kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

তোমরাই তো দেশ চালাবে, নিজেদের প্রস্তুত করো

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তোমরাই তো দেশ চালাবে, নিজেদের প্রস্তুত করো

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছোট্ট সোনামণিরা, তোমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। কোনো দিক থেকে আমরা পিছিয়ে থাকব না, আমরা এগিয়ে যাব।

বিশ্বে যেন আমাদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়, আত্মমর্যাদাশীল হয়, সেভাবে আমরা আমাদের দেশকে গড়ব। তোমরাই তো আমাদের মতো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হবে। তোমরাই তো দেশ চালাবে। কাজেই তোমরা নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করো। ’ গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ দেশকে গড়ে তুলব। স্বাধীনতার ৪৫ বছর আজ। আমরা আর পিছিয়ে থাকব না। আমরা এগিয়ে যাব। চলুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে গড়ে তুলি। বিশ্বে কেউ যেন বাংলাদেশকে অবহেলা করতে না পারে, সেভাবে দেশকে গড়ে তুলব। আমরা ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হব। তাই আজকে যারা শিশু, তোমরাও তোমাদের সেভাবে গড়ে তুলবে। আগামী দিনে তোমরাই তো এ দেশের কর্ণধার  হবে। তোমরাই তো এ দেশ পরিচালনা করবে। ’

নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ‘লেখাপড়া শিখতে হবে। অভিভাবকের কথা শুনতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে শুরু করে সব কিছুতে মনোনিবেশ করতে হবে। যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারো। ’

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ভূখণ্ডে আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে সব সময় শোষণ-বঞ্চনার শিকার হতাম। আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারত না। স্কুল ছিল না। কলেজ ছিল না। উচ্চশিক্ষা নিতে পারত না। রোগে চিকিৎসা পেত না। দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারত না। এ দুর্দশার মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষ জীবন যাপন করত। কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন চালাত। আর, যারা শাসক গোষ্ঠী ছিল, তারা এদের শোষণ করত। আমাদের অর্থ-সম্পদ লুট করে নেওয়া হতো। এই অবস্থার প্রতিবাদ করেছিলেন আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। ’

সকাল ৮টার একটু আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মঞ্চে ওঠার পর শিশু-কিশোরদের প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেড কমান্ডার ইসরাত জাহান মিলির নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম প্রদর্শন করা হয়। ৮টা ৩ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হেঁটে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন। সমাবেশ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী ভিআইপি গ্যালারিতে গেলে কুচকাওয়াজ শুরু হয়। রাজধানীর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশু সংগঠন এ কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। শিশু-কিশোরদের কুচকাওয়াজ শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ঘোড় সওয়ার একটি দল প্যারেডে অংশ নেয়।

কুচকাওয়াজের পর সুসজ্জিত গাড়িবহরের মাধ্যমে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি, গ্রামবাংলার সংস্কৃতি, নৌকা ও ডিজিটাল বাংলাদেশের নানা অগ্রগতি প্রদর্শন করা হয়। পরে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ নানা ডিসপ্লে পরিবেশন করে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পক্ষেও নানা ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। সব শেষে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সম্মিলিত প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে এ বছরের জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশ শেষ হয়।

শিশু-কিশোর সমাবেশের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়েও তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।

স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত : মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যের একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একই সঙ্গে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম এবং পাঁচ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ডও অবমুক্ত করেন। গতকাল বিকেলে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করেন এবং বিশেষ সিলমোহরের মাধ্যমে এসব অবমুক্ত করেন। আজ থেকে দেশের সব ডাকঘর থেকে এ স্মারক ডাকটিকিট বিক্রি শুরু হবে।


মন্তব্য