kalerkantho

দিনযাপন

মাসউদ আহমাদ

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



দিনযাপন

ফাল্গুন শেষ হয়ে গেছে।

বাইরের দুনিয়াটা দুপুরবেলার নির্জন রোদে কেমন ঝিম ধরে আছে।

বাড়িতে রূপুর জামাই ও মেয়ে এসেছে। দিনকয়েক থাকবে। মা-মরা মেয়েটা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অনেকখানি শুকিয়ে গেছে। গাট্টাগোটা শরীর মেয়েটার, কয় দিনে ভেঙে গেছে, চোখে পড়ে।

দুপুরের খাওয়া হয়ে গেলে বিছানায় একটু শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল রূপু। কুসুম এসে বলল, ঘরে কিছু নেই। বাজারে যাও। মরিয়ম আস্যাছে। বাজার করার নামে আবার অন্য কুনু জায়গায়, তাসের আড্ডায় পালিয়্যা বস্যা থাকো না।

রূপু কিছু বলে না। একবার চোখ তুলে তাকায় শুধু।

বউটা এমনিতে ভালো। কুসুম দ্বিতীয় বিয়ের বউ। রূপুর বয়সের প্রায় অর্ধেক বয়স, কিন্তু সংসার যাপনে তা ঢেকে যায় বউয়ের নিজস্ব স্বভাব ও কথার মায়ায়। যখন কোনো কাজ থাকে না বারান্দায় বসে থাকে, কত কথা যে হয় তাদের। রূপু নিজেও অবাক হয়—এত কথাও জমা ছিল গো বুকের ভেতরে? নিজের মনের আকুল করা বুদবুদ মেলে ধরতে অপারগ রূপু, কথাও খুব একটা খুঁজে পায় না। সে হয়তো কিছু বলতে চায়। কথা এসে চুপিসারে উঁকি দেয়। কথা মুখ বাড়ায়। কিন্তু রূপু সেসব কথাকে বাগে আনতে পারে না।

তখন উদাসমুখে রূপু আর একটা বিড়ি ধরায়, নাক-মুখ দিয়ে গলগল করে ধোঁয়া ছাড়ে। ধোঁয়াগুলো অবহেলায় এপাশ-ওপাশ করে শূন্যে উড়তে উড়তে বাতাসে ভেসে যায়।

ঘরের ভেতর ঢুকে কোনো কাজে হাত দেয় কুসুম।

রূপু বলে, শুনছ, ঘরে চাল ভাজা আছে নাকি গো?

কুসুম কথাটা শোনে বা আদৌ শুনতে পায় কি না বোঝা যায় না। বেশ খানিকটা সময় পর চাল ভাজা ঠিকই এসে যায় কাঁসার গোল বাটিতে; কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ আর সরিষার তেল দিয়ে বড় সোয়াদ করে মাখিয়ে সামনে দেয় বউটা।

রূপু বলে, বসো না একটু!

কুসুম বসে। বলে, আজ কী হয়্যাছে তুমার?

একগাল হেসে চাল ভাজা মুখে দেয় রূপু। কিন্তু কোনো জবাব দেয় না। কিছু একটা বলতে চায় কি সে? হাসে রূপু। কিন্তু কোনো কথা বলে না।

কুসুম নরম চোখে তাকায়।

বউয়ের একটা হাত নিজের হাতে নেয় রূপু।

তখন কী যে হয়, অন্য সময় হয়তো মুখ ঝামটা দিয়ে উঠত, কিন্তু এখন সে অন্য মানুষ। বরং মিষ্টি করে হেসে দিয়ে মুখ নামায়। আঁচল দিয়ে স্বামীর মুখটা মুছে দেয়।

বউয়ের আঁচলের ছোঁয়ায় শান্তি অথবা নির্ভরতা পায় রূপু। আর অবারিত শীতল হাওয়া। সে হাসে, লাজুক চোখে তাকায়। বউকে দেখে। কিন্তু মনের কথাটুকু, যদি কোনো কথা থেকে থাকে, তখন আর সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে পারে না। সরলভাবেও নয়।

বউটা শুধায়, আজ কতদূর গেছিলা কাজে?

নাপিতপাড়ায়।

বারান্দার নিচে যে বড় উঠোন, ওপাশে রূপুর মেজো ভাইয়ের ঘর। ভাইয়ের ছোট ছেলেটা বারান্দায় এসে হাফ প্যান্টের ফাঁক গলে নুনু বের করে ভুউউউ বলে হিসু করে দেয়।

কুসুম একটা ধমক দিতে গিয়েও চুপ করে যায়।

রূপু দেখেও দেখে না। বলে, তুমি চোখের সামনে থাইকলে মুনডা ভালো লাগে। আরাম পাই।

আজ রাইতে কী খাবা?

রূপু সে কথা কানে তোলে না। সে চাল ভাজার বাটিটা বউয়ের দিকে ঠেলে দেয়। বউয়ের মুখটা তার খুব ভালো লাগে। তার মুখের ভাষা, তার শরীর, গায়ের গন্ধ; মাঝে মাঝে রূপু কেমন আপ্লুত হয়ে যায়। সাদা-কালো কিংবা ধূসর, কখনো রংহীন জীবনটাই সতেজ ও আনন্দময় লাগে, বউটার কারণে।

কিন্তু যখনই সামান্য অসুস্থ হয় কিংবা জ্বরে পড়ে তখনই সংসারের চাকাটা দেবে যায় রূপুর। কোনো মতেই কাঁধ লাগিয়ে তুলতে পারে না। শক্ত-সামর্থ্য শরীরটা এখন আগের মতো সায় দেয় না। হাঁপিয়ে ওঠে।

আরো খানিক পরে, বেলা পড়ে এলে বিছানা ছাড়ে সে। বাজার করার ব্যাগটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। হাটের পথটুকু সামান্যই। হেঁটে গেলে মিনিট পনেরো লাগতে পারে। ধীরে ধীরে হাটে যায় সে।

হাটবারের দিন, দুপুর হওয়ার আগে থেকেই দোকানদার ও ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই রসুলপুরের হাটে। বিঘা কয়েক জায়গাজুড়ে হাট বসে। সপ্তাহে দুদিন। রবি ও বুধবার। চাল-আটা-তেল-নুন থেকে মিষ্টান্ন, মুদিখানা, হলুদ-মরিচ, মাছ-মাংস—কী না পাওয়া যায় এই হাটে। এক শর বেশি পণ্য পাওয়া যায় এখানে। চালপট্টি, মাছপট্টি, পানপট্টি, নাপিত থেকে শুরু করে কামার, টেইলার্সও বাদ নেই। স্থায়ী দোকান অবশ্য কম। দুটো চায়ের দোকান, মুদিখানার একটা, আর বাকি সব ভাসমান। পাঁচ-সাত গ্রাম দূরের মানুষও কেনা-বেচা করতে আসে এখানে।

হাটের কাছে আসতেই গমগম আওয়াজ পায় রূপু। মনটা অল্প খারাপ হয়ে আসে তার। শোনা যাচ্ছে, হাট নাকি উঠে যাবে। হাটে এসে বা হাটের এই জায়গাটা খুব ভালো লাগে রূপুর। এখান থেকে তার মাঝে মাঝে আয়-রোজগারও হয়। সব শ্রেণির মানুষ আসে হাটে। বড় ভালো লাগে তার। রূপুর মনে হয়, হাট শুধু জিনিসপত্র বিক্রি আর অর্থনৈতিক লেনদেনের জায়গা নয়, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাপন ও সম্পর্কের একটা মিলনমেলাও।

কেমন?

হাটে মানুষ কি শুধু বাজার-সদাই করতে আসে? নতুন-পুরনো বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা হয়। আত্মীয়ের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে সংবাদও পৌঁছে দেওয়াটা কত সহজ। হাটে যেমন উৎপাদিত পণ্য কিংবা অন্যান্য জিনিস বিক্রি করা যায়, ওই টাকায় আবার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ঘরে ফেরা যায়।

বাজার থেকে কী কী কিনতে হবে, বউ মৌখিকভাবে একটা তালিকা বলে দিয়েছে রূপুকে। যেহেতু মেয়ে ও জামাই এসেছে বেড়াতে, রূপু বড় একটা মাছ কেনে। চালের আটা ও গুড় নেয়। অল্প একটু দই আর মিষ্টিও কেনে। পরিকল্পনা মতো সব কিছু কিনতে পারেনি। টাকা ফুরিয়ে গেছে।

পাঁচ টাকার পান কিনে নেয় বউটার জন্য। মাঝেমধ্যে সে পান খায়। পানপট্টি থেকে বেরিয়ে বড়ি কিনবে বলে আবার যায়, মাদারগাছের নিচে, মিষ্টির দোকানের পাশের গলিতে।

কই, আজ কি লোকটা বড়ি নিয়ে আসেনি? ওহ আছে তো, প্রথমে তাকে দেখতে পায়নি সে।

পাঁচ টাকার বড়ি দাও তো।  

১০ টাকার নিচে হবে না ভাই।

কী বুলছ, প্যাঁচ টাকার কইরি তো লিয়ে যাই রে।

পোষায় না ভাই। আগে দিয়্যাছি। এখন পারি ন্যা।

অগত্যা ১০ টাকায় রফা।

বেগুনের ঘণ্টো বা মাছের ভেতর বড়ি ভেজে টুকরো করে ছেড়ে দিলে খেতে স্বাদ হয়। বউ দুবার করে বলে দিয়েছে বড়ি নিয়ে যেতে।

হাট থেকে বেরোনোর মুখে মা-মেয়ের জন্য ১০০ গ্রাম তিলের খাজা নিয়ে নেয় রূপু। তারা খুব পছন্দ করে।

ছেলেটার জন্য কিছু কিনতে হয় না। সে নিজেই দুনিয়ার সব কিছু খেয়ে বেড়ায়, একা। বাড়িতে থাকেও কম। দই-মিষ্টি তো আছেই। খাবে একটু।

হাট থেকে বাড়িতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা হয় রূপুর।

বাড়িতে এসে শোনে, জামাইবাবু চলে গেছে। তার নাকি জরুরি কাজ আছে। না গেলেই নয়।  

জামাই ভরসন্ধ্যায় চলে গেছে, অথচ তার জন্য যত্ন করে এত সদাইপাতি কিনল বোকা লোকটি।

খবরটা শুনে রূপুর মুখটা কী একটু গম্ভীর হয়ে উঠল?

সেদিকে নজর দেয় না কুসুম। মরিয়মকে ডেকে রান্নার আয়োজনে লেগে যায় চুলার পাড়ে।

সমবয়সী না হলেও কুসুমের সঙ্গে মরিয়মের বয়সের পার্থক্য খুব একটা বেশি নয়। তাই খুব বন্ধুতা দুজনের। রূপু টের পায়।

রাতের খাওয়াদাওয়া হয়ে গেলে রূপু একটা বিড়ি ধরিয়ে উঠোন পেরিয়ে বাইরে চলে যায়। হাঁড়ি-পাতিল আর বাসনপত্র গুছিয়ে মা-মেয়ে বারান্দায় বসে। গল্প করে। নিজেদের সংসার ও ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের কথা আলাপ করে।

ক্যানরে মা মরিয়ম, সন্ধ্যার মুখে জামাই কি রাগ করে চলে গ্যালো?

না গো মা, রাগ করবে ক্যানে?

একটা দিন থাকলে তো পারত। তুমার বাপ জামাই আস্যাছে বুলেই তো বাজার করল। মাছ লিয়ে আসল। দই-মিষ্টি আইনল।

তুমরা তো জানো না, জামাই নাইট ডিউটির কাজ করে, কুনুঠি গেলে থাইকতে পারে না।

ওহ। আচ্ছা, তা জামাই মানুষ হিসেবে ক্যামুন?

ভালো।

নেশাটেশা করে নাকি?

না। উসবের মধ্যে নাই। এমনি পান-বিড়ি খায়।

কুসুম একটু সরে আসে মরিয়মের দিকে। গোপন কোনো কথা বলার মতো ফিসফিস করে।

জামাই ভালোবাসে? আদর-সোহাগ করে মা?

হাজার হোক মা-ই তো। যদিও সত্মা। সরাসরি তো আর জিজ্ঞেস করতে পারে না। তাই আকার-ইঙ্গিতে বলা আর কী।

মরিয়মের প্রথম স্বামীটা ছিল অল্প বয়সী। এমনিতে ভালো। চেহারা-সুরত সুন্দর। কিন্তু নেশার ভান করে। ঠিকমতো কাজকাম করে না। বউ পিটায়। সংসারে মন ছিল না। সংসারে মন না থাকলে কি আর বউয়ের কদর বোঝে সেই মানুষ?

দুই তরফে আপস করে ছাড়িয়ে নিয়েছে মরিয়মকে।

মরিয়মের বর্তমান জামাইটা বয়স্ক। দ্বিতীয় বিয়ে। দুজনেরই। কিন্তু লোকটা ভালো। কাজ করে। নেশা-ভাং করে না। সংসারের সব কিছু সে বোঝে, যত্ন নেয়। জগতের সব মানুষ হয়তো সংসার বোঝে না, মন পড়ে থাকে অন্য কোনো বিরান পাথারে।

জামাই খুব ভালোবাসে গো মা। সে খুব ভালো মানুষ। আমাকে গায়ে হাত তুলা তো দূরে থাক, কুনু দিন বকেও না। সময় প্যালেই এটা-ওটা কিনে আনে। বেড়াতে লিয়ে যায়।

কথায় কথা আসে। সময় বয়ে যায়।

তখন হয়তো রাত ১০টা হবে কিংবা সাড়ে ১০টা।

রূপুর টিনের চালে ধপ করে শব্দ হলো। শোনার ভুল ভেবে মা-মেয়ে গল্পে একটু পজ দেয়। আবারও গল্পে মেতে ওঠে। কয়েক মুহূর্ত পর, আবার ঢিল পড়ে চালের ওপর।

চৈত্র মাসের ঢিল তো, চালে পড়ার পর ভেঙে উঠোনে গড়িয়ে পড়ে। খেপে যায় কুসুম—

ওই কুন গুলামের ব্যাটা ঢিল মারে রে? গুলামের ব্যাটা গুলাম। তোর ঘরে কি মা-বহিন নাই?

মরিয়ম কিছু বলে না।

মরিয়মের ভাইটা ঘরেই ছিল। বের হয়ে এসে এদিক-ওদিকে তাকায়। কে রে? কুন শালা ঢিল মারছে? লাঠিটা কই। ইত্যাদি বলে সে উঠোনে নেমে আসে। কিন্তু আর কিছু নয়। বাড়ির বাইরে সে যায় না। রাতের বেলা একা একা যেতে দ্বিধা করে।

কিছুক্ষণ পর আরো একটা ঢিল পড়ে।

মা-মেয়ের কথা থেমে যায়। বিরক্তমুখে বাড়ির প্রবেশ মুখে আর কোনাকাঞ্চিতে তাকায়। কিছু ঠাহর করে উঠতে পারে না।

শাওন গলায় জোর এনে বলে, আবার? দেখি থাম, ঘরের ভেতর থেকি লাঠিটা লিয়ে আসি। কুন শালা ঢিল মারছে? তোখে ঢিল মারা ছুটাছি আমি।

লাইট বের করে আলো জ্বেলে একবার এদিক-ওদিক হেঁটে যায়। জোরে শব্দ করে কথা বলে। কেউ কোনো সাড়া দেয় না। ঢিল মেরে কেউ পালিয়ে গেল—তাও মনে হয় না।

কিছুক্ষণ পর ঢিল পড়া থেমে যায়।

শাওন ফিরে এসে বলে, জিন-পরি মুনে হয় ঢিল মারছে।

কুসুম সে কথায় পাত্তা দেয় না। বলে, তুমার যা কথা। জিন-পরি আসবে কইত্থেকে?

কুসুমের একবার মনে হয়, অনেক দিন পর মরিয়ম বেড়াতে এসেছে, তাই হয়তো কোনো ছেলে ইশারায় তাকে ডাকছে। কিংবা জানান দিচ্ছে। কুসুম হয়তো ল্যাট্টিনে যাওয়ার নাম করে দেখা করে আসতেও পারে।

মনের ভাবনা মনেই রেখে দেয় সে।

কিন্তু ভাবনার সেই আশঙ্কা সত্যি হওয়ারও কোনো সূত্র বা লক্ষণ সত্মা দেখতে পায় না।

একসময় বলে, মরিয়ম, যা মা, শুয়ি পড় গা। রাত হয়ি গেল।

অনেক দিন পর মরিয়মের সঙ্গে গল্প করে মনটা খুব হালকা লাগে কুসুমের। স্বামী-স্ত্রীর নিয়মিত সংসার যাপনের ভেতরে এত কথা সে বলতে পারে না। সুযোগও তেমন হয় না। বেশ কিছুদিন ধরে মনটা কেমন ফাঁকা ও ভারী লাগত কুসুমের। আজ মনের ভেতরে কেমন হালকা, নির্ভার ও আনন্দময় বোধ প্রস্ফুটিত হয়েছে। স্নেহ-যত্নের আতিশয্যে মরিয়মকে বার কয়েক মুখে তুলে খাইয়েও দিয়েছে সে।

ঘরের দরজা বন্ধ করে শুতে না শুতেই টিনের চালে শোঁ শোঁ শব্দ হতে লাগল। বৈশাখ মাস আসার আগেই কি ঝড় শুরু হয়ে গেল? ভারী ও বড় বড় ফোঁটা পড়তে লাগল বৃষ্টির।

রূপু বাইরে থেকে ছুটে এসে ঘরে ঢুকে পড়ল।

কুসুম বলল, যাই দেখি, আখারপাড়ের খড়ি সব ভিজে মুনে হয় একাকার হয়ি গেল।

রূপু চেঁচিয়ে ওঠে, খবরদার, এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাহেরে যাইও না। খড়ি জাহান্নামে যাক। দরজাডা ভালো কর‌্যা বন্ধ কইরি দাও।

কুসুমের মনটা খচ খচ করতে লাগল। উঠোনেই তার রান্নাঘর। কয়েকটা বাঁশের খুঁটি ও কঞ্চি দিয়ে ঘেরা। ওপরে সামান্য খড়ের ছাউনি। এই ঝড়ে টিকবে বলে মনে হয় না। শুকনো খড়িগুলো বারান্দায় এনে আর চুলাটা পলিথিন দিয়ে ভালো করে ঢেকে রাখতে পারলে ভালো হতো। হলো না। স্বামীর ধমক খেয়ে, মনে সংশয় ও চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে গেল।

সকালে যখন ঘুম ভাঙল, দরজা খুলে বাইরে এলো কুসুম। রাতের ঝড় ও বৃষ্টির কী তাণ্ডব বয়ে গেছে, একবার কল্পনা করল শুধু। আন্দাজ করতে পারল না।

সমস্ত উঠোনে গাছের পাতা ও পানি জমে আছে। মানুষ অনেকক্ষণ কান্নার পর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু শুকিয়ে গেলেও একটা চিহ্ন বা রেখা এঁকে যায়, তেমন।

হেঁসেলের খড়ের চালা পড়ে আছে ২০ হাত দূরে। আখায় পানি ঢুকে ভরে আছে। নতুন করে না বানালেই নয়।

নির্জন সকালে বিষণ্ন মনে কুসুম বারান্দায় বসে প্রকৃতির প্রতিশোধ পরখ করতে থাকে।

তখনো বাড়ির কারো ঘুমই ভাঙেনি।


মন্তব্য