kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সম্পদ বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত

দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন করা হোক

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সম্পদ বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। এ জন্য ৩০ লাখ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।

বহু মা-বোনকে ইজ্জত হারাতে হয়েছে। এক কোটি মানুষকে ভারতের শরণার্থী শিবিরে দিন কাটাতে হয়েছে। ভেতরে থাকা কয়েক কোটি মানুষকেও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এ সবকিছুর জন্য দায়ী পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা। খুঁজে খুঁজে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে হত্যা করা, তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া ও সম্পদ লুণ্ঠন এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির মূল হোতাই ছিল সেদিনের রাজাকার-আলবদর বাহিনী। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় বসে সেই স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদররা। নতুনভাবে শুরু করে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার কাজ। কিন্তু বাঙালি জাতিকে তারা স্বাধীনতার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তাই স্বাধীনতার চার দশক পরে হলেও আবার এ দেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আলবদর বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ নেতার দণ্ডও কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু যথাযথ আইনের অভাবে জনদাবি অনুযায়ী তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কাজটি শুরু হয়নি। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে আইন প্রণয়ন করে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন সমাজের নানা স্তরের মানুষ।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একাত্তর সালে সারা জাতি যখন চরম দুঃখকষ্টে দিন কাটাচ্ছে, জীবন বাজি রেখে পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে, তখন রাজাকার-আলবদর ও স্বাধীনতাবিরোধীরা লুটপাট করেছে। অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, মোশতাক-জিয়ার হাত ধরে তারাই আবার ক্ষমতায় বসে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নতুন করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেই সম্পদ ভোগও করেছে। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম, তাদের সেই সম্পদের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অগণিত মানুষের চোখের জল আর বুকের রক্ত। অবিলম্বে তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া দরকার। এ জন্য যে আইন করা হবে, তাতে যেন কোনো ফাঁকফোকর না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়ে যারা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল, তাদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তার জন্যও প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনের সংশোধন করতে হবে। ভবিষ্যতেও স্বাধীনতাবিরোধী বা তাদের উত্তরসূরিরা যেন কোনো ছলছুতোয় সে সম্পত্তি দাবি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাঙালি বীরের জাতি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে যুগে যুগে মীরজাফরের মতো কিছু বিশ্বাসঘাতকও এই মাটিকে কলুষিত করেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মীরজাফর বাংলার মাটিকে কলঙ্কিত করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদেরও এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন থেকে আইন প্রণয়ন করতে হবে। রাষ্ট্রকে সেসব আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলার মাটি কলঙ্কমুক্ত ও কুলাঙ্গারমুক্ত হোক—এমনটাই আমাদের কাম্য।


মন্তব্য