kalerkantho


পাহাড়ে বিপর্যয়

যথেচ্ছাচার থামানোর উদ্যোগ নেই

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



যথেচ্ছাচার থামানোর উদ্যোগ নেই

ছবি: কালের কণ্ঠ

অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক সবুজ পাহাড়কে গাছ কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক কারণে পাহাড় কাটা বা পাহাড়ের গাছ কাটাকে কখনোই বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেনি স্থানীয় প্রশাসন। ভোটের হিসাব মেলাতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি পাহাড় কাটা ও গাছ কাটায় সহযোগিতা করেন। কখনো নিজেরাই এসবে নেতৃত্ব দেন।

গত দুই দশকে কারণে-অকারণে উজাড় করা হয়েছে পার্বত্য বনাঞ্চল। ন্যাড়া হয়ে গেছে অনেক পাহাড়। ফলে পাহাড়ধসের ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ঝুঁকিতে রয়েছে রাঙামাটি শহরের অনেক সরকারি-বেসরকারি ভবনও। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার উপকেন্দ্র, সার্কিট হাউস, পাসপোর্ট অফিস প্রভৃতি স্থাপনা বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে রাঙামাটির পর্যটনশিল্পও হুমকির মুখে পড়েছে।

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাঙামাটি শহরে জনসংখ্যার চাপ বেড়ে যায়। দুই দশক ধরে পাহাড় কাটা ও গাছ কেটে পাহাড় ন্যাড়া করার বিষয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দেয়নি।

স্থানীয়রা বলে, রাঙামাটি জেলার পুরোটাই পাহাড়ি এলাকা। ফলে বসতি স্থাপন করতে হলে পাহাড় বা টিলা কেটেই করতে হয়। কিন্তু কিভাবে কাটা হচ্ছে তা তদারকির জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে যে যেভাবে পেরেছে পাহাড় কেটে বসতি করেছে। অজান্তেই নিজের আবাসকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে তারা। এ কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, ১১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

রাঙামাটি জেলার মোট জনসংখ্যা ছয় লাখ ২০ হাজার ২১৪। সদর উপজেলার বাসিন্দা এক লাখ ২৪ হাজার ৭২৮ জন (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)। এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ পাহাড়ি। রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ধসে নিহত ১১৫ জনের মধ্যে ৫৫ জন বাঙালি এবং ৬০ জন পাহাড়ি। সদর উপজেলাতেই নিহত হয়েছে ৬৮ জন। পৌরসভার ভেদভেদির ১০টি স্থানে নিহতের সংখ্যা ৩৮।

রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, ‘রাঙামাটিতে আমার জন্ম, এটাই আমার শৈশব-কৈশোরের শহর। এত বৃষ্টিপাত আগে দেখিনি এখানে। অতীতে অনেক দুর্যোগ হয়েছে, কিন্তু এভাবে প্রাণহানি কখনো ঘটেনি। রাঙামাটির যেখানে পাহাড় ন্যাড়া হয়েছে সেখানেই দুর্যোগ এসেছে। গাছ কেটে ফেলায় টিলা ধসেছে, ভেঙেছে। সদরে পাহাড়ি-বাঙালি যারা পাহাড়ে বসতি করেছে তাদের অধিকাংশ উপজেলাগুলো থেকে আসা। কম টাকায় জায়গা কিনে অথবা অবৈধভাবে দখল করে শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা বসতি করেছে। ’

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের প্রধান নির্বাহী হেফাজত উল বারি সবুজ বলেন, পাহাড় যে সংরক্ষণ করতে হবে তা নিয়ে প্রশাসন বা পাহাড়-মালিক কারোরই মাথাব্যথা নেই। বড় দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে, রাঙামাটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এখনই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও বসতকারীদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাহাড় ও মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

গত মঙ্গলবারের দুর্যোগে রাঙামাটি শহরের ১৯টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। ভেদভেদি এলাকারই ১০টি স্থানে ধসের ঘটনা ঘটেছে। লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন মুসলিমপাড়ায় মূল সড়ক থেকে কমপক্ষে ৫০ ফুট নিচে তিন পাহাড়ের মাঝখানে এবং পাহাড়ে বসতি করা হয়েছিল। পাহাড়ধসে সেখানকার প্রায় সব বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

নতুনপাড়ার কবির সওদাগরের পাহাড়ের ঢালে বসতি করা হয়েছিল। সেখানে পাহাড়ধসে মারা গেছে ছয়জন। ওই এলাকায় অধিকাংশ বাড়ি করা হয় পাহাড়ের পাদদেশে। মঙ্গলবারের দুর্যোগে প্রায় সব বাড়িতে পাহাড় ভাঙা মাটি ঢুকেছে। এসব ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পোস্ট অফিস কলোনিতেও পাহাড়ের গোড়াতেই বসতি করা হয়েছিল। সেখানে মারা গেছে তিনজন। বাকি এলাকাগুলোর চিত্র একই।

রাঙামাটি শহরের পাবলিক হেলথ, তবলছড়ির বিএডিসি, কলেজ গেট, আমানতবাগ এবং আরো কিছু এলাকায় পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত বসতি তৈরি করা হয়েছে। কাপ্তাই লেকসংলগ্ন এলাকায় একইভাবে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। অতিবৃষ্টি বা অন্য ধরনের দুর্যোগে ওই সব এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। যেনতেনভাবে পাহাড় কেটে ঘর বানালে মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়—এ ধারণাই নেই বসতকারীদের।

চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় মনে করেন, পরিকল্পিত বসতি গড়ার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। রাঙামাটিতে এত বৃষ্টি সাধারণত হয় না। অতীতে পাহাড়ধসও সেভাবে হয়নি। শুধু বসতি এলাকা নয়, যেসব পাহাড়ে বসতি নেই সেসবও ধসেছে। রাঙামাটি শহরে অপরিকল্পিত বসতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, শহরে জমি সংকট। লোকসংখ্যা বাড়ায় অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি করা হয়।

চাকমা রাজা বলেন, পাহাড় ও জানমাল রক্ষায় পরিকল্পনা দরকার। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গবেষণা করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আরো বড় ধস হতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তালিকা নেই

নিকট অতীতে বড় বিপর্যয় না ঘটায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও বসতকারীদের চিহ্নিত করেনি স্থানীয় প্রশাসন। রাঙামাটিতে কয়টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ, কত লোক সেখানে থাকে তার প্রাথমিক হিসাবও নেই বন বিভাগ, রাঙামাটি পৌরসভা, জেলা পরিষদ বা জেলা প্রশাসনের কাছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বলেন, পাহাড়ধসের ঘটনাটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক। এ ধরনের ঘটনা এই জেলায় আগে কখনো ঘটেনি। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে বসতি-পাহাড় ছাড়াও প্রায় সব ন্যাড়া পাহাড়ের চূড়া ধসে গেছে। এত বড় দুর্যোগ আগে কখনো হয়নি। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও বসতিস্থাপনকারীদের তালিকা করা হয়নি। তিনি বলেন, এবারের ধসে ঝুঁকির মাত্রা বোঝা গেছে। ঝুঁকি মোকাবেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাহাড়ে তৎপরতা নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের

পরিবেশ নিয়ে যে এলাকায় সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ও সতর্ক থাকার কথা, সেই পার্বত্য চট্টগ্রামেই দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের। চট্টগ্রাম শহরে পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। তবে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে তাদের কোনো কার্যালয় নেই। কিছু ঘটলে চট্টগ্রাম থেকে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গিয়ে কাজ করেন।

সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে জানান, গত এক দশকে রাঙামাটিতে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অভিযানের বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক মাসুদ করিম বলেন, ‘পাহাড়ে গাছপালা নিধনের ফলে মাটির বন্ডিং নষ্ট হওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের মাটি সাধারণত বালুমাটি। গাছের শিকড়ের সাহায্যে মাটি আটকে থাকে। গাছ উপড়ে গেলে বা কেটে ফেললে বালুমাটিতে পানি ঢুকে বন্ডিং নষ্ট করে দেয়। ফলে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ’

পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ করা ও অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার বিষয়ে মাসুদ করিম বলেন, বাড়িঘর ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তালিকা করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। তবে পাহাড় কাটলে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক দানেশ মিয়া বলেন, বসতি, স্থাপনা ও সড়ক নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে। কিন্তু সুরক্ষার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে। এ জন্য পরিকল্পনা করে পাহাড় কাটতে হবে। সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ধসের ঝুঁকিতে অসংখ্য স্থাপনা

পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে রাঙামাটি শহরের অনেক সরকারি-বেসরকারি ভবন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার উপকেন্দ্র, সার্কিট হাউস, পাসপোর্ট অফিসও এই ঝুঁকিতে রয়েছে। রাঙামাটি শহরের প্রবেশমুখে মানিকছড়ি পেরোতেই হাতের বাঁ পাশে উঁচু পাহাড়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাঙামাটি উপকেন্দ্র। মূল ভবন লাগোয়া পাহাড়ের একাংশ গত মঙ্গলবারের দুর্যোগে ধসে গেছে। বড় ঝুঁকি নিয়ে ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

শিমুলতলীতে জেলা পাসপোর্ট অফিসের তিনতলা ভবনও ঝুঁকিতে রয়েছে। যে পাহাড়ে এটির অবস্থান সেটির পাশের একাংশ মঙ্গলবারের দুর্যোগে খাড়াভাবে ধসে গেছে।

ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার কমপক্ষে ১৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও বাংলো। আরো অনেক সরকারি-বেসরকারি ভবন পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। শহরের রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন ও শিক্ষা ভবনের পাশের মাটি সরে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনো সময়।

ভেদভেদি এলাকার সার্কিট হাউস, শিমুলতলী এলাকার রেডিও স্টেশনও বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা সার্কিট হাউসের দোতলা ভবনটির পেছনের অংশের তিন-চার হাত দূরে পাহাড় ধসেছে। শহরের রিজার্ভমুখে সমাজসেবা অফিসের পাহাড়টির একটি অংশ ধসে পড়েছে। পুলিশ সুপার বাংলোর পাহাড়ের একটি অংশ হেলে পড়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে সেটি।

শিমুলতলীতে বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি কেন্দ্রের চারদিকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন নিহত হয়েছে। বেতার কেন্দ্রের দুটি টাওয়ারের গোড়ার মাটি সরে গেছে। বেতার ভবনটি অনিরাপদই বলা চলে।

মানিকছড়িতে যেখানে পাহাড়ধসে সেনা-কর্মকর্তা ও জওয়ানরা মারা গেছেন, সেই পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাহাড়চূড়ার সেনা-ক্যাম্প ও টিঅ্যান্ডটি টাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ।

বেতারের রাঙামাটি আঞ্চলিক প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ান বলেন, ‘চতুর্দিকে পাহাড়ধসে যাওয়ায় বেতার ভবন খুবই ঝুঁকিতে আছে। আমাদের তিনটি টাওয়ারধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। বেতার ভবনের প্রবেশমুখের সড়কও ধসের ঝুঁকিতে আছে। পাম্প হাউসটি ধসের মাটিতে চাপা পড়েছে। বেতার ভবন স্থানান্তর করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বলেন, সব স্থাপনাই তো পাহাড়ের ওপরে। এমনিতেই ঝুঁকি থাকে। মঙ্গলবারের ঘটনায় বেশ কয়েকটি সরকারি অফিস ও বাংলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সরকারি স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বেতার ও টিভি ভবন, পাসপোর্ট অফিস ভবন, ডিসি বাংলো, টিঅ্যান্ডটি এলাকার এলজিইডি অফিস, রিজার্ভবাজার এলাকার এসপি বাংলো, ফিশারিঘাট এলাকার মৎস্য ভবন বাংলোসহ কমপক্ষে ১৫টি সরকারি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তিনি।

পাহাড়ধসে ও অতিবৃষ্টিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা হয়নি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বিপর্যয়ের পর আমরা প্রথমে উদ্ধার তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। তা শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পরিস্থিতি জানাতে। এরপর প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।

পাহাড়ধসের প্রভাব রাঙামাটির পর্যটনে

রাঙামাটিতে পর্যটক আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্র পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স। সেখানকার ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে অসংখ্য মানুষ আসে এ শহরে। কিন্তু পাহাড়ধসের প্রভাব পড়েছে সেতু ও পর্যটন কমপ্লেক্সে। টানা ভারি বর্ষণের কারণে সেতুটি প্রায় ডুবতে বসেছে। সেতুর প্রায় এক ফুট নিচে চলে এসেছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। যেকোনো সময় ডুববে সেতুটি। সেতুর দুই পাশে পর্যটন কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে রাঙামাটির পর্যটনশিল্প।

খাগড়াছড়ি সদরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, টানা বর্ষণের ফলে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার পর হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। জেলা সদরের শালবন এলাকায় পাহাড়ধসের আতঙ্ক দেখা দেয়। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসে ৯-১০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন উপজেলায়ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ সদরের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। প্রশাসনের লোকজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোর লোকজনকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে। অন্তত ১৫টি পরিবার বাড়িঘর ছেড়েছে। তাদের শালবনে একটি পরিত্যক্ত ডরমিটরিতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন বলেন, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বহু লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে রাজি হচ্ছে না। চাপ প্রয়োগ করে কিছু পরিবারের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-ফেনি ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস ও ঢলে সড়ক দুটির অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন এগুলো মেরামতের চেষ্টা করছে।

বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়ায় মানিকছড়ি, রামগড়, মহালছড়ি, দীঘিনালাসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। সড়কের অনেক জায়গায় কালভার্ট ভেঙে গেছে।

 


মন্তব্য