kalerkantho


নারী-পুরুষ সমতা ১০ বছরে ১৯ ধাপ

ফারজানা লাবনী ও পার্থ সারথি দাস   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নারী-পুরুষ সমতা ১০ বছরে ১৯ ধাপ

জামালপুরের বালুরচর গ্রামে শ্বশুরবাড়ির সামনে এক চিলতে জমিতে ছোট্ট একটি ঘর তুলে বছর দুয়েক আগে ব্যবসা শুরু করেছিলেন মোর্শেদা পলি। প্রথম দিকে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতেন।

পরে দোকানে রাখতে শুরু করেন সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণও। গ্রামের লোকজন দূরে না গিয়ে ‘পলির দোকান’ থেকেই কেনাকাটা সেরে নেয়। কৃষি উপকরণ কিনতে আসা লোকজন এসবের ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন করলে পলি প্রথম প্রথম জবাব দিতে পারতেন না। পরে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এতে তাঁর ব্যবসারও উন্নতি হয়। এখন সংসার সামলে ব্যবসা চালিয়ে মাস শেষে তিন থেকে চার হাজার টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতে পারেন পলি। ওই সময় তাঁর চোখেমুখে থাকে অন্য রকম এক দ্যুতি। পলি বলেন, এখন আর কারো দিকে চেয়ে থাকতে হয় না।

জামালপুরের রুহিনী গ্রামের নাসিমাকে উচ্চ মাধ্যমিক পড়া শেষ হওয়ার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল।

বিয়ের কিছুদিন পর স্থানীয় একটি এনজিওর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে ল্যাপটপ ও প্রিন্টার জোগাড় করে দোকান চালু করেন বাড়ির পাশে। গ্রামের লোকজন সদরে না গিয়ে নাসিমার দোকান থেকেই প্রয়োজনীয় দরখাস্ত, ফরম, চিঠিপত্র টাইপ করিয়ে প্রিন্ট নেয়। দোকানের আয় দিয়ে এখন তাঁর সংসার খরচ চালিয়েও কিছু টাকা জমা হয় নিয়মিত।

বাগেরহাট জেলার ধলদাহ গ্রামের ঝর্ণা নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোনসেট কিনে ফ্লেক্সিলোড এবং মোবাইল ফোনে অন্যকে কথা বলিয়ে দিয়ে ব্যবসা করছেন। এতে মাসে তাঁর লাভ হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।  

গত সপ্তাহে জামালপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, জেলার বেশ কিছু গ্রাম ঘুরে পলি, নাসিমা, ঝর্ণার মতো আরো অনেক স্বাবলম্বী নারীর দেখা

 মিলেছে। তাঁরা যে শুধু দোকান চালাচ্ছেন তা নয়, অনেকে নার্সারি, কৃষি ও মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন। কেউবা করছেন দর্জির কাজ, কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসা ইত্যাদি। এক দশক আগেও গ্রামের নারীদের আয়ের উৎস ছিল মূলত হাঁস-মুরগি পালন বা কাঁথা সেলাইয়ের মতো কাজ। এখন শিক্ষিত নারীদের বড় একটি অংশ কাজ করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষক, স্থাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী, বেসরকারি সংস্থার কর্মী হিসেবে। তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা বাড়ায় গ্রামের ‘অলস’ নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুসারে, পাঁচ বছর আগে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ছিল এক কোটি ৬০ লাখ। সেটি বেড়ে হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬২ শতাংশ নারী আয়বর্ধক কাজে যুক্ত। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি সর্বোচ্চ হার।

বাংলাদেশে নারীর এগিয়ে চলার স্বীকৃতি মিলছে বৈশ্বিক নানা সূচকে, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে। নারী-পুরুষ সমতার ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশ এক দশকে ১৯ ধাপ এগিয়েছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান বাংলাদেশের। বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৭২তম স্থানে আছে। ২০০৬ সালে ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯১তম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন এবং ২০০৬ সালে প্রকাশিত সংস্থাটির এসংক্রান্ত প্রথম প্রতিবেদনের তথ্য তুলনা করে নারী-পুরুষ সমতায় বাংলাদেশের অগ্রগতির এ চিত্র পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত ডাব্লিউইএফের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ২০০৬ সালে ছিল ১৭তম। এক দশকে এ ক্ষেত্রে ১০ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নারীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক দশকে ২০ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম।

শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণে সবাইকে ছাপিয়ে : ওই প্রতিবেদন মতে, প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণে সব দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ১৪৪টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে। মাধ্যমিক স্তরেও মেয়ে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এক নম্বরে আছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ৯২ শতাংশ, আর ছেলেদের ৮৮ শতাংশ। মাধ্যমিক শিক্ষায়ও মেয়েদের অংশগ্রহণ ৫৫ শতাংশ, ছেলেদের ৫০ শতাংশ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ড. রাশেদা কে চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, উপবৃত্তি, বিনা বেতনে অধ্যয়নসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগে মেয়েদের শিক্ষার হার বেড়ে গেছে।

সাড়ে আট দশক আগে ‘অবরোধবাসিনী’দের দুঃখগাথা রচনা করেছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া। দেখিয়েছিলেন কিভাবে আশৈশব অন্ধকার গৃহকোণে জীবন কাটিয়ে ‘অবরোধ প্রথার সম্মান’ দিয়েছে এ দেশের নারীরা। ‘অন্ধ বোর্কায়’ আপাদমস্তক ঢেকে পরিচারিকার পাহারায় ৯ বছরের শিশুর স্কুলে যাওয়া, বিয়ের আগে বালিকা কনেকে ‘মাইয়াখানা’য় বন্দি রাখা, মোটা কাপড়ে মোড়া পাল্কির মধ্যে ‘মালগাড়ি’তে নারীর ট্রেন ভ্রমণ—সেই অন্ধকার ইতিহাস পেছনে ফেলে বেগম রোকেয়ারই ‘সুলতানার স্বপ্ন’র পথে হাঁটছে নারী, নেতৃত্ব দিচ্ছে রাজনীতি, প্রশাসনসহ সব অঙ্গনে।  

বাংলাদেশে এখন প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা নারী। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো নারী নির্বাচন কমিশনারও হয়েছেন। বিশ্ববিদালয়েও আছেন নারী উপাচার্য। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নারীর সরব উপস্থিতি। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেছেন এ দেশের নারীরা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে, বিমানবাহিনীতে আছেন নারী। মহাসড়কে পাজেরো গাড়ি এবং রেলপথে ট্রেন চালাচ্ছেন নারী। সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যাংক-বীমা, করপোরেট হাউস, সংবাদমাধ্যম—সর্বত্রই নারীর উজ্জ্বল উপস্থিতি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি বিমান ও সেনাবাহিনীতে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ নারী জাগরণে নতুন দিক খুলে দিয়েছিল। এখন বিমানবাহিনীতে নারী প্যারাট্রুপারও রয়েছেন। যুদ্ধবিমানও উড়াচ্ছেন নারী পাইলট। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিতেও যোগ হয়েছে নারী ব্যাটালিয়ন।

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে : দেশে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেতৃত্ব আগের চেয়ে ৭ শতাংশ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১ শতাংশ বেড়েছে। আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০.২৭ শতাংশ নারী, বিএনপির ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী ১২.৮০ শতাংশ।

গার্মেন্ট খাতে নারী শ্রমিক ৮০ শতাংশ : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারে নারীর ভূমিকার প্রশংসা করেছে এশিয়ান ফোরাম অব পার্লামেন্টারিয়ানস অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএফপিপিডি)। গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত নারী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ১১তম সম্মেলনে বাংলাদেশের নিচ থেকে ওপর পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে দেশে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ২,৮০০ কোটি ডলার। এই খাতে নারী শ্রমিক ৮০ শতাংশ।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘আমাদের মায়েরা ও মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে কঠিনকে জয় করে। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীকে আরো ক্ষমতা দিতে হবে। তার জন্য মানসিকতা বদলাতে হবে পুরুষদের। ’

জাতিসংঘে তুলে ধরা হবে পরিস্থিতি : মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আইন ও নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে এই মন্ত্রণালয় মহিলাদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কর্মে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চালু করা হয়েছে ডে কেয়ার সেন্টার ও কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারী উন্নয়নে খ্যাতি পেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে উন্নত বাংলাদেশের স্বীকৃতি।

নারীর ক্ষমতায়ন পর্যালোচনা-সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিশনের ৬১তম সভা হবে আগামী ১৩ থেকে ২৪ মার্চ নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে। এতে বাংলাদেশে নারীর অবস্থা তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী চুমকির নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে ওই সভায়।

জাতিসংঘ ২০৩০ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এই সমতা অর্জিত হবে বলে আশা করছেন প্রতিমন্ত্রী চুমকি।

পেরোতে হবে বাধা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক, সাবেক তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিমের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক কাঠামো ও কুসংস্কারের জন্য নারীরা কর্মী হিসেবে সরব থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ নগণ্য। তাঁর মতে, অবিভক্ত বাংলায় কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, আশির দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা ভূমিকা রেখেছেন। তার পরও নারীকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার মূল্যবোধ বাড়েনি। তা রয়ে গেছে সীমিত পরিসরে। সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণের হার ৭.৬ শতাংশ। উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত এই হার ১ শতাংশ বা তারও কম। বিচারকদের ১০ শতাংশ নারী।

ওই গবেষণা মতে, পুরুষরা দেশের ৯৬ শতাংশ জমির মালিক, বাকি ৪ শতাংশের মালিকানা নারীদের। পার্বত্য অঞ্চলের নারীরা জুম চাষ করলেও ভূমির মালিকানা থেকে তারা বঞ্চিত।

সাদেকা হালিমের মতে, পারিবারিক শ্রমের ব্যবহারিক মূল্য আছে, তার অর্থনৈতিক মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। জিডিপিতেও তা ধরা হয় না। ৬৫ শতাংশ নারী স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়। এ ছাড়া ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক নির্যাতন, ৫৩ শতাংশ অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিপিডির বয়স ২৪ বছর। আমি সিপিডির প্রথম নারী নির্বাহী পরিচালক। আমাদের সময় অফিসিয়াল চাকরি ও গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কম ছিল। যাঁরা যোগ দিতেন তাঁদের অধিকাংশই কর্মজীবনের মাঝামাঝি সংসার-বাচ্চা দেখভালের জন্য চাকরি ছাড়তে বাধ্য হতেন। এখন অনেক মেয়েই ভালো ভালো পেশায় আসছেন। তাঁরা টিকতে পারছেন। পরিবার থেকে অধিকার আদায়েও সাহসিকতা দেখাচ্ছেন। ’

উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) সভানেত্রী নাসরিন আউয়াল মিন্টু বলেন, ১০ বছর আগেও নারী ব্যবসায়ী খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। অধিকাংশই বাবা বা স্বামীর হাত ধরে পারিবারিক ব্যবসায় আসত। এখন দেশের প্রায় সব এলাকায় এমনকি তৃণমূলেও নারী উদ্যোক্তার দেখা পাওয়া যায়।

বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি : স্বাধীনতার পর ৪৫ বছরে রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের একটি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি উপেক্ষিতই ছিল। মুক্তিযুদ্ধে নারীর নির্যাতনকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। নথি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। চার দশক পর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বীরাঙ্গনা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৪৩ বছর পর আমাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য