kalerkantho


বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কেন্দ্র হচ্ছে ঢাকার পূর্বাচলে

এম সায়েম টিপু   

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কেন্দ্র হচ্ছে ঢাকার পূর্বাচলে

প্রতিবছর জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয় রাজধানীসহ দেশবাসীর প্রাণের মেলা ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। কিন্তু এ মেলা আয়োজনে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রতিবছরই অনেক অর্থ ব্যয় হয়। এ ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণের নানা প্রতিকূলতায় পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। আর এসব বাধা ও বিশাল অঙ্কের অর্থের অপচয় ঠেকাতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী প্রদর্শনীকেন্দ্র নির্মাণ।

এসব কারণে স্থায়ীভাবে মেলার জন্য রাজধানীর পূর্বাচলে শিগগিরই শুরু হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শণীকেন্দ্র নির্মাণের কাজ। ইতিমধ্যে চীন সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে একটি চুক্তিস্বাক্ষর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চীনের একটি সংস্থা ভূমি জরিপের কাজ শেষ করে গেছে। তাদের আশা, দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী বাণিজ্য মেলা এবং আন্তর্জাতিক এক্সিবিশন সেন্টার কাজের জন্য বেইজিং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের (বিআইএডি) সঙ্গে ইপিবির নকশা বর্ধিতকরণ চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি প্রথম হয় ২০০৭ সালে।

এটা হয়েছিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় প্রদর্শনীকেন্দ্রের স্থাপনা নির্মাণের জন্য। তবে এখন করা হয়েছে বর্ধিতকরণ চুক্তি। রাজউকের পূর্বাচল ৫ নং সেক্টরে ২০ একর জায়গায় এই স্থায়ী প্রদর্শনীকেন্দ্রের নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ ইপিবি রাজউক থেকে জমির চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র পেয়েছে।

জানা যায়, এই প্রকল্পের কাজ করতে গত ১৯ নভেম্বর ঢাকায় আসে চায়না সরকারের একটি দল। তারা জরিপ শেষে গত ১৯ নভেম্বর ঢাকা ত্যাগ করে। প্রদর্শনীকেন্দ্রের প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজ করছে তারা। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে জানা যায়। ২০১৮ সালে কাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছে ইপিবি কর্তৃপক্ষ। আর এই এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন আরএনবি (চীনের মুদ্রা) দেবে চীন সরকার। বাংলাদেশ সরকার জমি বাবদ দেবে ১৩৮ কোটি টাকা। ইপিবি দেবে ৩২ কোটি টাকা।

বিশেষভাবে প্রাকৃতিক নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব বিশেষায়িত এই প্রদর্শনীকেন্দ্রে সারা বছরই মেলা করা যাবে। আর প্রতি ৯ স্কয়ার মিটারের মোট ৮০৩টি বুথ রাখা হবে স্টলের জন্য। থাকছে এক হাজার ৫০০টি গাড়ি পার্কিং করার জায়গা, অত্যাধুনিক অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা। মা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। এ প্রসঙ্গে ইপিবির সচিব ইউসুফ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অস্থায়ী মেলার মাঠের অবকাঠামো তৈরিতে প্রতিবছর ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয় স্টল এবং প্যাভিলিয়ন নির্মাণে। এই অপচয় কমানো গেলে অবকাঠামো নির্মাণে যে খরচ হয় তা সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে মেলা করা যাবে প্রতিবছর। সুরক্ষিত নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া যাবে। আর বিশ্বমানের এক্সিবিশন সেন্টার হওয়ায় বাংলাদেশের প্রদর্শনীতে অংশ নিতে আসবে বিশ্বের বড় বড় ক্রেতা এবং প্রতিষ্ঠান।

কার্যক্রমের অগ্রগতি জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইপিবির এক কর্মকর্তা জানান, ইপিবি আগামী এক মাসের মধ্যে প্রদর্শনীকেন্দ্রের জায়গায় অস্থায়ী স্থাপনা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) রাখা ইলেকট্রিক পুল এবং কিছু অস্থায়ী দোকান অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিআইএডির আট সদস্যের একটি দল গত ১৯ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করে গেছেন। এ সময় তাঁরা প্রকল্প স্থানের চারটি পয়েন্টে এলিভেশন এবং কো-অর্ডিনেটস (ভূমির সমতা নির্ণয় করা) পরিমাপ, বর্তমান ধারণা নকশার প্রয়োজনীয় সংশোধনী, গত ৫০ বছরের বজ পাত, ঝড়-বৃষ্টি এবং বায়ুর গতিবেগের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে গেছেন। মাটি সংগ্রহ ও ভরাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংস্কারকাজ চলাকালে কিভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ নেওয়া হবে এবং স্থানীয়ভাবে কিভাবে নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ করা যায় এই নিয়ে তাঁরা কাজ করে গেছেন।


মন্তব্য