kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

ভাব সম্প্রসারণ

মো. শহিদুল ইসলাম,প্রভাষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ,খিলগাঁও, ঢাকা   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ

মূলভাব : যথার্থ মনুষ্যত্ব বোধসম্পন্ন মানুষের পরিচয় তার ভোগ-লালসার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না, পরের জন্য ত্যাগের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত সুখ নিহিত। নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে যে সুখ, তার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব স্বর্গের অমৃত সুধা।

সম্প্রসারিত ভাব : ষড়রিপুর প্রবল পরাক্রমে মানুষ আত্মসুখে নিমগ্ন হয়। স্বার্থমগ্ন মানুষেরা ভোগ-বিলাসের মাধ্যমে পরিতৃপ্তি পেতে চায়। এতে মানুষের লালসা দিন দিন বাড়তে থাকে। ভোগে শুধু আসক্তিই বাড়ে। মানুষ ক্রমে ক্রমে লালসার গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। আত্মতৃপ্তিতে ভোগে সত্যিকারের আনন্দ নেই। কারণ, ভোগ মানুষকে ত্যাগী হওয়ার পরিবর্তে অহংকারী হতে শেখায়। মানুষকে আলো ঝলমল জগৎ থেকে অমানিশার জগতের দিকে ধাবিত করে। সে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে পঙ্কিলতার সঙ্গে, গ্লানির সঙ্গে এবং কালিমার সঙ্গে।

এর ফলে তার মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয় না; স্থবির হয়ে পড়ে সব চেতনা, ক্রমে ক্রমে তার পবিত্র অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যায়। জীবন চলার বিস্তীর্ণ পথের পরিবর্তে সংকীর্ণ কানাগলিতে সে হাবুডুবু খেতে থাকে। তাদের দিয়ে সমাজের কোনো উপকার সম্ভব নয়। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ মনুষ্য চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায় তার ত্যাগের মধ্যে। নিজের স্বার্থ বড় বলে বিবেচনা না করে পরের উপকারের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে যথার্থ মহানুভবতার পরিচয় দেয়। ত্যাগ মানুষকে বিরাট হৃদয়ের অধিকারী করে। তাই যে যত বেশি ত্যাগ করতে পারে, সে তত বিরাট হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার যোগ্যতা রাখে। ত্যাগী মানুষ নিজের সুখ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেয়, অন্যের দুঃখে প্রকাশ করে চরম সহানুভূতি। তাতেই তার তৃপ্তি বোধ হয়। বৃহত্তর মানবকল্যাণের জন্য নিজের সংকীর্ণ স্বার্থকে বলি দিয়ে পরার্থে জীবনকে বিলিয়ে দিয়ে সে শান্তি অনুভব করে।

মন্তব্য : পৃথিবীর সব মানুষ যদি নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থ নিয়ে ভাবে, তাহলে আমাদের এ মাটির পৃথিবীও হয়ে উঠতে পারে স্বর্গতুল্য। মনুষ্যত্বের যথার্থ বিকাশের জন্য আমাদের ভোগী হওয়ার পরিবর্তে ত্যাগী হওয়া উচিত।

 

মনেরে আজ কহ যে ভালোমন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লও সহজে

মূলভাব : মানব মন ফুলের মতো কোমল। ভালোমন্দ, সুচিন্তা-দুশ্চিন্তা মানব মনকে প্রতিনিয়ত আলোড়িত করে। এর মধ্যে বাস্তবতাকে বরণ করার মাঝেই জীবনের সার্থকতা নিহিত।

সম্প্রসারিত ভাব : জীবন সংগ্রামমুখর। সংগ্রামের মধ্যে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা পরম জয় ও সাফল্য। ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, মঙ্গল-অমঙ্গল, ব্যর্থতা-সাফল্য নিয়েই মানব অস্তিত্ব বিদ্যমান। জীবন চলার পথে বহু বাধা-বিপত্তি জীবনকে স্থবির করে দেয়। জীবনকে পশ্চাত্মুখী করতে, বিফলে পর্যবসিত করতে, অশুভ চিন্তা-চেতনা মনকে ঘিরে রাখে। মনুষ্যত্বকে নষ্ট করে মন্দটাই গ্রহণ করতে শেখায়। মনকে চিন্তাগ্রস্ত না করে বাস্তবতাকে বরণ করা উচিত। সত্য কি মিথ্যা যাচাই না করে জীবনের পাওয়াটাকে মেনে নেওয়া উচিত। অপরাধী তার অপরাধের শাস্তি মাথা পেতে নিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। সত্যই সুন্দর, সত্যই কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক। পশুর জীবনে মুনষ্যত্ব নেই বলেই ভালো-মন্দ দুটোকে গ্রহণ করে। কারণ ভালো-মন্দ বিচারশক্তি কেবল মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। কোনটি সত্য, বাস্তব সেটি বোঝার শক্তি তাদের নেই। কিন্তু মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, বুদ্ধিতে, শক্তিতে মানুষ শ্রেষ্ঠ। জীবনের দুঃখটাকে বাদ দিয়ে সাফল্যটাকে গ্রহণ করার চিন্তা-চেতনা ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই নয়। সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, যেটাই আসুক, বাস্তবটাকে গ্রহণ করা সাফল্য।

মন্তব্য : মন বা আত্মা শরীরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আত্মাকে বাদ দিয়ে যেমন শরীর কল্পনা করা যায় না, তেমনি মঙ্গলকে বাদ দিয়ে অমঙ্গলকে অথবা অমঙ্গলকে বাদ দিয়ে মঙ্গলকে কল্পনা করা যায় না। মনুষ্যত্বকে ঠিক রেখে মনকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব, নিজ ব্যক্তিত্বকে বজায় রাখার দায়িত্ব পরিশুদ্ধ মনের। এ জন্য ভালো কি মন্দ না ভেবেই সম্মুখটাকে গ্রহণ করবে।


মন্তব্য