kalerkantho


এইচএসসি : অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. নিজাম খান, সহযোগী অধ্যাপক, আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ, খুলনা   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সফিক কম্পানির শেয়ার ক্রয় না করে বন্ড ক্রয় করে। তার ধারণা—বন্ড থেকে যেমন সুবিধা পাওয়া যায়, তেমনটি শেয়ার থেকে পাওয়া যায় না। বন্ড থেকে নির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত আয় পাওয়ায় তার এ রকম ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

(ক) রাইট শেয়ার কাকে বলে?

(খ) জিরো কুপন বন্ড ও কুপন বন্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?

(গ) বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়নের সুবিধাগুলো ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটের অবস্থা বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর :

ক. কম্পানির জন্য অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের ক্রয়কৃত শেয়ারের নির্দিষ্ট অনুপাতে যে নতুন শেয়ার ক্রয়ের অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়, তাকে রাইট শেয়ার বলে।

খ) জিরো কুপন বন্ড ও কুপন বন্ডের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে—

১. জিরো কুপন বন্ড তার গায়ে লিখিত মূল্য বা তার চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করা হয়। কিন্তু কুপন বন্ড তার গায়ে লিখিত মূল্যেই বিক্রি করা হয়।

২. জিরো কুপন বন্ডে ক্রয়মূল্য ও পরিশোধ মূল্যের পার্থক্যই হলো বন্ড ক্রেতা তথা ঋণদাতার আয়, অন্যদিকে কুপন বন্ডের গায়ে লিখিত নির্দিষ্ট সুদের হারই হলো বন্ড ক্রেতার আয়।

৩.  জিরো কুপন বন্ড সুদের হারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু কুপন বন্ড সুদের হারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

গ) বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়নে কতগুলো সুবিধা রয়েছে।

১. ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে উচ্চ হারে সুদ প্রদান করতে হয়। এ জন্য কম্পানির উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন করলে কম্পানির খরচ কম হয়; কারণ এ ধরনের ঋণের সুদের হার কম হয় এবং শেয়ারের চেয়ে এটি কম খরচে বিক্রি করা যায়।

২. কম্পানি আইন অনুযায়ী বন্ডের সুদ করবাদযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এই মাধ্যমে অর্থায়ন করলে কম্পানি কর রেয়াত পায়।

৩. বন্ডধারকদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না। তাই তারা কম্পানির ব্যবস্থাপনার ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলে কম্পানি স্বাধীনভাবে তার কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারে।

৪. বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন করলে বন্ডের মালিকদের শেয়ারহোল্ডারদের মতো কারবারের লোকসান বা দায় বহন করতে হয় না।

৫. কখনো শেয়ারবাজার খুব অস্থির হয়ে পড়লে বাজারে শেয়ার গ্রহণযোগ্য হয় না। তখন কম্পানির জন্য বন্ডই তহবিলের উৎস হতে পারে।

৬. কম্পানি গঠনের পর শেয়ারের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সংকুলান না হলে কম্পানি বন্ড বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। এভাবে দেখা যায়, বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন করলে কম্পানি বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারে।

ঘ. বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে কিছু সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশের শেয়ার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ লোকই শেয়ারসংক্রান্ত ন্যূনতম জ্ঞানও রাখে না। তা ছাড়া বিভিন্ন কম্পানি কর্তৃক সময়মতো বার্ষিক সাধারণ সভা না ডাকা, লভ্যাংশ প্রদানে গড়িমসি করা, সঠিক লাভ-ক্ষতির হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ না করা ইত্যাদি কারণে শেয়ারবাজারের ওপর জনগণের আস্থা এক রকম নেই বললেই চলে। এসব ছাড়াও শেয়ারবাজারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও তদারকির জন্য গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (BSEC) তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে না। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার দুইবার ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে ধসের সম্মুখীন হয়েছে। লাখ লাখ  ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়ে ঘরে ফিরেছে। কন্ট্রোলার অব ক্যাপিটাল ইস্যুর সীমিত নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা, শেয়ার মার্কেটে কিছু লোভী দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর চতুর কারসাজি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা, অনুন্নত অবকাঠামো, আমলাতন্ত্র, মূলধনের অভাব ইত্যাদি কারণে শেয়ার মার্কেটে ব্যাপক দরপতন ঘটে। অবশ্য গত দুই বছর থেকে অবস্থার উন্নতি ঘটছে। এখন শেয়ারগুলোর দাম খুব একটা ওঠানামা করে না। শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কাটাতে সরকারও যথেষ্ট তৎপর। এরই মধ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত সব কম্পানির স্পন্সরকে ওই কম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করা এবং কম্পানি পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এসব ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বর্তমানে শেয়ার মার্কেটে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে।


মন্তব্য