kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

পাঠ প্রস্তুতি

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ উত্তরা, ঢাকা   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

এক ছুটিতে সাদিক তার বাবার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন দেখতে গিয়েছিল। আর ঈদের ছুটিতে গিয়েছিল ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে।

এসব দেখার একপর্যায়ে সাদিকের বাবা বললেন, ‘এসব প্রত্নসম্পদ রক্ষা করতে না পারলে আমরা আমাদের অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলব। ’

ক. কত সালে ময়মনসিংহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. উত্তরা গণভবন বলতে কী বোঝো?

গ. ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সাদিকের দেখা জাদুঘরটির ভূমিকা উল্লেখ করো।

ঘ. সাদিকের বাবার উক্তিটির সঙ্গে তুমি কি একমত? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

 

উত্তর :

ক. ১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়।

খ. নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারের প্রাসাদটি উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের নানা জায়গায় জমিদারদের তৈরি অনেক অনুপম সুন্দর প্রাসাদ ও স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছে, এর মধ্যে নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারের প্রাসাদ অন্যতম। এই প্রাসাদ অনুপম স্থাপত্যশৈলীর জন্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্তমানে এটি উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত।    

গ. নিম্নে সাদিকের দেখা জাদুঘরটির ভূমিকা তুলে ধরা হলো :

বাংলাদেশের পুরাকীর্তিগুলো থেকে পাওয়া অনেক প্রত্ন নিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়। এসব প্রত্নসম্পদ দেখে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বেশ কিছু প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দিনাজপুরের মহারাজার ব্যবহার করা দ্রব্য ও হাতির দাঁতের কারুকাজ করা শিল্পদ্রব্য। বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর সংগ্রহ থেকে আনা পোশাক, হাতির দাঁতের নানা কারুকাজ, ঢাল-তলোয়ারও এ জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া এখানে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন জমিদার ও রাজার সিংহাসন এবং ঢাকার নবাবদের ব্যবহৃত কারুকার্যখচিত পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র। সুতরাং ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সাদিকের দেখা জাদুঘরটির ভূমিকা অপরিসীম।

ঘ. উদ্দীপকে সাদিকের বাবার উক্তিটির সঙ্গে আমি একমত। নিম্নে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো :

উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য সোনারগাঁয়ের পানাম এলাকাটি বেছে নেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ভবনগুলোতে ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করা হয়। তবে এদের নির্মাণকলায় মোগল স্থাপত্যেরও প্রভাব রয়েছে। অট্টালিকাগুলো সাজানো হয়েছিল রঙিন মোজাইকে। সরদারবাড়িতে এখন স্থাপিত হয়েছে লোকশিল্প জাদুঘর। এ বাড়ির নির্মাণকাল ১৯০১ সাল এবং এটি তৈরি হয়েছে দুটি প্রাসাদ নিয়ে। একটি করিডর বা লম্বা বারান্দা দিয়ে প্রাসাদ দুটি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দোতলা এই বাড়িতে রয়েছে ৭০টি কক্ষ এবং মোজাইকের নানা কারুকাজে শোভিত হয়েছে সরদারবাড়ি।

সোনারগাঁয়ের বাইরেও বাংলাদেশের নানা জায়গায় জমিদারদের তৈরি কিছু অনুপম সুন্দর প্রাসাদ ও স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছে, যার মধ্যে ময়মনসিংহের শশীলজ একটি। মুক্তাগাছার জমিদাররা এটি তৈরি করেছিলেন। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া বালিয়াটির জমিদারবাড়িও সে রকম আরেকটি চমত্কার স্থাপত্যকর্মের নিদর্শন এবং রংপুরের তাজহাট জমিদারবাড়িও বেশ বিখ্যাত। নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারের প্রাসাদ চমত্কার স্থাপত্যকর্মের জন্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি এখন ‘উত্তরা গণভবন’ নামে পরিচিত। তাজহাট ও নাটোরের দুটি প্রাসাদই বর্তমানে দেশের মূল্যবান স্থাপত্যকীর্তির নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, এসব প্রত্নসম্পদ রক্ষা করতে না পারলে আমরা আমাদের অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলব। উদ্দীপকে সাদিকের বাবার উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।

 

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

রামিসার বাবা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে দৈনিক পত্রিকা পড়েন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষামূলক অংশ সংরক্ষণ করে রামিসাকে পড়তে দেন। বাবা রামিসাকে নেট ব্যবহারের উপযোগী একটি ভালো মোবাইল সেট কিনে দিলেন। মেয়েকে মোবাইল দেওয়ার বিষয়টি তার মা ভালো দৃষ্টিতে নিলেন না।

ক. ই-কমার্স কী?

খ. সামাজিকীকরণের প্রধান উপাদানটি ব্যাখ্যা করো।

গ. সামাজিকীকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত মাধ্যমটির ভূমিকা উল্লেখ করো।

ঘ. রামিসার মায়ের এরূপ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

 

উত্তর

ক. ইলেকট্রনিকস কমার্সকে সংক্ষেপে বলা হয় ই-কমার্স।

খ. সামজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম হচ্ছে পরিবার। পরিবারে বসবাস করতে গিয়ে শিশু পরিবারের সদস্যদের প্রতি আবেগ, অনুভূতি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছদ, ধর্মচর্চা, শিক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে পারিবারিক সংস্কৃতির প্রতিফলন সরাসরি ব্যক্তির ওপর পড়ে। এ জন্যই বলা হয়, সামাজিকীকরণের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী বাহন হচ্ছে পরিবার।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মাধ্যমটি হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। নিচে সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা উল্লেখ করা হলো :

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে সাধারণত তথ্য রাখা ও একে ব্যবহার করার প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়। ইন্টারনেট প্রযুক্তি বর্তমানে দেশ বা দেশের বাইরে এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের যোগাযোগ খুব সহজ করে দিয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভাববিনিময়, পরস্পরের খোঁজখবর নেওয়া কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, চুক্তি ইত্যাদি এখন ঘরে বসেই অল্প সময়ে করা যায়, কিছুদিন আগেও যা ভাবা যেত না। এভাবে ব্যক্তির সামাজিকীকরণে তথ্যপ্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কেননা মানুষ সংবাদপত্র পাঠ করে, রেডিও শোনে এবং টেলিভিশন দেখে নিজের রুচি অনুযায়ী আদর্শ মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে পারে।

উদ্দীপকে রামিসার বাবা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিদিন পেপার পড়েন। বিভিন্ন শিক্ষামূলক পেজ সেভ করে রাখেন এবং রামিসাকে পড়তে দেন। এ কর্মকাণ্ড দ্বারা বোঝা যায়, এটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রামিসার মায়ের এরূপ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আমি একমত। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো :

আধুনিক বিশ্বে এ মাধ্যমগুলো কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত। তবে বিজ্ঞানের অন্য অনেক আবিষ্কারের মতো ইন্টারনেট, ফেসবুক ও টুইটারেরও কিছু মন্দ বা নেতিবাচক দিক আছে।

বর্তমান বিশ্বে ‘সাইবার ক্রাইম’ একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ নিষিদ্ধ পোস্টগুলো বা তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়। এসব মতাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন ধ্বংস করে ফেলে এবং সৃষ্টি করে সন্ত্রাসের। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেকের আপত্তিকর ছবি ফেসবুক বা টুইটারে পোস্ট করা যায়। যার ছবি পোস্ট করা হয়, স্বাভাবিকভাবেই তার সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি সে অনেক সময় আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলে। সাধারণত এ ধরনের অপরাধের শিকার মেয়েরাই বেশি হয়।

সর্বোপরি ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সময় ফেসবুকে কাটানোর ফলে তাদের লেখাপড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়। এমনকি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অনেক ইতিবাচক দিক থাকলেও নেতিবাচক দিকও কম নেই, যে দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সামাজিক বিপর্যয় ঘটে। সে কারণে আমি মনে করি, রামিসার মায়ের মতো অনেক মা-ই এ বয়সে মেয়েকে মোবাইল কিনে দেওয়া ভালো দৃষ্টিতে দেখবেন না।

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

দরিদ্র বাবার অল্প শিক্ষিত ছেলে রাহিল তার এক শিক্ষিত প্রতিবেশীর সাহায্যে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে চলে যায়। সে প্রতি মাসে তার বাবাকে প্রচুর অর্থ পাঠায়, যা তাদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি করে। তার বাবা সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি পোলট্রি খামার গড়ে তোলেন, যেখানে গ্রামের বেশ কিছু লোকের চাকরি হয়েছে।

ক. GDP-এর পূর্ণরূপ কী?

খ. বাংলাদেশের জাতীয় উত্পাদনে শিল্প খাতের অবদান ব্যাখ্যা করো।

গ. রাহিল কিভাবে মানবসম্পদে পরিণত হলো?

ঘ. রাহিলের মতো প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে—তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর

ক. Gross Domestic Production.

খ. বাংলাদেশের শিল্প খাতে উত্পাদন ও আয় বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি। দেশে উত্পাদন বাড়লে জনগণের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব পড়বে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে জাতীয় উত্পাদনে শিল্প খাতের অবদান ছিল ২৯.৯৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, খনিজসম্পদ ও নির্মাণশিল্প প্রভৃতিকে এই খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাতে জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান অনেক বড় হয়। এর ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সূচকে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে থাকবে। সুতরাং বলা যায়, জাতীয় উত্পাদনে শিল্প খাতের অবদান অপরিসীম।

গ. উদ্দীপকের রাহিল যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে মানবসম্পদে পরিণত করেছে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া হলো :

মানুষ তখনই সমাজ বা রাষ্ট্রের শক্তিতে পরিণত হয়, যখন সে সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কিছু করতে পারে। কেউ শারীরিক শ্রম দিয়ে সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য সম্পদ তৈরি বা তাতে সহযোগিতা করতে পারে। কেউ মেধা দিয়ে নতুন নতুন সম্পদ উদ্ভাবন কিংবা তাতে সহযোগিতা করতে পারে। এভাবে যারা মেধা বা শ্রম দিয়ে দেশের কৃষি, সেবাসহ যেকোনো খাতে অবদান রাখে, তাদের দেশের মানবসম্পদ বলা হয়। অদক্ষ মানুষকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে দক্ষ মানুষ বা মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা যায়। একটি দেশের জনসংখ্যা এভাবে জনসম্পদে পরিণত হয়।

বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনশক্তি—অর্থাৎ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে তাতে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এ লক্ষ্যে একটি সুচিন্তিত মানবসম্পদ উন্নয়ননীতি প্রণয়ন ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজকে উদ্যোগী হতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র অন্যতম। দেশের লাখ লাখ অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন পেশায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আত্মকর্মসংস্থানে সক্ষম জনশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। এ ব্যাপারে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো যাতে সবার কাছে সহজলভ্য হয় এবং আরো সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের রাহিল প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যায় এবং বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ পাঠায়, যা দেশের ও পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে তিনি মানবসম্পদে পরিণত হয়েছেন।

ঘ. উদ্দীপকের রাহিলের মতো প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, সে সম্পর্কে নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো :

প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশের নাগরিকদের আয়ের যে অংশ দেশে পাঠানো হয় তাকে রেমিট্যান্স বলা হয়।

প্রবাসীদের আয়কৃত অর্থ বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পরিবারের মানুষদের যেমন আর্থিক ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটায়, তেমনি দেশেরও উন্নয়ন ঘটায়। রেমিট্যান্সের অর্থ দ্বারা দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান হয়, বাসস্থান হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ বিনোদনের ক্ষেত্রেও এ অর্থ ব্যাপক অবদান রাখে।

প্রবাসীদের পরিবার রেমিট্যান্স দ্বারা শিক্ষিত হয়ে সুস্থভাবে জীবন যাপন করে সচ্ছল পরিবারে পরিণত হতে পারে। এভাবে এক এক করে যখন বহু পরিবারের সদস্যরা শিক্ষিত হয়ে ওঠে, তখন এসব পরিবারের মানুষগুলোর জীবনমানের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দেশেরও উন্নয়ন ঘটে। মানব উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। মানব উন্নয়ন সূচকে যখন দেশের মানুষের জীবনমানের ঊর্ধ্বগতি বা উন্নয়ন ঘটে, তখন সেই দেশের উন্নয়ন হয়েছে বলে ধরা হয়।

প্রবাসীদের আয়ের অর্থ কেবল তাদের পরিবারের দ্বারাই দেশের কাজে লাগে তা নয়, তারা তাদের অর্থ সরাসরি বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে সঞ্চয় হিসেবে রেখে দেশের মূলধন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, আবার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে, উন্নয়ন খাতেও বিনিয়োগ করে থাকে। এমনকি কোনো দুর্যোগকালীন অবস্থায় প্রবাসীদের মধ্যে ধনী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিরা দেশে আর্থিক সাহায্য প্রদান করে দেশের উন্নয়নে সাহায্যের হাত বাড়ায়। এভাবে রেমিট্যান্স দিয়ে নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।


মন্তব্য