kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি

সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

সাঁওতাল

১। উদ্দীপকটি পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সাদিক ও মাহির দুই ভাই একাদশ শ্রেণির ছাত্র। একদিন সাদিক মাহিরকে বলল, ‘মাহির, জানিস পৃথিবীতে একসময় এমন একটি যুগ ছিল, যে যুগে প্রত্যেকটি গ্রাম বা সংগঠন ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। অর্থাৎ জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য ও উপকরণ গ্রামের মানুষজন নিজেরাই উৎপাদন করত। সে যুগের মানুষ কৃষি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে এবং প্রকৃতিকে বশে আনতে সক্ষম হয়।

ক) ‘হাইডেলবার্গ মানব’ কোন যুগের প্রতিনিধি?

খ) লৌহকে কেন আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকে সাদিক কোন যুগের বর্ণনা দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) তুমি কি মনে করো, বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে সাদিকের বর্ণনাকৃত যুগের অবদান রয়েছে? মূল্যায়ন করো।

উত্তর : ক) ‘হাইডেলবার্গ মানব’ নিম্ন প্রাচীন প্রস্তর যুগের প্রতিনিধি।

খ) লৌহ আধুনিক যুগ সূচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিধায় একে আধুনিক যুগের ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

লৌহের আবিষ্কার মানবসভ্যতার ক্ষেত্রে এক নবদিগন্তের সূচনা করে। ব্রোঞ্জের তুলনায় লৌহ মজবুত ও দামে সস্তা। এর ব্যবহারও সহজসাধ্য। লৌহ কৃষি যন্ত্রপাতিতে এক নবতর বিপ্লব আনে। লোহার যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জমির ফসল আগের তুলনায় বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, শিল্পকলা ও স্থাপত্যশিল্পে লৌহের ব্যাপক ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। আধুনিক যুগে অস্ত্রশিল্প লৌহের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আধুনিক সভ্যতা মূলত লৌহের ওপর নির্ভরশীল। তাই লৌহকে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে সাদিক নব্য প্রস্তর যুগের বর্ণনা দিয়েছে। মূলত প্লাইস্টোসিনের শেষভাগে বা হলোসিনের প্রারম্ভ থেকে খ্রিস্টের জন্মের সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্ব পর্যন্ত নব্য প্রস্তর যুগ। এ যুগের প্রধান আবিষ্কার পশু পালন ও কৃষিকাজ। এ যুগের মানুষ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির নয়; বরং প্রকৃতিকে কিছুটা আয়ত্তে এনে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে শিখেছে। এ যুগের মানুষ শিল্পকলায়ও বেশ অবদান রাখে। তারা তাঁতের কাজ, ঘরবাড়ি নির্মাণ, নৌকা তৈরি, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তৈরি করতে সক্ষম হয়। এ যুগের মানুষই ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময় প্রথার প্রচলন করে।

উদ্দীপকে সাদিক মাহিরকে বলে, পৃথিবীতে একসময় এমন একটি যুগ ছিল, সে যুগে প্রত্যেকটি গ্রাম বা সংগঠন ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য ও উপকরণ গ্রামের মানুষজন নিজেরাই উৎপাদন করত। এ যুগের মানুষ কৃষি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে এবং প্রকৃতিকে বশে আনতে সক্ষম হয়। সাদিকের বক্তব্যে নব্য প্রস্তর যুগের মানুষ কৃষিকাজের সূচনা করে। এ ছাড়া তারা প্রকৃতিকে আয়ত্তে এনে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে।

সুতরাং আমরা বলতে পারি, সাদিক নব্য প্রস্তর যুগের বর্ণনা দিয়েছে।

ঘ) হ্যাঁ, বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে সাদিকের বর্ণনাকৃত যুগের অর্থাৎ নব্য প্রস্তর যুগের অবদান রয়েছে বলে আমি মনে করি।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষেরা খাদ্য সংগ্রহ অর্থনীতির স্থলে খাদ্য উৎপাদন অর্থনীতির সূচনা করে। নব্য প্রস্তর যুগের মানুষরাই প্রথম বীজ বপন, বীজ থেকে গাছ, গাছ থেকে ফসল কাটা এবং তা প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে কৃষিকাজের শুভ সূচনা করে। নব্য প্রস্তর যুগেই প্রথম পশু পালন অর্থনীতির উদ্ভব হয়। পশু শিকারের পাশাপাশি পশু পালনের খাদ্যের নিশ্চয়তা আসে। নব্য প্রস্তর যুগে হাতিয়ারের উন্নতি সাধিত হয়। এসব হাতিয়ারের বিভিন্নতা যেমন ছিল, তেমনি এর মধ্যে প্রকৌশলগত দক্ষতার পরিচয় মেলে। নব্য প্রস্তর যুগে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বয়নশিল্প। এ যুগের মানুষ পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবহারের মাধ্যমে সুসভ্য হতে সক্ষম হয়েছে।

বাসস্থানের নিশ্চয়তা, খাদ্যের সঠিক জোগান, প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুকূল অবস্থা নব্য প্রস্তর যুগের মানুষকে সভ্য জীবন গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। এ যুগেই মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু করে এবং সমাজে পারিবারিক কাঠামো গড়ে ওঠে। নব্য প্রস্তর যুগের সর্বাপেক্ষা বড় আবিষ্কার হলো চাকা। এর ফলে যোগাযোগব্যবস্থায় আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ আগুন জ্বালানো, আগুন দিয়ে খাবার সিদ্ধ করা, আগুন জ্বেলে বন্য পশুকে ভয় দেখানো এবং অস্ত্র তৈরিতে আগুনের ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করে।

অতএব, উদ্দীপকে সাদিকের উল্লিখিত যুগের মানুষ জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যেসব খাদ্য ও উপকরণ উৎপাদন করত তা মূলত নব্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যই বহন করে। তাই আমার মতে, বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে নব্য প্রস্তর যুগের অবদান রয়েছে।

২। উদ্দীপকটি পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সেলিম তার বন্ধুদের নিয়ে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের কিছু এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সেখানে তারা এক বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকদের দেখতে পায়, যাদের চেহারা বিশেষ ধরনের। তাদের মুখমণ্ডল গোলাকৃতির ও সমতল। নাক প্রশস্ত ও চ্যাপ্টা, কপাল ক্ষুদ্রাকৃতির। তারা ওই সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠনের বিশেষ রূপ দেখতে পায়, যা সাধারণ বাঙালির চেয়ে ভিন্ন।

ক) ক্রোম্যাগনন মানব থেকে কোন নৃগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে?

খ) সাঁওতালদের জাতিগত পরিচয় দাও।

গ) উদ্দীপকে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে যে বিশেষ সম্প্রদায়কে দেখা গেছে, তাদের সম্পর্কে যা জান লেখো।

ঘ) তুমি কি মনে করো উক্ত সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠন এবং বাঙালিদের সামাজিক সংগঠনের মধ্যে মিল রয়েছে? যুক্তি উপস্থাপন করো।

উত্তর : ক) ক্রোম্যাগনন মানব থেকে ককেশীয় নৃগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে।

খ) দেহকাঠামোর দিক থেকে সাঁওতালদের বিশুদ্ধ প্রাক-দ্রাবিড় গোষ্ঠীর প্রতিনিধি মনে করা হয়। তবে অস্ট্রেলীয় কৌমগুলোর সঙ্গে সাঁওতালদের বেশ মিল লক্ষ করা যায়। অনেক সময় এদের আদি অস্ট্রেলীয় বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে যে বিশেষ সম্প্রদায়কে দেখা গেছে তা হলো গারো। গারোদের মুখমণ্ডল গোলাকৃতির ও সমতল, নাক প্রশস্ত ও চ্যাপ্টা, কপাল ক্ষুদ্রাকৃতির, যা উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে গারোরা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই জাতিগোষ্ঠীর আদি বাসস্থান ছিল তিব্বত। গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। তারা সাধারণত কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। গারোদের আদি ধর্মের নাম ছিল সাংসারেক। বর্তমানে গারোদের বেশির ভাগ লোক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তাদের শ্রেষ্ঠ উৎসব হলো ওয়ানগালা।

ঘ) গারোদের সামাজিক সংগঠন এবং বাঙালিদের সামাজিক সংগঠনের মধ্যে মিল রয়েছে বলে আমি মনে করি না।

গারো সমাজ মূলত মাতৃসূত্রীয়। তাদের সবচেয়ে বৃহৎ মাতৃসূত্রীয় দল বা গোত্রের নাম চাটচী। গারোদের পাঁচ ধরনের চাটচী গোত্র রয়েছে। প্রতিটি চাটচী গোত্রই বহির্বিবাহ রীতি মেনে চলে। গারো সমাজের মূলে রয়েছে মাহারি বা মাতৃগোত্র পরিচয়। তাদের সামাজিক জীবনে বিশেষত বিয়ে, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির ভোগ-দখল ইত্যাদিতে এই মাহারির গুরুত্ব অপরিসীম।

অন্যদিকে বাঙালিদের সমাজ মূলত পিতৃসূত্রীয়। বংশ-মর্যাদা, উত্তরাধিকার প্রভৃতি পিতার দিক থেকে নির্ধারিত হয়। বাঙালিদের সমাজের গোত্রবিভাগ গারোদের সমাজের মতো নয়। বাঙালিদের মধ্যে অন্তর্বিবাহ ও বহির্বিবাহ উভয় রীতিই প্রচলিত রয়েছে।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গারোদের সামাজিক সংগঠন ও বাঙালিদের সামাজিক সংগঠনের মধ্যে মিল নেই।

৩। উদ্দীপকটি পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

বৃদ্ধ মাতা সালেহা ঠিক বলতে পারেন না পুত্র সিরাজুল কোথায় চাকরি করেন। তবে পুত্রের মুখে শুনেছেন যেখানে সে কাজ করেন, সেখানে কোনো কৃষক নেই, আছে শিল্প শ্রমিক, ড্রাইভার, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা অকৃষি পেশার লোক। সেখানকার মানুষ খুবই ব্যস্ত সময় কাটায়। বিপদে কেউ তেমন এগিয়ে আসে না, তবে সবার পকেটে কমবেশি টাকা-পয়সা আছে।

ক) Leadership শব্দের অর্থ কী?

খ) গ্রাম ও শহরের তুলনামূলক পারিবারিক জীবনের ব্যাখ্যা দাও।

গ) সিরাজুল যে সমাজে বাস করে তার ধারণা ব্যাখ্যা করো।

ঘ) সিরাজুলের সমাজের স্তরবিন্যাস বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) Leadership শব্দের অর্থ নেতৃত্ব।

খ) পরিবারকে কেন্দ্র করে সমাজজীবনের উদ্ভব। তাই সামাজিক দিক বিচার করতে হলে পারিবারিক বিষয়সমূহ বিবেচনা না করলে চলে না। যদিও বর্তমানে গ্রামীণ সমাজে পরিবারের সদস্য সংখ্যা নগরবাসীদের তুলনায় বেশি, তবু বেশির ভাগ পরিবারই এখন নগর সমাজের মতো একক পরিবার। এ দেশের গ্রাম ও শহর উভয় সমাজেই পরিবার হলো পিতৃতান্ত্রিক ও পিতৃসূত্রীয়। এসব পরিবারে নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি কর্তৃত্বের অধিকারী। তবে গ্রামীণ সমাজের তুলনায় নগর সমাজে নারী বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে।

গ) উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে সিরাজুলের বাস শহুরে সমাজে।

শহর ও নগর একই সুতায় গাঁথা। শহর বা নগরের উৎপত্তির সঙ্গে মানুষ তার প্রাচীন গণ্ডি ভেঙে নতুন এক দিগন্তের পথে এগিয়ে যায়। সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নগর বা শহরে জীবন মানুষের আদিম, গতিহীন ও অসহায় জীবনের পরিবর্তনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী। আধুনিক ও তুলনামূলক গতিময় জীবন পদ্ধতির সূচনা করে। সভ্যতার একটি অনিবার্য অনুষঙ্গ নগর বা শহর। আধুনিক বেশির ভাগ সমাজবিজ্ঞানীই শুধু শহুরে সমাজের প্রশংসাই করেনি, তারা শহরে জীবনবিরোধী লেখকদের কঠোর ভাষায় সমালোচনাও করেছেন। তাঁদের মতে, শহর হলো সভ্যতা ও সংস্কৃতির লীলাভূমি। শুধু তাই নয়, শহরের প্রভাবেই মানুষ আজকাল মুক্ত ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারছে। শহর বলতে এমন একটি সীমিত এলাকাকে বোঝায়, যেখানে উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী মোটামুটি স্থায়ীভাবে বসবাস করে এবং কৃষিকাজ ছাড়া অন্যান্য পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।

সিরাজুল যেখানে চাকরি করেন, সেখানে কোনো কৃষক নেই। কিন্তু সেখানে আছে শিল্প শ্রমিক, ড্রাইভার, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা অকৃষি পেশার লোক। সেখানকার মানুষ খুবই ব্যস্ত সময় কাটায়। বিপদে কেউ তেমন এগিয়ে আসে না। তবে সবার পকেটে কমবেশি টাকা-পয়সা আছে।

সুতরাং এর থেকে বোঝা যায় যে বৃদ্ধ মাতা সালেহার পুত্র সিরাজুল শহরে চাকরি করে।

ঘ) সিরাজুল বাস করে শহুরে সমাজে আর শহুরে সমাজে রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক স্তর।

শহর সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি মুখ্য উপাদান হিসেবে বিদ্যমান হলো সম্পত্তি। সম্পত্তি কমবেশির কারণে সমাজে ব্যক্তির স্তরভেদ বিভিন্ন হয়ে থাকে। সম্পত্তির পরিমাণ তথা আয়ভেদে বাংলাদেশের নগরগুলোতে পাঁচটি শ্রেণি লক্ষ করা যায়। যথা—উচ্চবিত্ত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত।

বাংলাদেশের শহুর সমাজে উচ্চবিত্ত বলতে আমলা, শিল্পপতি ও নানা ধরনের বৃহৎ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরই বোঝানো হয়ে থাকে।

উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলো অধিক উপার্জনকারী পেশাজীবীরা। যেমন—বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা প্রকৌশলী, আইন ব্যবসায় ফার্মের মালিক। স্থাপত্য ফার্মের মালিক, বহুজাতিক কম্পানিতে উচ্চ পদে কর্মরত কর্মকর্তা, মাঝারি পুঁজির ব্যবসায়ী ইত্যাদি।

মধ্যবিত্ত বা মধ্য স্তরের জনসমষ্টি, এরা সমাজের এক বড় অংশ, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি হলো সীমিত আয়ের শিক্ষিত চাকরিজীবী। জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তদের বিরাট অংশ পরিণত হচ্ছে নিম্ন শ্রেণিতে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত বলতে তাই স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী, কেরানি, গাড়িচালক বা ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের বোঝায়। নিম্নবিত্ত শ্রেণি বলতে প্রধানত শ্রমজীবী যেমন : শ্রমিক, মজুর, রিকশা বা ভ্যানচালক, ট্যাক্সিচালক, দারোয়ান, পিয়ন ইত্যাদি শ্রেণিকে বুঝিয়ে থাকে।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে সিরাজুল যে সমাজে বাস করে তার অর্থাৎ শহুরে সমাজের সামাজিক স্তর হলো উচ্চবিত্ত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত।

 


মন্তব্য