kalerkantho


অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি

বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা প্রাইসওয়াটার কুপারসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ক্রয়ক্ষমতা সাম্যের ভিত্তিতে মোট দেশজ উৎপাদনে আগামী এক যুগের মধ্যে বিশ্বের ২৮তম বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে উঠে আসবে বাংলাদেশ। পেছনে ফেলে দেবে নেদারল্যান্ডস, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এর পরের দুই দশকে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও স্পেনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ২৩তম বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করবে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে যেসব দেশ বড় ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ হবে তার অন্যতম। এ সময়ে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় বাড়বে ৪.১ শতাংশ হারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যে অবস্থানে রয়েছে, এই ধারা অব্যাহত রেখে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারলে আগামী দিনগুলোতে তা আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে। গত জানুয়ারি মাসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘দি ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৭-তে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও মিসরের মতো বড় অর্থনীতির দেশকে পেছনে ফেলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। ৭৯টি দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচক বা আইডিআই র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৬ নম্বরে। এর আগে লন্ডনভিত্তিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিএমআই রিসার্চ ভবিষ্যতের শীর্ষ উদীয়মান বাজার হিসেবে যে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করে তারও শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ।

অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করে বিশ্বের এমন সব প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। তার কারণ একটাই, গত কয়েক বছরে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। এত দিন যা ছিল শুধুই কল্পনা, তা এখন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। পদ্মা সেতুই হতে পারে বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম উদাহরণ। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগী ঋণদান সংস্থাগুলোর আস্থা বাড়ছে। তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্পসহ রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্ফীত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে যোগাযোগ অবকাঠামোয়। তারই প্রতিফলন ঘটছে দেশের অর্থনীতিতে। নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে এখন থেকেই সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। যুব ও তরুণ সমাজসহ কর্মক্ষম বিপুল জনগোষ্ঠীর সুবিধা ভোগ করতে হলে বাড়াতে হবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। শ্রমশক্তির উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে মূলধনী বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জোর দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়নে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।


মন্তব্য