kalerkantho


বোরো চাষ ও খাদ্য নিরাপত্তা

চাষিদের হতাশ না করে পাশে দাঁড়ান

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দেশে বোরোর চাষ ধীরে ধীরে কমে গিয়ে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। জনপ্রিয় জাতের এই ধানের চাষ বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেওয়ার বদলে প্রকারান্তরে নিরুৎসাহ করা হচ্ছে।

এটি নিঃসন্দেহে অদূরদর্শিতা। এই কাজটি যখন সরকারেরই কোনো মহল করে যাচ্ছে, তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না।

বোরো ধানের জন্য বেশি পানি লাগে। সেচ, সার ও কীটনাশকের জন্য খরচ বেশি পড়ে। এ সমস্যায় যেখানে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর কথা, তা না করে তাদের ভুট্টা বা গমজাতীয় ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে খোদ কৃষি মন্ত্রণালয় থেকেই। এই খবরে যৌক্তিক কারণেই বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। তাঁরা বলছেন, দেশের প্রধানতম খাদ্যের সবচেয়ে বেশি জোগানদাতা বোরো ধান। কোনো অজুহাতেই বোরো চাষে লাগাম টানা যাবে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবে গত বছর বোরো মৌসুমে দেশে স্থানীয় জাতসহ সব ধরনের ধানের আবাদ কম হয়েছিল।

এ বছর বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রাই ধরা হয়েছে কম। এদিকে টানা কয়েক বছর বোরো আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক কৃষক ধানি জমি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছে, সেই জমিতে মাছ চাষিরা পুকুর কাটছে। প্রবণতাটি এখনো বিচ্ছিন্ন বলে রক্ষা—সারা দেশে ব্যাপক হারে চাষিরা এদিকে ঝুঁকলে ফসলি জমি কি দ্রুত কমতে শুরু করবে না?

কৃষিভিত্তিক দেশ হওয়ার পরও আমাদের চাষিরা ভালো নেই। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি যেটুকু দেওয়া হয়, তার অনেকটাই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে। সরকারের ধান-চাল ক্রয় কর্মসূচির ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। নজরদারি বাড়ালে সরকারি সুবিধার ‘সিস্টেম লস’ কমবে, বাড়বে ফলন, চাষিরাও ভালো থাকবে। যা করা উচিত তা না করে চাষিদের আমরা বিকল্প দিকে চালিত করছি। খাদ্যে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ ঠিক আছে, কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে বাড়ছে না ফসল উৎপাদন।

ফসলি জমি আর বাড়ার সুযোগ নেই, অথচ জনসংখ্যা বাড়ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে জমিতে ঘরবাড়ি তোলা হচ্ছে, নগরায়ণ ও শিল্পায়নের পেটেও যাচ্ছে অনেক জমি। এখন ফসলি জমি ক্রমেই ধ্বংস করে দিয়ে আমরা কি খাদ্যে আমদানিনির্ভর হওয়ার কথা ভাবব? বোরো ধানে পানি বেশি লাগে, তাহলে জলাধার খননে গুরুত্ব দিচ্ছি না কেন? বাংলাদেশের মৌলিক শস্য ধানের উৎপাদন ব্যাহত হয় এমন যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে হঠকারিতার শামিল। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।


মন্তব্য