি ভাই বললেন, ডান-বাঁয়ে তাকাবে না, নিজের খেলা খেলে যাও। সৌভাগ্য, গোল করে দিলাম আমি এবং রহমতগঞ্জের সঙ্গে ড্র করেছে আজাদ। পরে বুঝেছি গোলের বিড়ম্বনা। এমন মেরেছে, দুই দিন পায়ে সেঁক দিতে হয়েছে। ইউসুফ ভাই, সাহাব উদ্দিন, তালেব আলী- সবাই কঠিন ডিফেন্ডার। মারের সঙ্গে মালা ভাইয়ের গালি, গোল দেওয়ার পর একপর্যায়ে আমার চোখে-মুখে একদলা থুতু মেরেছিলেন তিনি। বাইরে থেকে নতুন আসা কোনো ফুটবলারের জন্য এমন কঠিন জায়গা ছিল ঢাকা।

প্রশ্ন : ভাষা, পরিবেশ, মাঠের লড়াই- সব মিলিয়ে বাইরে থেকে আসা ফুটবলারের জন্য কঠিন পরীক্ষা। প্রথম ম্যাচে গোল পেয়ে যাওয়ায় আপনার জন্য তো সহজ হয়ে গিয়েছিল?

সালাম : কিসের সহজ, এক ম্যাচ দিয়ে কি আর কাউকে চেনা যায়? টিকে থাকতে হলে টানা কয়েক ম্যাচ পারফর্ম করতে হবে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের পর আমি আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেলাম। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে সাধারণ বীমা দুর্দান্ত দল তখন। তার বিপক্ষে আমার দ্বিতীয় ম্যাচ এবং দুই গোল করলাম। মনে হলো, ওই ম্যাচ থেকে আমি সালাম মুর্শেদী হয়ে গেলাম। এর পর থেকে সবাই আমাকে একটু আলাদা চোখে দেখতে শুরু করে এবং মার্কিংয়ে পড়ে গেলাম। মার্কিং মানেই মারধর (হাসি)। বিশেষ করে মোহামেডান, আবাহনীর বিপক্ষে আপনাকে মেরে মাঠের বাইরে ফেলে দিলেও রেফারির ফাউলের বাঁশি বাজানোর সাধ্য নেই। ঢাকা মাঠে তখন বড় দলগুলো রেফারির বাঁশির অ্যাডভান্টেজ পেত। তবে আমার লড়াই তো অন্য- ঢাকায় টিকে থাকা, তাই ওই মার্কারকে প্রচণ্ড গতিতে পেছনে ফেলে ছুটতাম গোলের দিকে।

প্রশ্ন : ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্প পরে; তার আগে বলুন খুলনায় ফুটবলের শুরুটা কিভাবে?

সালাম : '৭৪ সালে ইয়ং মুসলিম ক্লাবে খেলি। তারপর মুসলিম ক্লাবের (এখনকার খুলনা মোহামেডান) হয়ে স্থানীয় লিগ খেলেছি। জেলা দলেও খেলেছি। খেলা যা-ই খেলি, পত্রিকা পড়ে বড় স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। কাজী সালাউদ্দিন, নান্নু-মঞ্জু, এনায়েত ভাইদের খেলার নিউজ পড়তাম পত্রিকায়। ফুটবলের এসব বিখ্যাত তারকার খেলার খবর ছাপা হতো; সেসব পড়ে নিজের মনে এক ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়- ঢাকায় খেলতে হবে, বড় হতে হবে।

প্রশ্ন : একটু পেছনে যাই। ঢাকার সঙ্গে সংযোগসেতুটা কিভাবে তৈরি হয়?

সালাম : '৭৬ সালে খুলনা জেলা লিগ জিতে টাউন ক্লাব, সেই সুবাদে তারা ঢাকায় ডামফার টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেয়ে যায়। এ উপলক্ষে তারা আমাকে আর তপন ভাইকে মুসলিম ক্লাব থেকে ধারে নিয়েছিল। আমি খেলার সুযোগ পাই এবং দুটি গোলও করি। তখন ফুটবল ফেডারেশনে প্রায় সবাই আজাদ স্পোর্টিংয়ের কর্মকর্তা। খেলা দেখে তারা পরের বছর আমাকে আজাদে খেলার প্রস্তাব দেয়। কত টাকা দেবে সেটা কে জানতে চায়, খেলার সুযোগ দিচ্ছে- এটাই আমার কাছে বড় ছিল তখন। আমার ভেতরে তোলপাড় করা খুশি। মা-বাবার তরফ থেকেও কোনো বাধা নেই।

প্রশ্ন : তারপর ঢাকায় আসা। '৭৭ থেকে দুই বছর আজাদে খেলে বিজেএমসিতে গেলেন।

সালাম : তখন শুরুতে এক ক্লাবে দুই বছর খেলার নিয়ম ছিল। প্রথম বছর টাকা-পয়সা দেয়নি আজাদ স্পোর্টিং, পরের বছর বোধ হয় পাঁচ হাজার ছয়শ টাকা দিয়েছিল। সেই টাকাটা মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। তবে '৭৪ সালে মাকে প্রথম ১০ টাকা দিয়েছিলাম, সেটা খ্যাপ খেলার প্রথম রোজগার। দুই বছর আজাদে খেলার পরও আমাকে আবাহনী-মোহামেডানের চোখে লাগেনি। এ জন্য এক বছর খেলতে হয়েছে বিজেএমসিতে। সে বছর ব্রাদার্সের বিপক্ষে আমি হ্যাটট্রিক করি এবং বিজেএমসি লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। বাসু দা, সুহাস দা, আনোয়ার ভাই, করিম ভাইদের নিয়ে দুর্দান্ত দল বিজেএমসি। শিরোপা জয়ে আমার ১১ গোল। সুবাদে পরের বছরও বিজেএমসিতে আমার কদর বেড়ে গেল এবং এক লাখ দশ হাজার টাকা দিয়েছিল। বিজেএমসিতেই খেলব, একরকম চূড়ান্ত।

প্রশ্ন : কিন্তু চলে গেলেন মোহামেডানে।

সালাম : আসলে খুলনায় যখন মরহুম গজনবী ভাই লোক পাঠালেন মোহামেডানে খেলার জন্য, তখন আমার মনের অবস্থা বোঝাতে পারব না। একটা সমর্থকপুষ্ট বড় দলে খেলার জন্যই এত দিনের লড়াই। কিন্তু কিভাবে খেলব, কত টাকা দেবে- কিছুই ঠিক হয়নি। এক ভোরে লঞ্চে করে রওনা দিয়ে মানিকগঞ্জ ঘাটে নামলাম চাদর মুড়ি দিয়ে। তখনকার মোহামেডানকর্তা আকমল ভাই, খালেদ ভাইরা গেছেন আমাকে নিয়ে আসতে; কিন্তু তাঁরা আমাকে চেনেন না। চিনেছেন একজন, তাঁদের বন্ধু এখনকার ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার সাংবাদিক মঞ্জু ভাই। মানিকগঞ্জ থেকে আমাকে নিয়ে তাঁরা মোহামেডান ক্লাবে এলেন, হাজার পাঁচেক সমর্থকের হুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে ক্লাবে ঢুকলাম আমি। এটা অন্য রকম অনুভূতি। কোচ টিপু ভাই (গোলাম সারোয়ার টিপু) খুশি। মজার ব্যাপার হলো, ওই হাততালি-হুল্লোড়ের মধ্যে দলবদলের টোকেন তোলার নির্ধারিত সময় (রাত ৮টা ) শেষ হয়ে গেছে। তার পরও সমর্থকরা মিছিল করে আমাকে নিয়ে গেল। ধানমণ্ডি ক্লাবের বড় বাদল কার জন্য একটা টোকেন তুলেছিলেন, সেটা দিয়ে আমি দলবদল করি। ওই সময় লজ্জাও করছিল বিজেএমসিকে কথা দিয়েছিলাম বলে, পরে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দিই।

প্রশ্ন : এখনকার খেলোয়াড়দের মতোই, এক ক্লাবে কথা বলে আরেক ক্লাবে খেলেছেন...

সালাম : সেটা টাকার জন্য নয়, এখনকার মতো তিক্ততার জন্ম দিয়ে নয়। এক ফুটবলারের বড় ক্লাবে খেলার স্বপ্নপূরণ, মোহামেডানও দিয়েছিল সেই এক লাখ দশ হাজার টাকা। কোচ টিপু ভাই সদ্য ইংল্যান্ড থেকে ট্রেনিং করে আসেন, তাঁর সঙ্গে কায়কোবাদ ভাই। মেজর হাফিজ ভাই ম্যানেজার। তাঁদের তত্ত্বাবধানে নতুন মৌসুমে দলের প্র্যাকটিস শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে। কিন্তু প্রথম দুই সপ্তাহ আমার খুব মানসিক যন্ত্রণায় কেটেছে। এই সাদা-কালোর বড় তারকা এনায়েত ভাই, '৭৮ সালে কিছু তরুণ ফুটবলার সঙ্গে নিয়ে তিনি অনেকটা একহাতেই শিরোপা জিতিয়েছিলেন মোহামেডানকে। এত দুর্দান্ত খেলোয়াড় তিনি, তাঁর সঙ্গে প্র্যাকটিস করতে পারাটাই ভাগ্যের। প্র্যাকটিসে দেখছি, তাঁর জায়গায় আমাকে খেলাচ্ছে। এটা দেখে আমার ভেতরে ভয় কাজ করতে শুরু করে। কারণ এনায়েত ভাইকে বাদ দিয়ে তো আমাকে খেলাবে না, অর্থাৎ আমাকে বসে থাকতে হবে। মোহামেডানে এসে ভুল করলাম! মনটা খারাপ, তবে টিপু ভাইয়ের নির্দেশ মেনে প্র্যাকটিস করে যাচ্ছি নিয়মিত। এদিকে প্র্যাকটিসে দেরি করে আসায় এনায়েত ভাইয়ের ওপর মারাত্মক রাগ হাফিজ ভাইয়ের। এই রাগে একটা প্র্যাকটিস ম্যাচে তাঁাকে খেলাননি। কিন্তু মনের ভয়ে আমি কুঁকড়ে আছি। মোহামেডানের হয়ে ফেডারেশন কাপের প্রথম ম্যাচের আগের রাতে আমি দুই চোখের পাতা এক করতে পারিনি। ম্যাচের আগে একাদশ ঘোষণা হলো, আমি ও এনায়েত ভাই দুজনই আছি। টেনশন কেটে গেল, খেললাম অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হয়ে এবং একটা গোলও করলাম। পরের ম্যাচে এনায়েত ভাই বাদ এবং এভাবে তিনি অনিয়মিত হয়ে পড়েন। মোহামেডান জেতে ফেডারেশন কাপ, সালাম মুর্শেদী হয়ে গেল দলের প্রাণ।

প্রশ্ন : আগের দুই বছরের দুর্দান্ত পারফরমার এনায়েত অনিয়মিত হয়ে পড়ায় আপনার সুযোগ হয়ে গেল।

সালাম : সে রকমই, তবে এনায়েত ভাই অসাধারণ ফুটবল খেলতেন। পায়ে স্কিল-ডজ সবই আছে। গোল করার ক্ষমতা ছাড়াও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন তিনি। তাঁর সঙ্গে খেলাটাও আমার জন্য সৌভাগ্যের। তবে ফুটবল যৌবনের বেশির ভাগ কাটিয়ে ফেলেছেন বিজেএমসিতে। তাঁর মেজাজ এবং ক্লাবকর্তাদের সঙ্গে বিরোধের কারণে মোহামেডানে তাঁর সেরা পারফর্মের স্থায়িত্বটা বেশিদিন ছিল না। অবশ্য বয়সও হয়ে গিয়েছিল তখন। অন্যদিকে সালাউদ্দিন ভাই সুযোগগুলো দারুণ কাজে লাগাতে জানতেন। তাঁর ফুটবল সেন্স খুব ভালো ছিল; কখন কোথায় থাকতে হবে, স্ট্রাইকার হিসেবে সেটা খুব ভালো বুঝতেন। দুজন সম্পর্কে এককথায় বললে, দারুণ স্টাইলিশ স্ট্রাইকার সালাউদ্দিনের বিপরীতে এনায়েত খুব কার্যকর ফুটবলার।

প্রশ্ন : '৮০-তে চমৎকার শুরুর পর '৮২-তে একেবারে সাদা-কালোয় পূর্ণ প্রস্ফুটিত সালাম মুর্শেদী।

সালাম : '৮২-র কথাটা মানুষ বেশি মনে রেখেছে হয়তো গোলের রেকর্ডের কারণে। আমার মনে হয়, এর চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছি আগের দুই বছর। তখন আমার ভালো খেলটা সবার নজরে পড়েছে। '৮২-তে এখনকার মতো ডাবল লিগ ছিল না, এক লেগ আর সুপার লিগ মিলিয়ে ২৭ গোল করা তো কম কথা নয়! সর্বোচ্চ গোলের এই রেকর্ডের জন্য আমাকে মনে করে সবাই। সে বছর মোহামেডান ঢাকার সব ট্রফি জিতেছে। ওই বছর ভারতের দুর্গাপুরে আশীষ-জব্বার স্মৃতি টুর্নামেন্ট জেতে মোহামেডান, সেখানে ১০ গোল করেছিলাম। মোহামেডানের খেলার ধরন ছিল প্রথম ১৫ মিনিটে প্রতিপক্ষকে ছারখার করে দেওয়া। এই ঝড় যারা সামাল দিতে পেরেছে, তারা লড়াই করত। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও একই গতিতে খেলা শুরু হতো। এটা ছিল আমাদের প্যাটার্ন।

প্রশ্ন : তখন দলে অন্যরা কারা ছিলেন? আপনার রেকর্ডে কার সবচেয়ে বেশি অবদান?

সালাম : সবার নাম তো মনে নেই। ডিফেন্সে ছিলেন ইউসুফ-আবুল-স্বপন দাশ। ফরোয়ার্ডে বাদল, জোসী, কোহিনূর, গাফফার আর আমি। দলটা চমৎকার ছিল। রামা দা (রামা লুসাই) ও কামাল মাঝমাঠ থেকে দারুণ বল বানিয়ে দিতেন। এ ছাড়া কোহিনূর, গাফফার ও বাদলের অনেক অবদান। অনেক গোল হয়তো বাদল রায় নিজে করতে পারত, কিন্তু করিয়েছে আমাকে দিয়ে। আমার গোল আর রেকর্ডে ভালো অংশীদারি আছে আমার টিমমেটদের। কোচ টিপু ভাইয়ের কাছেও কৃতজ্ঞ, তিনি বিদেশে কোচিং কোর্স করে ফিরে দলটাকে এমন স্পিরিটেড করে তুলেছিলেন। খেলায় গতি আর সৌন্দর্য দুটোই ছিল। এ ছাড়া আমার খুলনার দুই কোচ স্কুলের গোরা স্যার আর ইয়ং মুসলিমের কোচ জহির ভাইয়ের কাছে ফুটবলের প্রথম পাঠ নিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : নিজের মূল্যায়নে আপনার খেলার শক্তিশালী দিক কোনটা?

সালাম : অমি খুব দৌড়ঝাঁপ করে খেলতাম। এখন বুঝি, বল ছাড়া আমি দৌড়ে জায়গা নিতাম। তখনকার খেলায় এটা খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল না। সাধারণত বল পেলেই খেলত। এ কারণে হয়তো আমি এগিয়ে থাকতাম অন্যদের চেয়ে। ছোটবেলা থেকে আমি নিয়মিত ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নিতাম, জেলা পর্যায়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এই দৌড়টা আমার কাজে লেগেছে ফুটবলে; গতির সঙ্গে সাধারণত অন্যরা কুলিয়ে উঠতে পারত না। শেষ কথা হলো, খেলাটা আমি খুব উপভোগ করতাম। যত দিন উপভোগ করেছি, তত দিন দুর্দান্ত খেলেছি। '৮৪ সালে ব্যবসা শুরু করার পর আমার মনোযোগ সরে যায় ফুটবল থেকে।

প্রশ্ন : খেলা উপভোগ করার কথা বললেন, এখন তো উপভোগের জায়গাই নেই। মাঠে দর্শক হয় না, কোন উদ্দীপনায় খেলবে ফুটবলাররা?

সালাম : পারফরমেন্স উন্নয়নে দর্শক-সমর্থকেরও বিরাট ভূমিকা আছে। আমাদের সময়ে শুধু বড় দলের খেলায় দর্শক হতো, এমন নয়। বড় দলের তারকাদের কথা বাদই দিলাম, ছোট দলের তারকাদেরও সমর্থক ছিল। ওয়ারীর লোভন ভাই, ওয়াপদার প্রেম দা, পুলিশের স্কুটার গফুরকে লোকজন চিনত। যশোরের কায়সার ভাই, সাথী-কালামের খেলা দেখতেও দর্শকরা মাঠে যেত। কারণ দল ছোট হলেও ইনডিভিজ্যুয়াল কোয়ালিটিতে তাঁরা আগুয়ান ফুটবলার ছিলেন। নিজস্ব কোয়ালিটি দিয়ে এখন নজর কাড়তে পারে, কজন আছে? ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা হয়েও আমি বলছি, ওই সময়ে কোয়ালিটি ফুটবলারের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে দশটা জাতীয় দল বানানো যেত।

প্রশ্ন : আপনি যদি একটা জাতীয় দল তৈরি করেন, সেটা কী রকম হবে?

সালাম : সেটা আমি করব না। কারণ মানের উনিশ-বিশ ফারাক আছে এমন খেলোয়াড় এত বেশি যে কাকে বাদ দিয়ে কাকে রাখব, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তবে এটা বলতে পারি, ওই সময়ের পারফরমারদের নিয়ে দুটি জাতীয় দল করলেও আমার নাম থাকবে না তাতে। মোহামেডানে খেলেছি বলে আমার খেলা বেশি নজরে পড়েছে। আমার চেয়েও ভালো খেলোয়াড় অনেক ছিল।

প্রশ্ন : এটা আসলে আপনার বিনয়...।

সালাম : না। তখনকার বাস্তবতা ছিল, মোহামেডান-আবাহনীতে খেললে জাতীয় দলে এক পা দিয়ে রাখার মতো। মানের দিক দিয়ে চিন্তা করলে এ দুই দলের বাইরেও অনেক ভালো খেলোয়াড় ছিল। '৭৮ সালে আমি জাতীয় যুব দলে সুযোগ পাই প্রথম বেকেলহফটের অধীনে। পরের বছর থেকে জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় খেলতে গেছি। '৮৫-তে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে শেষ খেলেছি জাতীয় দলের হয়ে। ক্লাব দলের হয়েও দেশের বাইরে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলেছি। '৮২ সালে মোহামেডানের ভারতে আশীষ-জব্বার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট জয়ে আমি করেছি সর্বোচ্চ ১০ গোল। আন্তর্জাতিকভাবে বাইরে দেশের কোনো ক্লাবের এটাই প্রথম সাফল্য এবং এক টুর্নামেন্টে ওই গোলসংখ্যাটাও রেকর্ড। আমাদের সময়ে ঢাকার ফুটবল এত জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল যে জাতীয় দলটা কেমন যেন গৌণ থেকে যেত খেলোয়াড়দের কাছে। এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

প্রশ্ন : কোনো বিশেষ স্মৃতি কিংবা গোলের কথা কি মনে পড়ে?

সালাম : স্মৃতি অনেক। তিনটি গোলের কথা বিশেষভাবে মনে আছে। চট্টগ্রাম মোহামেডানের হয়ে '৮৪ সালের প্রথম দিকে বোধ হয় চট্টগ্রামে সালাউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমি শেষ ম্যাচ খেলি, কিছুদিন পরই তো তিনি অবসরে চলে গেলেন। সেই ম্যাচ আমরা ২-০ গোলে জিতেছিলাম, অনেক দূর থেকে শটে একটা গোল করেছিলাম। আরেকটা গোল বিশেষভাবে মনে আছে সালাউদ্দিন ভাইয়ের ২৪ গোলের রেকর্ডভাঙা গোল হিসেবে। এই ২৫তম গোলটি করেছিলাম রহমতগঞ্জের বিপক্ষে। মাঝমাঠ থেকে বলটি নিয়ে আমি নান্নু ভাইয়ের মতো ডিফেন্ডারকে ডজে পেছনে ফেলে জাতীয় দলের গোলরক্ষক মাঈন ভাইকে পরাস্ত করেছিলাম। তিনি প্রথমবার আগলেছেন দেখালেও তিন-চার ফুট ফাঁকা ছিল, ওই জায়গা দিয়েই আমি বল জালে পাঠিয়েছি। তা দেখে নান্নু ভাই প্রশংসা করে বলেছিলেন, 'তুমি আরো বড় হও।' আরেকটা স্মরণীয় গোল সম্ভবত '৮৬ সালের শেষ লিগ ম্যাচে। ওয়ান্ডারার্সের সঙ্গে খেলা, ম্যাচ জিতলে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব- এ রকম কিছু ছিল বোধ হয়। থ্রো ইনে বলা থাকত, বল আমার সামনে ড্রপ করে যেন কোমর উচ্চতায় ওঠে। সে রকম এক থ্রো হয়েছে, ডিফেন্ডারকে প্রচণ্ড গতিতে আমার দিকে আসতে দেখে বলটা তার মাথার ওপর দিয়ে নিয়ে গিয়ে দেখলাম, সামনে শুধু গোলরক্ষক। এই গোলে আমরা চ্যাম্পিয়ন হই। এটাই ঢাকা মাঠে আমার শেষ গোল। এরপর আর ম্যাচ খেলিনি, '৯১ সালে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : আপনি আগে বলেছেন, '৮৪ সালে ব্যবসা শুরুর পর আপনার ফোকাসটা সরে গেছে।

সালাম : '৮৩ সালে প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে মালয়েশিয়ার সঙ্গে খেলে হাত ভাঙলাম। তার কিছুদিন পর ক্লাবের প্র্যাকটিসেও আবার হাত ভাঙার দুর্ঘটনা। তাতে নিজের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে। মাঠে ফিরে আগের মতো তেড়েফুঁড়ে খেলার মানসিক জোরটা হারিয়ে ফেলি। আরেকটা পিছুটান তৈরি হয়েছিল নতুন ব্যবসা। আজকের তুলনায় খুবই নগণ্য হলেও তখনকার বাস্তবতা ছিল, সময় না দিলে ব্যবসা হবে না। পার্টনার কুতুব ভাই (সাবেক বিওএ মহাসচিব কুতুব উদ্দিন) জনতা ব্যাংকের চাকরি ছেড়েছেন, পুরো সময় ব্যবসার পেছনে লেগে আছেন, আর আমি একেবারে কিছু না করলে তো হয় না। মনে আছে, সারা রাত জেগে গার্মেন্ট প্যাকিং করেছি। সত্যি বললে তো ব্যবসার কিছুই জানি না।

প্রশ্ন : পরিকল্পনাটা কি আগে থেকেই ছিল? খেলার যৌবন ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আরেকটা পেশার জন্য নিজেকে তৈরি করবেন?

সালাম : বিজেএমসিতে খেলার সময় তারা আমাকে একটা চাকরি দিয়েছিল। চাকরিটা ছিল প্লাটিনাম জুট মিলের সুপারভাইজার হিসেবে। তাই পরে খুলনা মুসলিম ক্লাবে না খেলে প্লাটিনাম জুট মিলের হয়ে খেলতে হয়েছে আমাকে। চাকরির সুবাদে প্লাটিনাম জুট মিলের পরিবেশ আমার দারুণ লাগে। গাছপালার ভেতর একটা মিল, সঙ্গে নদীর পারে ডরমিটরি, জুট কিনতে আসা বিদেশিরা থাকে। এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা মিল, পরিবেশটা সুইজারল্যান্ডের মতো সাজানো-গোছানো। ওখানে চাকরির সময় এ রকম একটা ইন্ডাস্ট্রির স্বপ্ন দেখেছিলাম। গরিবের মনে কত রকমের চাপা শখ থাকে, বাস্তব তো অন্য জিনিস। মোহামেডান ক্লাবে খেলার সুবাদে কুতুব ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়, টানা ১০ বছর তিনি ক্লাবের ব্যাডমিন্টন দল চালিয়েছেন। তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেও জনতা ব্যাংকে চাকরির সুবাদে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা ছিল। ক্লাবে তাঁকে একদিন জিজ্ঞেস করি, ব্যবসা-বাণিজ্য করা যায় কি না। তিনিও চান ব্যবসায় নামতে। তখন গার্মেন্ট ব্যবসা কেবল শুরু হয়। কুতুব ভাই বড় ঝুঁকি নিয়ে চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নেমে গেলেন, আমার জমানো সাত লাখ টাকার মতো তাঁর হাতে তুলে দিলাম। সেই '৮৪ সাল থেকে এনভয় গ্রুপের শুরু, তারপর ৩১ বছর হয়ে গেল। এই গ্রুপ আরো বড় হয়েছে, যোগ হয়েছে অনেক ধরনের ব্যবসা। ২০ হাজার লোক কাজ করে, তাদের পরিবার নির্ভর করে এনভয় গ্রুপের ওপর। প্রথমত আল্লাহ, তারপর সবার দোয়া-ভালোবাসায় এটা সম্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন : ফুটবল খেলে আয় করেছেন অনেকই। তবে সেটার সদ্ব্যবহার করে দেশের অন্যতম সেরা শিল্পপতি হওয়ার নজির বোধ হয় শুধু সালাম মুর্শেদীই গড়েছেন।

সালাম : আমার চেয়ে বড় ফুটবলাররাও ব্যবসায় আছেন। চুন্নু ভাই, বাদল রায়সহ অনেকে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়ী হিসেবে হয়তো খুব নাম হয়নি, তবে করছেন। সরকারকে এবারও রাজস্ব প্রদানের দিক থেকে সেরা ৫০ জনের মধ্যে আমাদের দুজনের নাম (কুতুব উদ্দিনসহ) আছে দেখলাম। প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননাও পাব। আসলে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সফল ব্যবসায়ীর ট্রফি নেওয়া, বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট হওয়া- এমন সম্মান-অর্থ-অর্জনের মূলে কিন্তু ফুটবল। তার বিনিময়ে ফুটবলকে তেমন কিছুই দিতে পারিনি। ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে অনেক সময় পুরো দিন ফুটবলে দিলেও যা পেয়েছি, সে তুলনায় যথেষ্ট দেওয়া নয়।

প্রশ্ন : এখন ব্যবসায়ী হিসেবে আপনি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফুটবলের পেশাদারিতে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়েছে?

সালাম : এটা একটা সামগ্রিক বিষয়। ফুটবল ফেডারেশন একা চাইলে পারবে না, ক্লাবগুলোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দেরও পেশাদার হতে হবে। যারা খেলে, আমি তাদের দায়ী না করেই বলতে চাই, তারা বোধ হয় খেলাটা উপভোগ করে না। উপভোগ করে খেললে খেলা ভালো হবে, তখন টাকাও বাড়তে থাকবে। দুটো একসঙ্গে গুলিয়ে ফেললে তার খেলার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের সময়ও অনেক খেলোয়াড় আছে মোহামেডান ক্লাব থেকে ঠিকঠাক টাকা না পাওয়ার পরও খেলে গেছে। প্রত্যেক বড় ক্লাবেই এ রকম ঘটনা আছে, আমার নিজের বেলায়ও হয়েছে। এখন খেলোয়াড়রা পেশাদার হয়েছে, তবে চুক্তির বেলায় বেশি, পারফরমেন্সে কম। আমার অনুরোধ থাকবে, তারা নিজের খেলার প্রতি আরো যত্নবান হোক। যারা বড় অঙ্কের অর্থ পায়, তাদের ভেবে দেখা উচিত, এ দেশে অন্য কোন পেশায় মাসে দু-তিন লাখ টাকা আয় করা যায়।

প্রশ্ন : মানের দিক থেকেও তো তেমন এগোয়নি। এখনো এই অঞ্চলের সাফ ফুটবলে গ্রুপ থেকেই ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

সালাম : আন্তর্জাতিক সাফল্যের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি থাকে না। বাফুফে থেকে সব কিছুই করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে আমরা সব টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও ফল ভালো হয় না। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের জেলার ফুটবল এবং দেশব্যাপী স্কুল ফুটবল না হওয়ায় খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমেছে, মানও কমেছে। এখন অনেকে বলার চেষ্টা করে, জেলার জন্য বাফুফে কিছু করে না। আমার প্রশ্ন হলো, কোন আমলে জেলার ফুটবলের জন্য বাফুফে দশ টাকা দিয়েছিল? এখন তো তার পরও দেওয়া হচ্ছে। জেলার সংগঠকদের এগিয়ে আসতে হবে; আর সরকারের কাছে আমার আবেদন, সারা দেশে স্কুল ফুটবলটা যেন চালু করে। স্কুল-একাডেমি-জেলা ফুটবলে সরগরম থাকলে আবার আগের জায়গায় পৌঁছবে ফুটবল। আমরা ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি কেবল, এর সঠিক উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে। পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা কিছু করতে পারব না- এটা মেনে নিয়েই আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামতে হবে। এটা বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই সরকারের সহযোগিতা লাগবে, বরাদ্দ লাগবে।

প্রশ্ন : আমরা একদম শেষ দিকে চলে এসেছি। আপনার চোখে সেরা ফরোয়ার্ড কে?

সালাম : আমাদের সময় অনেকে ভালো খেলতেন। সেরা বাছতে গেলে শেষ লড়াইটা হবে সালাউদ্দিন ভাই আর এনায়েত ভাইয়ের মধ্যে। আমার চোখে কাজী সালাউদ্দিন। কারণ মাঠের উপস্থিতি, খেলা, গোলের সঙ্গে দর্শকপ্রিয়তা এবং আমজনতার গ্রহণযোগ্যতাও একটা বড় ব্যাপার। সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন আমাদের ফুটবল আইকন। আমাদের মতো অনেক ফুটবলারই তো সালাউদ্দিন ভাইকে সামনে রেখে বড় হয়ে উঠেছেন। এরপর আর সেরা হতে কী লাগে।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন, সালাম মুর্শেদীর ফুটবলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে সফল ব্যবসায়ীর ক্যারিয়ার চলছে। এর মধ্যেও কোনো আক্ষেপ...

সালাম : একজন সাধারণ স্কুলশিক্ষকের ছেলের জীবনটা স্বপ্নের চেয়েও রঙিন হয়েছে। এর পরও আক্ষেপ থাকলে আল্লাহ নারাজ হবেন। তবে স্কুলশিক্ষক বাবা ('৮৮ সালে মারা গেছেন) যদি এই দিনটা দেখে যেতে পারতেন...। মেয়ে ব্যারিস্টার হয়েছে, বিয়ে দিয়েছি। দুই ছেলেকে নিয়ে এখন আমার আর শারমিন সালামের সংসার দিব্যি কেটে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ভাবি, সালাম মুর্শেদীর সন্তানদের সঙ্গে আমার বাবার সন্তানের জীবনের গল্প কত আলাদা!

 



মন্তব্য