kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এইচএসসি : সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

আবুল কালাম আল মাহমুদ, প্রভাষক অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



      নিচের চিত্রটি দেখো ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

     ক. অগবার্নের মতে, সংস্কৃতির ধরনসমূহ কী কী?    

     খ. ‘সংস্কৃতি একটি জীবনপ্রণালী। ’ বুঝিয়ে লেখো।

    

     গ. উদ্দীপকে ‘?’ চিহ্নিত স্থানের ক্ষেত্রে কোন বিজ্ঞানটি যথাযথ? ব্যাখ্যা করো।  

     ঘ. বাংলাদেশে উক্ত বিজ্ঞানের বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত কোন ব্যক্তির অবদান সর্বাধিক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

     উত্তর : ক. অগবার্নের মতে, সংস্কৃতির ধরন দুইভাগে বিভক্ত। যথা—(১) বস্তুগত সংস্কৃতি, (২) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

     খ. সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহনকারী একটি উপাদান। মানুষের দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড চর্চার মাধ্যমে সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। সংকীর্ণ অর্থে সংস্কৃতি বলতে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, শিল্পকলা, কাব্য, নিয়মনীতি, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি বিষয়কে বোঝায়। অর্থাৎ সংস্কৃতি একটি জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট জীবনব্যবস্থা ও জীবনধারণের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দান করে। তাই বলা যায়, সংস্কৃতি একটি জীবনপ্রণালী, যা মানবসমাজ বা মানবজাতির পরিচয় বহন করে।

     গ. উদ্দীপকে ‘?’ চিহ্নিত স্থানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান যথাযথ। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো—

     মানব ইতিহাসে এ পর্যন্ত যত শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে তার কোনোটাই একক প্রচেষ্টায় হয়নি। অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত শাস্ত্রটি সমৃদ্ধ হয়েছে। যদিও প্রথম যিনি আলোচনা শুরু করেন অথবা প্রথম যিনি বিধিবদ্ধভাবে শাস্ত্রটির উল্লেখ করেন, তাকে শাস্ত্রটির জনক বলা হয়। কিন্তু তার মানে মোটেই এই নয় যে, তার একক কৃতিত্বেই শাস্ত্রটির উদ্ভব। যেমন ১৮৩৯ সালে ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁৎ প্রথম ‘সমাজবিজ্ঞান’ শব্দটির ব্যবহার করায় তাকে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও সমৃদ্ধ হওয়ার পেছনে অগাস্ট কোঁতের পূর্বকালীন, সমকালীন এবং পরবর্তীকালীন অনেক সমাজতাত্ত্বিকের অবদান অনস্বীকার্য। যেমন—ইবনে খালদুন, সেন্ট সায়মন, হার্বার্ট স্পেন্সার, এমিল ডুর্খেইম, ডিলফ্রেজ প্যারেটো, কার্ল মেনহেইম, রবার্ট মার্টন, কার্ল মার্ক্স প্রমুখ। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিমের ভূমিকা অগ্রগণ্য হলেও অন্য সমাজতাত্ত্বিক ও বিদ্বান ব্যক্তিদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় মূলত সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ মসৃণতর হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নৃবিজ্ঞানী ক্লড লেভি স্ট্রস, ড. পেরি বেসাইনি, ড. মার্গারেট এলিজাবেথ শে, ড. হাফিজ জায়েদী, অধ্যাপক আফসার উদ্দিন, ড. রঙ্গলাল সেন, অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, ড. অনুপম সেন, অজিত কুমার সেন, এ এফ ইমাম আলী, হাসানুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

     ঘ. বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত এ কে নাজমুল করিমের অবদান সর্বাধিক। নিচে আমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো—

     বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাসে এ কে নাজমুল করিমের নাম চিরভাস্বর। ১৯২১ সালে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ পাঠের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পটভূমিতে পঞ্চাশের দশকে প্রখ্যাত সামাজিক নৃবিজ্ঞানী লেবি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেসকো-বিশেষজ্ঞ মিশন সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন তথা সমাজবিজ্ঞান নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঢাকায় আসে। তার কাছ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইউনেসকোর সাহায্য-সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অজিত কুমার সেন ও নাজমুল করিম। বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে লেভি স্ট্রসের সক্রিয় আগ্রহের ফল হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনেসকোর যৌথ সহযোগিতা ও সাহায্যে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। নবপ্রতিষ্ঠিত এ সমাজবিজ্ঞান বিভাগে তিনি ১৯৫৭ সালের ১৯ আগস্ট খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তী সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রিডার হয়ে বিভাগের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগেই চাকরিরত অবস্থায় সমাজবিজ্ঞানের সাধনে ব্রতী ছিলেন। মূলত অধ্যাপক নাজমুল করিম ও তাঁর ছাত্রছাত্রীদের ঐকান্তিক সাধনার ফলেই এ দেশে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন ও আলোচনা বিস্তৃতি লাভ করে। এদিকে লক্ষ রেখেই অধ্যাপক নাজমুল করিমকে এ দেশে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।


মন্তব্য