kalerkantho


শিক্ষার্থীদের জন্য বাস

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ফলপ্রসূ হোক

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিক্ষার্থীদের জন্য বাস

শুধু রাজধানীতেই সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে শখানেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েক শ স্কুল-কলেজ রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক লাখ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করে ব্যক্তিগত গাড়িতে। যদি ধরে নেওয়া হয় যে এই সংখ্যা ২৫ হাজার, তাহলে প্রতিদিন ক্লাস সময়ের আগে ও পরে এই পরিমাণ গাড়ি রাস্তায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এর চেয়েও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করে রিকশা বা অটোরিকশায়। সেটিও নির্দিষ্ট সময়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু এসব শিক্ষার্থীর জন্য যদি আলাদা বাসের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে তাদের বেশির ভাগই সেই বাস ব্যবহার করত। এতে শুধু রাস্তার ওপর চাপই কমত না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তাও অনেক বেড়ে যেত। এসব দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা নিরসনে দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি পরিচালিত দুটি স্কুল ও কলেজে নিটল-নিলয় গ্রুপের সাতটি বাস প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি অন্যদেরও এই দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান জানান।

এমনিতেই রাজধানী শহরে যানজট অসহনীয় অবস্থায় চলে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। অফিসগামী যাত্রীদের নাকের পানি চোখের পানি এক হয়ে যায় অফিসের সময় রক্ষা করতে গিয়ে। মুমূর্ষু অনেক রোগী রাস্তায়ই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অ্যাম্বুল্যান্সগুলো একইভাবে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকে। দেশের অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়। প্রতিদিন কয়েক লাখ শ্রমঘণ্টা রাস্তায় নষ্ট হয়। পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হয়। স্বাভাবিকের তুলনায় জ্বালানি খরচ কয়েক গুণ বেশি হয়, যা নিতান্তই অপচয়। এ ছাড়া পরিবেশদূষণ, জনস্বাস্থ্যে তার প্রভাবসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিলে যানজট নাগরিক জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এ থেকে উত্তরণের সহজ উপায় হচ্ছে ব্যক্তিগত পরিবহনের সংখ্যা কমিয়ে গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো, যা উন্নত বিশ্বে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে ঘটছে উল্টোটা। গণপরিবহন না বেড়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। যানবাহনের এই অপরিকল্পিত বৃদ্ধি রোধে কার্যকর কোনো পরিকল্পনাও দেখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বা পিপিপি অনেক ভূমিকা রাখতে পারত, কিন্তু বাস্তবে সেটি কথার মধ্যেই আটকে রয়েছে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে সেই পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

 

উইলস লিটল স্কুলের ছোট্ট শিশু হামিমের কথা আজও মনে পড়ে, কিভাবে এক যন্ত্রদানব তাকে পিষে দিয়েছে। প্রতিদিনই ঢাকাসহ সারা দেশে এমন বহু হামিমকে যন্ত্রদানবরা পিষে মারছে। তাদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী যে সময়োপযোগী আহ্বান জানিয়েছেন, কিভাবে তার বাস্তব রূপ দেওয়া যায় সেটি বিবেচনা করা দরকার। আমরা মনে করি, সরকার, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের বিভিন্ন সংগঠন এ ক্ষেত্রে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে পারে।


মন্তব্য