kalerkantho


এসএসসি প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সৃজনশীল প্রশ্ন

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

            রামিসা তার বাবার কাছ থেকে একটি বই পড়ে জানতে পারে নদ-নদীর মাধ্যমে বিভিন্ন শহর থেকে কিভাবে মানুষ তাদের বাড়িঘরে সহজে পৌঁছতে সক্ষম হয় এবং কম খরচে মানুষ তাদের মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া সে আরো জানতে পারে নদী জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রামিসা বইটি পড়ে নদী ও জীবন সম্পর্কে এ ধরনের অনেক নতুন জ্ঞান অর্জন করে।

            ক) সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎপত্তি কোথায়?

            খ) বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয় কেন?

            গ) উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের যে বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।

            ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘নদী জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে’—বিশ্লেষণ করো।

            উত্তর :

ক)         সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎপত্তি আসামের বরাক নদী নাগা-মনিপুর অঞ্চলে।

খ)         বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদীগুলোই বাংলাদেশের জীবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা ৭০০টির মতো। এ নদীগুলোর মধ্যে প্রধান প্রধান নদী হচ্ছে—পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, কর্ণফুলী, সাঙ্গু প্রভৃতি। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে চিরচেনা ও পরিচিত বেশির ভাগ নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয়, তিব্বত, আসামের বরাক ও লুসাই পাহাড়ে। এগুলো শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। মানুষের যাতায়াত ও পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব নদী জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। আবহমানকাল ধরে এ নদীপথের সাহায্যেই এ দেশের মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা গড়ে তুলেছে। কৃষিকাজে জল সেচের প্রধান উৎস এসব নদ-নদী। দেশের মাছের চাহিদার একটি বিরাট অংশ এ নদীগুলো থেকে সরবরাহ হয়।

 

            বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর এসব নদীর প্রভাব অপরিসীম। তাই বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়।

 

গ)         উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের যে বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে তা হলো নদীপথের যাতায়াত ব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। নদীমাতৃক দেশে যাতায়াত ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নদীগুলোই পালন করছে। যেমন—পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, কর্ণফুলী, সুরমা, কুশিয়ারা, মাতামুহুরী, আত্রাই, মধুমতি, গড়াই ইত্যাদি। নদী যাত্রী পরিবহন সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নদীপথকেই সবাই ব্যস্ততম পথ বলে বিবেচনা করে থাকে। এ দেশে নদীপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ হাজার ৮৩৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৮৬৫ কিলোমিটার সারা বছর নৌচলাচল করে থাকে। বাংলাদেশে নৌপথে নৌকা, লঞ্চ, ট্রলার, স্টিমার ইত্যাদি পরিবহনে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে দেশের মোট বাণিজ্যিক মালামালের অধিকাংশই আনা-নেওয়া করা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

            বর্তমানে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশের প্রায় সব নদীপথেই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে লাখ লাখ টন মালামাল পরিবহন করা হয়। ফলে সব অস্থিতিশীলতার মধ্যেও নির্বিঘ্নে জাহাজ ও নৌযানযোগে চলাচল করা যায়।

            উদ্দীপকে যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নৌপথের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।

 

ঘ)         নদী ও জলপ্রপাতের পানির বেগ ব্যবহার করে টার্বাইন যন্ত্রের সাহায্যে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাকে জলবিদ্যুৎ বলা হয়। এটি নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পদ। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে নদীর গতি পথে বাঁধ দিয়ে পাকিস্তান আমলে প্রথম জলবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়। সবচেয়ে কম খরচে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

 

            বর্তমানে বিশ্বে তেল, গ্যাস ও পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহারের মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। সে তুলনায় জলবিদ্যুতের খরচ অনেক কম। সে কারণে দেশের নদীর পানিসম্পদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক। তবে যে ধরনের পাহাড়ি নদী থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, সে রকম পাহাড়ি নদী দেশে বেশি না থাকলেও উদ্দীপকে উল্লিখিত নদী জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।



মন্তব্য