kalerkantho


বিশেষ সাক্ষাৎকার

বড় অর্জন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বড় অর্জন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সরকারের চার বছর পূর্তির মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন, এই চার বছরে সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, অন্তর্বর্তী সরকার,১৪ দলের সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারক ও সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে সরকারের চার বছরের মূল্যায়ন কিভাবে করছেন?

মোহাম্মদ নাসিম : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়, তাতে ওই নির্বাচন করাটাই ছিল আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ। সেই নির্বাচন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে অনেক ছাড় দিয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াত বিএনপির ওপর ভর করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য যেকোনোভাবে অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আনার পাঁয়তারা করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল নির্বাচন বানচাল করা, যাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসে। সেটা আমরা প্রতিহত করেছি। আমাদের প্রথম সফলতা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠান। অনেকে মনে করেছিল, এই সরকার টিকবে না। কিন্তু আমরা গত চার বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছি। এই চার বছরে একটি সময় (অবরোধের তিন মাস) বাদ দিলে দেখবেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছি। হরতাল অকার্যকর হয়ে গেছে। তথাকথিত অবরোধ ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষের সমর্থন পায়নি তারা।

কালের কণ্ঠ : সরকারের বড় অর্জনগুলো কী কী?

মোহাম্মদ নাসিম : বড় অর্জনগুলোর মধ্যে প্রথম হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এখন সরকারের বাইরে সব রাজনৈতিক দল মনে করে নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সরকার পরিবর্তন করতে পারব। জনগণও বিশ্বাস করে পরিবর্তন যদি করতে হয়, মাঠের আন্দোলন নয়, জ্বালাও-পোড়াও নয়, ভোটের মাধ্যমে সেটা হতে পারে। এটা আমাদের এক নম্বর অর্জন। দুই নম্বর অর্জন হচ্ছে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। ঢাকার উন্নয়ন দেখছেন। বিদু্যুতে আমরা বড় ধরনের উন্নয়ন করেছি। এটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আমরা কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেয়েছি। গ্রামে গরমে মাঝেমধ্যে লোডশেডিং ছাড়া মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। মাতৃমৃত্যু হার কাঙ্ক্ষিতভাবে রোধ হয়েছে। আমাদের বয়সসীমা বেড়ে গেছে। সফলতা এসেছে ওষুধ সেক্টরে। স্বাধীনতার পর শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ ওষুধ আমদানি করে খেত। এখন ১০০ ভাগ মানুষ আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ খায়। আমরা ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছি। জেলা পর্যায়ে হাসপাতালে আইসিইউ আছে। ধনুষ্টঙ্কার ও ডিপথেরিয়ামুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের সফলভাবে চিকিৎসা দিয়েছি। কৃষিতে বিপ্লব হয়েছে। খাদ্যের ঘাটতি বা সংকট আমাদের সময় হয়নি। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সফল অবস্থানে রয়েছি। ঢাকাসহ সারা দেশে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। মানুষ এখন সহজেই ঢাকা শহরে পৌঁছে যায়। এই যে ঢাকা শহরে যানজট হয়েছে, এটা অর্থনীতির উন্নতির একটা বড় লক্ষণ। ঢাকা শহর যানজটে অচল হয়ে গেলে সেটাও উন্নতি। কারণ কাজ না থাকলে মানুষ তো ঢাকা শহরে আসবে না। এটা অর্থনীতির গতিশীলতা, যা সরকারের সফলতা। অর্থনীতির বড় নিয়ামক কলকারখানায় উৎপাদন। আমরা বন্ধ অনেক কলকারখানা চালু করেছি। যার ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কথায় কথায় ধর্মঘট বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ন্যূনতম মজুরি পাচ্ছে।

কালের কণ্ঠ : বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দমন-পীড়নের কারণেই মূলত হরতাল-ধর্মঘট নেই। সে জন্যই কি এই শান্তিপূর্ণ অবস্থা?

মোহাম্মদ নাসিম : মানুষের মনে যদি আবেদন না থাকে দমন-পীড়ন দিয়ে ‘পলিটিক্স’ বন্ধ হবে না। সরকারবিরোধী পলিটিক্যাল উত্থান বন্ধ করা যাবে না। অতীতের মতো অবস্থা নেই। মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। এখন তারা দেখছে কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। কাজ করলে আয় করতে পারি। রিকশাচালকরাও ঢাকা শহরে ভালো আয় করে। মুটে-মজুর ভালো আয় করে। গ্রামেও অর্থনীতির চাকা সচল। মানুষ মনে করে কাজ করলে আয় করতে পারবে। হরতাল করলে সময় নষ্ট হবে। হরতাল এখন ডাকেন, দেখবেন হবে না। বড় বড় রাজনৈতিক দল হরতাল ডেকেছে। কিন্তু হরতাল হয় না। গত কয়েক বছরে একটাও পাবেন না স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল হয়েছে। মানুষ মনে করে এ দেশে নির্বাচন হবে। আমি আমার ইচ্ছামতো ভোট দেব। সরকার পছন্দ না হলে পরিবর্তন করব। এই যে দমন-পীড়নের কথা বলা হচ্ছে—আসলে তা নয়। এসব কারণেই হরতাল-ধর্মঘট হচ্ছে না। দমন-পীড়ন কোথায়? হয়তো দেখেছেন মামলা হয়েছে বা মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। তার পরও ওরা মিছিল-মিটিং করতে পারে। তবে তা আইনের কাঠামোর মধ্যে।

কালের কণ্ঠ : বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, জঙ্গি তৎপরতা প্রতিরোধ করতে গিয়ে অনেক বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হচ্ছে...।

মোহাম্মদ নাসিম : গুলশান থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যে কয়টা জঙ্গি দমনের ঘটনা ঘটেছে—জঙ্গির বাইরে কেউ মারা গেছে? সবাই চিহ্নিত হয়েছে এরা জঙ্গি বা জঙ্গির আশ্রয়দাতা। যারা নিহত হয়েছে, কেউ প্রমাণ করতে পারেনি যে তারা জঙ্গি নয়। জঙ্গি দমনে কঠোরতার প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণে জঙ্গি উত্থান অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে। অনেক দেশ জঙ্গি দমনে বাংলাদেশকে এখন মডেল মনে করছে।

কালের কণ্ঠ : এই মুহূর্তে সত্যিকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে আপনারা কি কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন?

মোহাম্মদ নাসিম : রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে সব কিছু ‘স্মুথলি’ চলে। উন্নয়ন চলমান থাকে, অর্থনীতি এগিয়ে যায়। মানুষ খেয়ে-পরে ভালোভাবে থাকতে পারে। এ জন্য স্থিতিশীলতা দরকার। গত ৯ বছরে সরকার সেটা করতে পেরেছে। আপনার প্রশ্নের জবাবে বলব, তারা স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে মেয়র নির্বাচন, এমনকি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং তারা কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছে। ওই সব নির্বাচনে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমরা সাতটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বেশির ভাগেই পরাজিত হয়েছি। বিএনপি কোনো নির্বাচন বাদ দেয়নি। আবার প্রত্যেকটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বলেছে সেটা ‘পরীক্ষামূলক’ নির্বাচন। সামনে যে নির্বাচন আসছে সেখানেও বিএনপি আসবে বলে আমি মনে করি। তবে বিএনপির আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। নিজেদের মধ্যে ঐক্য নেই। এ জন্য বারবার নির্বাচনের রাজনীতিতে মার খাচ্ছে।

কালের কণ্ঠ : তাহলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তী সরকারে আনার জন্য যেভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবার তা হচ্ছে না?

মোহাম্মদ নাসিম : আমার মনে হয় না তাঁদের সরকারে নেওয়া হবে। কারণ আমরা নতুন করে অপমানিত হতে যাব না। খালেদা জিয়ার ছেলের মৃত্যুতে আমার নেত্রী সমবেদনা জানাতে গুলশান অফিসে গেলে তাঁরা তো ঢুকতেই দেননি। এখন খালেদা জিয়া যেভাবে কথা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘হাসিনা হাসিনা’ বলে হেয় করেন। এরপর আর মনে হয় না নেত্রী অফার দিয়ে অপমানিত হবেন। আর এখন বিএনপি সংসদে নেই। কাজেই তাদের সরকারে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নেই। তবে যত কথাই বলুক আমরা মনে করি বিএনপি নির্বাচনে আসবে।

কালের কণ্ঠ : প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় এবং আপনারা কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা পর্যায়ে সফর করবেন। এটা কি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে?

মোহাম্মদ নাসিম : নির্বাচন যেহেতু শুরু হয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচনের ডামাডোল বাজছে, তাই এটা নির্বাচনী সফর।

কালের কণ্ঠ : বিএনপির অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে অযোগ্য ঘোষণা করে নির্বাচনের বাইরে রাখা হবে।

মোহাম্মদ নাসিম : বিএনপি এ কথাগুলো বলে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য। এটা কথার কথা। ধরে নিই আদালতে কোনো অপরাধের সাজা হলো। কিন্তু নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্টে যেতে অনেক সময় লাগে। এ সময়টুকুর মধ্যে নির্বাচন হয়ে যাবে। তো আমরা কেন এ ধরনের চিন্তা করব? এ ধরনের মামলায় কেউ সাজাপ্রাপ্ত হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। আমরা জানি, নির্বাচন খালেদা জিয়া করবেন, বিএনপি করবে। জানি বলেই আমরা মাঠ গোছানোর চেষ্টা করছি।

কালের কণ্ঠ : সামনে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মূল চ্যালেঞ্জগুলো কী?

মোহাম্মদ নাসিম : মূল চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে, আমাদের ৯ বছরের যে অর্জনগুলো আছে, সেগুলো সুসংহত করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আমরা সমুন্নত করতে পেরেছি; বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করেছি; রাজনৈতিকভাবে তাদের দুর্বল করেছি। এটা সুসংহত করার প্রশ্ন আছে। পদ্মা সেতুসহ আমাদের বড় বড় যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এ দেশে বাজে একটা অভিজ্ঞতা—এক সরকার একটা কর্মসূচি শুরু করলে আরেক সরকার এসে তা বন্ধ করে দেয়। যেমন কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক। এটা খালেদা জিয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তেমনি আমরা মনে করি, ওরা (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে অনেক কাজ বন্ধ করে দেবে। তো আমাদের যে উন্নয়নমূলক কাজ সেগুলোকে এগিয়ে নেওয়াটাও চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ।

কালের কণ্ঠ : ভালো সম্পর্ক আমরা দাবি করছি। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটে আমরা তো ভারতকে পাশে পাইনি।

মোহাম্মদ নাসিম : সেভাবে পাইনি কারণ তাদের তো একটা রাজনীতি আছে, একটা পলিসি আছে। কিন্তু আপনি দেখবেন ভারত প্রথম দিকে যেভাবে মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছিল শেষ দিকে এসে সেটা আর ছিল না। এমনকি রাশিয়া পর্যন্ত আগের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।    

কালের কণ্ঠ : বিএনপি নির্বাচনে আসছেই ধরে নিয়েছেন। তাহলে প্রার্থী নির্বাচনে কী কী জরিপ বা পদক্ষেপ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ?

মোহাম্মদ নাসিম : প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর নিজস্ব একটা জরিপ আছে। সেই জরিপে উঠে আসছে ৩০০ আসনের অবস্থা। আমরা ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। যেখানে দুর্বল প্রার্থী আছে তা পরিবর্তন হবে। আমি মনে করি, ব্যক্তি বড় নয়, কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে গেলে নেত্রীর নেতৃত্ব অব্যাহত রাখতে গেলে প্রার্থীকে জিততে হবে। আর নির্বাচনের সময় ছোটখাটো কোন্দল বন্ধ করে নির্বাচনে জিততে হবে।

কালের কণ্ঠ : ১৪ দলের মধ্যে একটা অসন্তোষ আছে। মন্ত্রিসভার রদবদলের পর এ অসন্তোষ আরো বেড়েছে। হেফাজতের সঙ্গে মিটিং, মাখামাখি নিয়েও অসন্তোষ ছিল...।

মোহাম্মদ নাসিম : এ অসন্তোষের কথা শুধু আমরা আপনাদের কাছ থেকে শুনি। মেনন সাহেব অসন্তুষ্ট বলে তো জানি না। তিনি মনে করেন একটা নিরিবিলি মন্ত্রণালয় পেয়েছেন। এতে তিনি খুশি। ইনু সাহেবের তথ্য মন্ত্রণালয় রয়েছেই। বরং তিনি এখন কাজে কিছুটা রিলিফ পাবেন, কারণ একজন সহকারী পেয়েছেন। আর হেফাজতের কথা বলছেন? তাদের সঙ্গে কওমি মাদরাসার ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আদর্শিক কোনো সম্পর্ক অতীতে ছিল না, এখন নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। কারণ হেফাজত একটি অন্য আদর্শের সংগঠন। আমাদের টার্গেট ছিল হেফাজতকে যাতে কেউ ব্যবহার করতে না পারে। এ ক্ষেত্রে আমরা সফল হয়েছি। সেখান থেকে তাদের বের করে এনেছি।

কালের কণ্ঠ : ১৪ দলের সম্প্রসারণ কী অবস্থায় আছে?

মোহাম্মদ নাসিম : অনেকের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখনো এগোয়নি। ১৪ দলগতভাবে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে যে এদের এ সময় নেওয়া ঠিক হবে না। তবে নির্বাচন সামনে রেখে যদি কাউকে নেওয়ার বিষয় থাকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলে সেটা এগোতে পারে। 

কালের কণ্ঠ : সিপিবি কেন বাইরে আছে?

মোহাম্মদ নাসিম : সেটা তাদের প্রশ্ন করুন। আমরা তো নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছি। সিপিবি একটা আদর্শিক দল। তাদের রাজনৈতিক কৌশল আছে। সে কৌশলের কারণে তারা দিনকে দিন ছোট হচ্ছে। তাদের চিন্তা—এও ভালো না ঔ ভালো না। এটা সিপিবির কী কৌশল, জানি না। তবে এতে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি তারা।

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ নাসিম : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।



মন্তব্য