kalerkantho


ছোটদের খুনখারাবিতে জড়ানো

ঘরে-বাইরে শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করুন

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



খুনের মতো অপরাধে কিশোরদের জড়ানোর ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলছেই। সর্বশেষ রাজধানীতে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে প্রাণ দিতে হয়েছে প্রেমজনিত ঘটনায়। এভাবে অল্প বয়সীদের খুনখারাবিতে জড়ানো সুস্থ সমাজে অকল্পনীয়। এজাতীয় অপরাধকারীদের অনেকেরই নেপথ্যে মাদকাসক্তির প্রভাব থাকে; এ ক্ষেত্রেও অভিযুক্ত সৌরভের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা কারণেই অল্প বয়সীরা অস্বাভাবিক জীবনে ঢুকে পড়ছে। শিশু-কিশোর ও তরুণদের লেখাপড়া, খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখার কথা থাকলেও পরিবার, সমাজ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আদর্শ ভূমিকার অভাবে তারা বেপথু হচ্ছে। সমস্যার শিকড় এতটাই গভীরে, একক কোনো উদ্যোগে সমাধান মিলবে না।

শুধু রাজধানী কেন, দেশের এমন কোনো এলাকা সম্ভবত নেই যেখানে হাত বাড়ালেই ইয়াবা বা অন্য কোনো মাদক মিলবে না। দেশে মাদক প্রবেশ ও চলাচলের পথগুলো চিহ্নিত। মাদকসেবীরাও নিজ নিজ এলাকায় অপরিচিত নয়। কার্যকর কোনো সামাজিক বা প্রশাসনিক উদ্যোগ কি আমাদের আছে বিপথে চলে যাওয়া মুখগুলোকে স্বাভাবিক সুস্থ জীবনে ফেরানোর? মাদক প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতাও মোটা দাগে শনাক্ত করা আছে।

আইন প্রয়োগকারীদের অনেকে নিজেই মাদকবিষয়ক অপরাধ থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষকেও বিচ্ছিন্নতা এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে কোনো সমস্যাতেই প্রয়োজনীয় সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠছে না।

কিশোর অপরাধীরা অল্প বয়সী বলে চেষ্টা করলেই তাদের সংশোধন করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব রয়েছে; রয়েছে সচেতনতার অভাবও। সজীবের খুনি বলে অভিযুক্ত সৌরভ ও তার বন্ধুবান্ধবের মাদকাসক্তির কথা অনেকেই জানে। হয়তো পরিবারেরও অজানা ছিল না। আগেভাগেই সংশোধনের উদ্যোগ নিলে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটত না।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কিংবা ভীতি সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখায় কাজ করে থাকে। সুশাসনের অনুপস্থিতি, অপরাধের ন্যায্য বিচার না হওয়া, অপরাধীদের সমাজে অবাধে বিচরণের সুযোগ, পুলিশের প্রতি অনাস্থাসহ অনেক কারণে আইনের প্রতি আমাদের আনুগত্যের মনোভাব তৈরি হচ্ছে না। খুন করলে জেলে যেতে হবেই, বড় অপরাধ করলে যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড এড়ানো যাবে না—সুশাসনের এই জায়গাটায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই কেউ সহজে অপরাধ করতে সাহস পেত না।

দারিদ্র্য, মা-বাবার দায়িত্বহীন আচরণ, ঘরে-বাইরে সহিংস পরিবেশ—সব কিছুই সুস্থ মানসিক বিকাশে বড় বাধা। যেভাবে দিন দিন কিশোর অপরাধ বাড়ছে, নীতিনির্ধারকদের এ নিয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবতে হবে। অল্প বয়সীদের হাতে মাদক বা অস্ত্র নয়, বই তুলে দিতে হবে; ক্ষতিকর নেশার জগৎ থেকে তাদের ফেরাতে হবে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার আলোর ভুবনে। আর কাজটি করতে হবে অভিভাবকদের এবং যাঁরা সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন।


মন্তব্য