kalerkantho


এইচএসসি মডেল টেস্ট : বাংলা প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. শহিদুল ইসলাম,প্রভাষক,ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ,খিলগাঁও, ঢাকা   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



এইচএসসি মডেল টেস্ট : বাংলা প্রথম পত্র

মান : ৬০

[প্রদত্ত উদ্দীপকগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। প্রতিটি বিভাগ থেকে দুটি করে মোট ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০ (১+২+৩+৪)। একই প্রশ্নের উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণ দূষণীয়। ]

 

ক বিভাগ (গদ্য)

১।   ডাক্তার সেলিম চৌধুরীর পূর্বপুরুষ ছিলেন জমিদার। এখন তাঁদের সেই জমিদারি নেই এবং ধন-সম্পদও নেই। তাই সাধারণ মানুষের মতোই তিনি জীবন যাপন করেন। নিজের বংশ-গৌরবের কথাও তিনি কখনো প্রকাশ করেন না। তাঁর মেয়ে সেলিনাও একজন ডাক্তার। তাঁর বয়স ৩০ হলেও এখনো তিনি বিয়ে করেননি।

যদিও সমাজের লোকজন এ নিয়ে নানা রকম কথা বলে; কিন্তু এ নিয়ে সেলিনা বা তাঁর বাবার কোনো কষ্ট নেই। বরং দেশ সেবায় সেলিনা নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।    

     ক) ‘অপরিচিতা’ গল্পের কথকের নাম কী?   

     খ) ‘ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই। ’ —কে, কেন এ কথা বলেছে?

     গ) উদ্দীপকের চরিত্র দুটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্র দুটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।   

     ঘ) “উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পে প্রকাশিত হয়েছে সামন্ত ব্যবস্থার ক্ষয়িষ্ণু রূপ। ”—বিশ্লেষণ করো।     

২।    বাংলাদেশের মানুষ বিদেশি পণ্যের নাম শুনলেই তাকে দেশি পণ্যের চেয়ে বেশি সমাদর করে থাকে। তাই বাজার আজ বিদেশি পণ্যে সয়লাব। এর ফলে আমাদের দেশি শিল্প নষ্ট হচ্ছে। আমাদের দেশে যেখানে উন্নতমানের পাট ও বস্ত্র উত্পাদন করা হয়, সেখানে এ দেশের বাজার দখল করেছে বিদেশি কাপড়। অন্যদিকে দেশের অনেক পাটকলেই উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

     ক) ‘কৌপিন’ শব্দের অর্থ কী?

     খ) এন্ডি কাপড় হারিয়ে গেল কেন? বুঝিয়ে দাও।    

     গ) উদ্দীপকে ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কোন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

     ঘ) “উদ্দীপকের চিত্রিত সমস্যা সমাধানে ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে বর্ণিত প্রাবন্ধিকের পরামর্শ কার্যকর ও উপযোগী”—মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।      ৪

৩।    ওরা কারা বুনো দল ঢোকে

     এরই মধ্যে (থামাও থামাও), স্বর্ণশ্যাম বুক ছিঁড়ে

     অস্ত্র হাতে নামে সান্ত্রী কাপুরুষ, অধম রাষ্ট্রের

     রক্ত পতাকা তোলে, কোটি মানুষের সমবায়ী

     সভ্যতার ভাষা এরা রদ করবে ভাবে, মরু-পশু

     মারীর অন্ধতা ঝড়ে হানে অসহায় নরনারী।

     ক) ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কার রচনা? 

     খ) ‘যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে। ’ ব্যাখ্যা করো।

     গ) উদ্দীপকে ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনাটির প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা করো।    

     ঘ) ‘কোটি মানুষের সমবায়ী মুখের ভাষা এরা রদ করবে ভাবে’— ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনার আলোকে পঙিক্তটির যথার্থতা নির্ণয় করো।       

 

খ বিভাগ (পদ্য)

৪।    বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে

     বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে

     দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা

     দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু!

     দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

     ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া

     একটি ধানের শীষের উপরে

     একটি শিশির বিন্দু।

     ক) ‘ঐকতান’ কবিতায় কবি কী কুড়িয়ে আনেন?

     খ) ‘ঐকতান’ কবিতায় কবির মন ক্ষুদ্র এক কোনে জুড়ে থাকে কেন? ব্যাখ্যা করো।   

     গ) উদ্দীপকটি কিভাবে ‘ঐকতান’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, তা তুলে ধরো।    

     ঘ) ‘জ্ঞানের ভাণ্ডার অত্যন্ত বিশাল কিন্তু মানুষের জানার পরিমাণ অতি অল্প। ’ মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘ঐকতান’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।      

৫।    শত বছরে শত সংগ্রাম শেষে

     রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে

     অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।

     তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,

     হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার

     সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?

     গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি

     এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,

     এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’

     ক) ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় হঠাৎ নীলক্ষার নীলে কী দেখা দেয়?   

     খ) ‘স্তব্ধতার দেহ ছিঁড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ?’ পঙিক্তটি ব্যাখ্যা করো।     

     গ) উদ্দীপকের শেষের দুই চরণ ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার কোন দিকটির কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

     ঘ) উদ্দীপকটি ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার মূল ভাবের সঙ্গে কতখানি সাদৃশ্যপূর্ণ? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।  

৬।    রূপসী বাংলাদেশ। এখানে প্রকৃতি তার স্বাভাবিক বিন্যাস ও বৈচিত্র্যে সৌন্দর্যের এক অপরূপ ছবি এঁকেছে। এমন রোদ্রদীপ্ত উজ্জ্বল দিন আর জ্যোত্স্নালোকিত স্নিগ্ধ রাত্রি আর কোথায় পাব? এমন দিগন্তজোড়া শ্যামল শোভা আর ছায়াঘন বনরাজির তুলনা কোথায়? কোথায় মেলে এমন তরঙ্গভঙ্গে উদ্বেল পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, কপোতাক্ষ-কর্ণফুলী, সুরমা-গোমতী অথবা হাকালুকি হাওর, চলন বিল? কোথায় দৃষ্টি কাড়ে কাজলকালো বিল আর দিঘির জলে ফুটে থাকা অযুত শাপলার সৌন্দর্য, বাতাসে দোল খাওয়া সরষে ফুলের ফুলকিমালা?

     ক) গঙ্গাসাগরের বুকে কে থাকে?    

     খ) ‘বিশালাক্ষী দিয়েছিল বর’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?    

     গ) ‘এমন দিগন্তজোড়া শ্যামল শোভা আর ছায়াঘন বনরাজির তুলনা কোথায়?’ উক্তিটি ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার কোন দিকটির দিকে আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়? আলোচনা করো।   

     ঘ) “উদ্দীপকটি যেন ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতারই গদ্যরূপ”—মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।     

 

গ বিভাগ

(উপন্যাস ও নাটক)

৭।    বুড়ো মকবুলের বয়স ষাট। ঘরে তার তিন স্ত্রী। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী শান্ত ও ধীরস্থির হলেও তৃতীয় স্ত্রী টুনি চঞ্চল। ১৮ বছরের তরুণী টুনি সুযোগ পেলেই নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যায়, শাপলা তোলে। কিন্তু বয়সের বিস্তর পার্থক্যের কারণেই স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়াও তেমন ভালো নয়। দুরন্তপনাই টুনির স্বভাব, যা মাঝে মাঝে মকবুলকে কষ্ট দেয়।   

     ক) জমিলাকে পেয়ে রহিমার মনে কী ভাব জাগে?    ১

     খ) ‘জোরে হাইস না বইন, মাইনেষ হুনবো। ’ উক্তিটির প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো।

     গ) উদ্দীপকে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

     ঘ) “উদ্দীপকের টুনি দুরন্ত হলেও সে পুরোপুরি ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলার মতো নয়”—মন্তব্যটির ব্যাখ্যা করো।        

৮।   আব্দুল গণি ও জব্বার ব্যাপারীর মধ্যে যেমন সখ্য আছে, তেমনি একজন অন্যজনের সহযোগী হিসেবেও কাজ করে। পারস্পরিক স্বার্থবোধও কম নয়। তবে আব্দুল গণি জব্বার ব্যাপারীর ওপর প্রভাব খাটাতেও পিছপা হয় না। এমনকি জব্বার ব্যাপারীর স্ত্রীর মরণাপন্ন অবস্থায়ও তাকে ডাক্তারের কাছে পাঠানোর অনুমতি আব্দুল গণির কাছ থেকে মেলেনি। বরং আব্দুল গণির ঝাড়-ফুঁকের ওপরই জব্বারকে নির্ভর করতে হয়েছে।     

     ক) ‘লালসালু’ উপন্যাসে আমেনা বিবির সতীনের নাম কী?    

     খ) ‘বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ। ’ ব্যাখ্যা করো।   

     গ) মানসিকতা বিচারে উদ্দীপকের চরিত্রগুলো ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।       

     ঘ) ‘নিষ্ঠুর মানুষরা শুধু সমাজেই নয়, মানবতারও শত্রু’—উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

৯।    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর বাঙালি জন্মভূমির স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু তাদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় এ দেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী। তারা এ দেশে জন্ম নিয়েও এ দেশের দেশরক্ষার কঠিন শপথ করেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বাঙালি নিধনযজ্ঞে অংশ নেয়।   

     ক) নবাব সিরাজদ্দৌলা কাকে আলীনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন?    

     খ) সিরাজদ্দৌলা একটি দিনের জন্যও সুখে নবাবী করতে পারেননি কেন?     

     গ) উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের যে বিশেষ দিক ইঙ্গিতপূর্ণ তার ব্যাখ্যা দাও।     

     ঘ) ‘দেশদ্রোহী, বেইমান, বিশ্বাসঘাতকরা ইতিহাসে সর্বদা নিন্দিত হয়ে রয়। ’—উদ্দীপক ও ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে উক্তিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।


মন্তব্য