kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. আব্দুল কুদ্দুস, প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মোহাম্মদপুর, ঢাকা   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তৃতীয় অধ্যায়

আরোহের প্রকারভেদ

 

উদ্দীপক

মি. মোরশেদ এক কেজি আম কিনে দেখলেন সংখ্যায় পাঁচটি। প্রতিটি আম খেয়ে দেখার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সব কয়টি আম মিষ্টি।

অন্যদিকে মি. ইকবাল একটি ত্রিভুজ এঁকে ছাত্রদের বললেন, এর তিন কোণের পরিমাণ সব ধরনের ত্রিভুজের তিন কোণের পরিমাণের সমান।

ক. আরোহের বস্তুগত ভিত্তি কী কী?

খ. ‘বৈজ্ঞানিক আরোহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষণনির্ভর’—ব্যাখ্যা করো।

গ. মি. ইকবালের কথায় কোন অপ্রকৃত আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মি. মোরশেদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক আরোহের তুলনা করো।

 

উত্তর :

ক. আরোহের বস্তুগত ভিত্তি হচ্ছে পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ।

খ. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। কারণ বৈজ্ঞানিক আরোহের আশ্রয়বাক্যগুলো প্রত্যক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। আর প্রত্যক্ষণ নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ—এই দুইভাবে হতে পারে। তবে নিরীক্ষণের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রত্যক্ষণে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে বেশি, যা পরীক্ষণে থাকে না বা কম থাকে। আর আমরা জানি, বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। তাই বলা যায়, বৈজ্ঞানিক আরোহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষণনির্ভর।

গ. উদ্দীপকের মি. ইকবালের কথায় যুক্তিসাম্যমূলক আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

যে আরোহ প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ বিষয় সম্পর্কে প্রমাণিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে, সমজাতীয় সব বিষয় সম্পর্কে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলে। যেমন—উদ্দীপকের ইকবাল সাহেবের অঙ্কিত চিত্রের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ—শুধু সেই ত্রিভুজের ক্ষেত্রেই নয়, বরং যত ধরনের ত্রিভুজ অঙ্কন করা যায় সব ত্রিভুজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ তিন প্রকার অপ্রকৃত আরোহের অন্যতম। এর বৈশিষ্ট্য হলো—

—এ ধরনের যুক্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে যুক্তির সমতা।

—এ ক্ষেত্রে বাস্তব দৃষ্টান্ত থাকে না বলে নিরীক্ষণের কোনো অবকাশ থাকে না।

—জ্যামিতিতে এটির ব্যবহার হয় বলে একে জ্যামিতিক যুক্তিপদ্ধতিও বলা হয়।

—এ ধরনের যুক্তিতে সংশ্লেষক বাক্য সিদ্ধান্তরূপে অনুমিত হয় না অর্থাৎ কোনো নতুন তথ্য থাকে না।

—যে আশ্রয়বাক্যের ওপর ভিত্তি করে এখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তা মূলত একটি প্রতীক বা জ্যামিতিক চিত্র।

—যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে প্রকৃতপক্ষে আরোহের চেয়ে অবরোহের বৈশিষ্ট্য বেশি বিদ্যমান।

অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের ইকবাল সাহেবের যুক্তিটিতে অপ্রকৃত আরোহ যুক্তিসাম্যমূলক আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে।

ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত মোরশেদ সাহেবের কাজটিতে পূর্ণাঙ্গ আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য রয়েছে; তাই এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহ। কারণ আমরা জানি যে যুক্তি প্রক্রিয়ায় একটি সার্বিক বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সেই বাক্যটি স্থাপন করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। এখানে মোরশেদ সাহেব প্রতিটি আমের স্বাদ পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন তাঁর কেনা পাঁচটি আমের সব কয়টি মিষ্টি। যেহেতু এখানে প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, তাই এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহ।

পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে যেসব পার্থক্য রয়েছে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো—

১. পূর্ণাঙ্গ আরোহ অপ্রকৃত আরোহ অনুমানের একটি প্রকার, অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃত আরোহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকার।

২. পূর্ণাঙ্গ আরোহের প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করতে হয় বলে এতে আরোহমূলক লম্ফ থাকে না। পক্ষান্তরে বৈজ্ঞানিক আরোহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, এতে আরোহমূলক লম্ফ থাকবে।

৩. বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে প্রকৃতির নিয়ম ও কার্যকারণ নীতির অনুসরণ হয়; কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

৪. পূর্ণাঙ্গ আরোহের দৃষ্টান্ত হিসেবে আমরা উদ্দীপকের মোরশেদ সাহেবের ঘটনাটিকে উপস্থাপন করতে পারি, অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, রফিক করিম পিয়াস মরণশীল, অতএব সব মানুষ মরণশীল।

৫. পূর্ণাঙ্গ আরোহের বাস্তব মূল্য খুব সামান্য বা নাই বললেই চলে; কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহ ছাড়া আমাদের বাস্তবজীবন পরিচালনা প্রায় অসম্ভব।

অতএব, আমরা সহজেই বলতে পারি, পূর্ণাঙ্গ আরোহ নামে পূর্ণাঙ্গ হলেও তা প্রকৃত আরোহ নয় আর বৈজ্ঞানিক আরোহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরোহ।


মন্তব্য