kalerkantho


রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টার

দখল আর করুণ দশায় চলছে ভর্তুকিতে

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



দখল আর করুণ দশায় চলছে ভর্তুকিতে

রাজধানীর প্রায় দুই কোটি মানুষের সরকারিভাবে অনুষ্ঠান করার জন্য মাত্র ২৭টি কমিউনিটি সেন্টার। সেই হিসাবে সাত লাখ মানুষের জন্য একটি! তা-ও বুকিং জোটে না, বেশির ভাগই চলছে খুঁড়িয়ে।

বিশাল আয়তন আর নামমাত্র ভাড়া হওয়ার পরও কেন এসব কমিউনিটি সেন্টারে মানুষ আসতে নারাজ? অথচ ব্যক্তিমালিকানায় থাকা ছোট পরিসরের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে উচ্চ ভাড়া পরিশোধ করেও এক মাসের আগে জায়গা পাওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন তোফাজ্জল হোসেন রুবেল

 

রাজধানীর প্রায় দুই কোটি মানুষের সরকারিভাবে অনুষ্ঠান করার জন্য মাত্র ২৭টি কমিউনিটি সেন্টারের সুযোগ রয়েছে। সেই হিসাবে প্রায় সাত লাখ মানুষের জন্য একটি কমিউনিটি সেন্টার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৮টি আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মালিকানধীন ৯টি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। কোনোভাবে টিকে থাকা এই কমিউনিটি সেন্টারগুলো থেকেও সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব আর ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতির জন্য বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের ভরা মৌসুমেও বুকিং আসে না এসব কমিউনিটি সেন্টারে। অথচ ব্যক্তিমালিকানায় থাকা ছোট পরিসরের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে উচ্চ ভাড়া পরিশোধ করেও এক মাসের আগে জায়গা পাওয়া যায় না। বিশাল আয়তন আর নামমাত্র ভাড়া হওয়ার পরও কেন এসব কমিউনিটি সেন্টারে মানুষ আসতে নারাজ—এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তরও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মিলছে না। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দখল আর রাজনৈতিক নেতাদের সভা-সেমিনারের কারণে অনেকে এখানে যেতে আগ্রহী হন না।

এসব কারণে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসিকে বছরে কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়ে চালাতে হচ্ছে এসব কমিউনিটি সেন্টার।

জানা যায়, ডিএসসিসির ৩৩টি ও ডিএনসিসির ১৩টি কমিউিনিটি সেন্টারের নাম রয়েছে কাগজে-কলমে। ডিএসসিসির ৩৩টির মধ্যে ১৮টি চালু আছে। বাকি ১৫টির সাতটি র্যাব-পুলিশ ও সাতটি কাউন্সিলর আর সরকারদলীয় লোকজন এবং একটি ডিএসসিসির কর অঞ্চলের অফিসের দখলে। অন্যদিকে ডিএনসিসির ১৩টির মধ্যে ৯টি কমিউনিটি সেন্টার চালু রয়েছে। বাকি চারটির তিনটি র্যাব আর একটি পুলিশের দখলে থাকায় কোনো অনুষ্ঠান করা যাচ্ছে না। যে কয়টি চালু আছে, সেখানেও দেখা যায় আবর্জনায় ভরা মেঝে, নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্গন্ধ, লাইট ও ফ্যান অকেজো, এসি চলে না, রান্নাঘরে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা। বছরের পর বছর ধরে এসব কমিউনিটি সেন্টারে লোকসান দিয়ে বরাদ্দ থাকা অর্থও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজধানীর একাধিক ব্যক্তিমালিকানার কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এক হাজার থেকে দুই হাজার বর্গফুট আয়তনের হলের ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আবার এলাকাভেদে এই ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত হয়। এই সেন্টারগুলোতে কেউ অনুষ্ঠান করতে চাইলে কমপক্ষে ১৫-২০ দিন আগে বুকিং দিতে হয়। ২৩/৪ খিলজি রোড (মিরপুর রোড), শ্যামলীতে রয়েছে হিলটাউন কমিউনিটি সেন্টার। ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত এই কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপক মো. মকবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, আগামী ২০ দিনের পুরোপুরি বুকিং রয়েছে। প্রায় দুই হাজার বর্গফুটের এ কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়া ৪০ হাজার টাকা; যদিও এখানে সরু সিঁড়ি আর শত শত মানুষের গাড়ি পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গা নেই।

মোহাম্মদপুরে ২/৯ স্যার সৈয়দ রোডে রয়েছে নিউ প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টার। সেখানে গিয়ে কথা হয় ব্যবস্থাপক মো. নূরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় তিন হাজার বর্গফুটের এ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান করতে ভাড়া দিতে হয় ৮০ হাজার টাকা। সেখানে চলতি মাসে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনুষ্ঠান করতে হলে কমপক্ষে এক মাস আগে বুকিং দিতে হবে।

ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলোর যখন এমন কদর, সেখানে দুই সিটি করপোরেশন চালিত বিশাল আকারের কমিউনিটি সেন্টারের খোঁজ নিয়ে দেখা যায় করুণ দশা। কোনোটি মাসে দু-তিনটি আবার কোনোটি একটিও বুকিং পাচ্ছে না।

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত ডিএসসিসির পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে গত দুই মাসে মাত্র ভাড়া হয়েছে আটটি অনুষ্ঠানের। প্রায় ৯ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত তিনতলা এই ভবনের বিশাল হলরুম থাকার পরও বুকিংয়ের দেখা মেলে না। এখানে একটি অনুষ্ঠান করতে দিনের বেলা আট হাজার ৪০০ টাকা আর রাতে আট হাজার ৯০০ টাকা দিতে হয়। অথচ এর সমান আয়তনের ব্যক্তিমালিকানার কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান করতে কমপক্ষে এক লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এই কমিউনিটি সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এ কমিউনিটি সেন্টারটি রাজধানীর খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত। কিন্তু সে অনুযায়ী বুকিং পাচ্ছি না। কোনো মাসে দুটি, কোনো মাসে চারটি—এভাবেই চলছে। শীতের সময় ভেবেছিলাম আশানুরূপ বুকিং পাব, কিন্তু তা হলো না। ’

ডিএসসিসির ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। গত কয়েক মাসে তিন-চারটি বুকিং পেয়েছে। এখানেও সাধারণ মানুষ আসে না। কারণ হিসেবে জানা যায়, কমিউনিটি সেন্টারে কাউন্সিলরের অফিস; এবং মাঝেমধ্যেই পুলিশ দখলে নেয়। কমিউনিটি সেন্টারের সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আফজালুল আজম রেজা বলেন, ‘আমাদের এই সেন্টার পঞ্চায়েত ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম তো আছেই। সব মিলিয়ে আমাদের সেন্টারে লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই কম। ’ এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘আমাদের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে ভালো পরিবেশ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। তাই এগুলো আধুনিকায়ন করে প্রাইভেট কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাজানোর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে ব্যবস্থাপনা আরো ভালো করার বিকল্প নেই। ’

মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের মাজার রোডে কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুটের বিশাল আয়তনের দুটি ফ্লোর নিয়ে ডিএনসিসির কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। বিশাল পার্কিং জোন আর অনেকটাই নান্দনিক এই ভবনে অনুষ্ঠান করা যায় মাত্র আট হাজার টাকায়। কিন্তু সেখানেও সাধারণ মানুষের দেখা পাওয়া যায় না। আর যাঁরা একবার আসেন, তাঁরা অব্যবস্থাপনায় আর দ্বিতীয়বার আসতে চান না। এ বিষয়ে ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা খুব একটা লাভের আশা করি না। স্বল্প ভাড়ায় সেবা দিয়ে থাকি। দিন দিন আমাদের অনুষ্ঠানের সংখ্যা কমে আসছে। তবে আমরা সেবা আরো বাড়িয়ে এসব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের এই সেন্টারগুলো ভাড়া না হওয়ার অন্যতম কারণ সুযোগ-সুবিধার স্বল্পতা ও নিম্নমানের সেবা। সেই সঙ্গে রয়েছে দায়িত্বে থাকা লোকজনের লুটপাট। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারে থাকা শরীরচর্চা কেন্দ্র, কাউন্সিলর কার্যালয়, ইপিআই কেন্দ্র, সংগীত বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সেবা কার্যালয় স্থাপন করে কার্যক্রম চালালেও ইউটিলিটি বিল কোনো প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করে না। ফলে এই বিপুল পরিমাণ বিলের টাকাও করপোরেশনকে গুনতে হয়।

অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ ও র্যাব মাসিক ভাড়ায় সাতটি কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহার করছে। ওয়ারী থানা ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে হাজি আব্দুর রহীম কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলার একাংশ ও চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়ে চলছে। থানাপ্রতি মাসে করপোরেশনকে ৮৮ হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছে। কিন্তু কমিউনিটি সেন্টারের বাকি জায়গাও এখন থানার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে থানাকে বাড়তি জায়গা ছেড়ে দিতে বারবার পত্র দিলেও তা কাজে আসেনি। ডিএসসিসির ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় বংশাল থানা। কর্তৃপক্ষ ডিএসসিসিকে প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা ভাড়া দেয়। সেন্ট্রাল রোড-সংলগ্ন ভূতের গলি কমিউনিটি সেন্টারের তিনতলা ভবনটি মাসিক ৬০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে চলছে কলাবাগান থানার কার্যক্রম। পল্টন কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় পুলিশের কিছু সদস্য থাকেন। ২০০৭ সাল থেকে টিকাটুলীতে মুক্তিযোদ্ধা মুরাদ কমিউনিটি সেন্টারের ভবনটি জুড়ে চলছে র্যাব-৩-এর কার্যালয়। রাজধানীর বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারে থানার পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বসবাস করছেন। সরকারি বেশ কিছু কলোনি থাকায় আজিমপুরে হাজার হাজার পরিবারের বসবাস। সেখানে ডিএসসিসির একটিমাত্র কমিউনিটি সেন্টার ছিল। এটিও এক মাস আগে ডিএসসিসির কর অঞ্চল ৩-এর অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে সেখানেও বিশাল জনগোষ্ঠী সরকারি এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু আমার ওয়ার্ডে থাকা এই কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে আর মানুষ স্বল্প ভাড়ায় অনুষ্ঠান করতে পারবে না। ’

এ ছাড়া অনেক কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে, যেখানে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস আছে। কাউন্সিলরের অফিসের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী বা সমর্থক বিভিন্ন সংগঠনও নিয়মিত বসার জন্য অফিস সাজিয়ে বসেছে। মৌলভীবাজার কমিউনিটি সেন্টারটিতে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড অফিস। যাত্রাবাড়ীর চন্দনকোঠা কমিউনিটি সেন্টারে যুবলীগের একটি কার্যালয় রয়েছে। সেগুনবাগিচা মাল্টিপারপাস কমিউনিটি সেন্টারের ভবনটিতে তৃতীয় তলায় ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস। ২০০৬ সালে ২৩ কাঠা জমির ওপর ডিএসসিসির এই কমিউনিটি সেন্টার গড়ে ওঠে। প্রায় ১০ বছর ধরে এ কমিউনিটি সেন্টার চালু না হওয়ার পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহল। তিনটি ফ্লোরের একটিতে স্থানীয় কাউন্সিলরের অফিস, দুটি ফ্লোরে কমিউনিটি সেন্টার চলার কথা থাকলেও তা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

সরকারি কমিউনিটি সেন্টার নিয়ে জানতে চাইলে নগর পরিল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি মালিকানায় যেসব কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনা করা হয়, সেখানে আকর্ষণীয়ভাবে কিছু করা হয় না। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন তাঁদেরও গাফিলতি রয়েছে। সরকারি কমিউনিটি সেন্টারের পক্ষে কোনো প্রচারণা নেই। রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা আর দায়িত্বে থাকা লোকজনের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে সেখানে কেউ যেতে চাইবে না। অনেক সময় বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা কমিউনিটি সেন্টারের পক্ষে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সরকারিটাকে অচল করে রাখেন। এ ক্ষেত্রে যেগুলো একেবারেই চলে না, তা কিছুটা বেসরকারিভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ’

ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের ডিএনসিসির যেসব কমিউনিটি সেন্টার আছে, তা নান্দনিক করার জন্য সরকারের কাছে অর্থ চাওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে হাত দেব। আর যেগুলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কার্যক্রমে ব্যবহার করছে, তা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করার জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। ’


মন্তব্য