• ই-পেপার

অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলি : নিহত ১; আহত ৩

চীনা বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত

অনলাইন ডেস্ক
চীনা বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্ত
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নতুন একটি তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে, চীনা দাতাদের দেওয়া অর্থ দিয়ে পরিচালিত কিছু বৃত্তি কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কি না।

সোমবার বিচার বিভাগ এই তদন্তের ঘোষণা দেয়। তবে কোন বৃত্তি কর্মসূচি বা কোন দাতাদের দেওয়া অর্থ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এটি হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা ধারাবাহিক ফেডারেল তদন্তের নতুন সংযোজন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন, ভর্তি নীতি এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিভিন্ন বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, হার্ভার্ড বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে যে তথ্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছে, তা পর্যালোচনা করে তাদের মনে হয়েছে, কিছু বৃত্তি কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য হয়ে থাকতে পারে। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

তদন্তের মূল বিষয় হলো, হার্ভার্ডের কিছু চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। বিচার বিভাগের দাবি, কয়েকজন চীনা দাতা এমন শর্ত দিয়ে অর্থ দিয়েছেন, যার সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা পেতে পারেন। বিচার বিভাগের মতে, কোনো বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তা যদি শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ করা হয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। এ বিষয়ে হার্ভার্ড জানিয়েছে, তারা বিচার বিভাগের পাঠানো নোটিশ পর্যালোচনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, তারা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবৈধ বৈষম্য করে না। বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিল্লন বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদিকে ফেডারেল সরকারের অর্থ নিতে পারে না, আবার বিদেশি উৎস থেকে এমন অর্থও নিতে পারে না, যার শর্ত অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন নাগরিকদের বৃত্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা পাওয়া গেলে বিচার বিভাগ তা বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে, লিখিত বিবৃতিতে হার্ভার্ড বলেছে, বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা আইন মেনে চলে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টাইটেল সিক্স আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সময় জাতি, জাতিগত পরিচয় বা জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো অবৈধ বৈষম্য করা হয় না। এদিকে, ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই উপকারী। তিনি বলেন, স্বাভাবিক শিক্ষা ও একাডেমিক বিনিময়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। হার্ভার্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার অনুদান এবং বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে অর্থ পেয়ে থাকে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের বিদেশি অর্থায়নে আরো বেশি স্বচ্ছতা দাবি করে আসছে। প্রশাসনের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী বিদেশি দেশগুলোর অর্থায়ন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে হার্ভার্ড চীনা উৎস থেকে মোট ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার পেয়েছে। আর সব মিলিয়ে বিদেশি উৎস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এই অর্থের মধ্যে কোনটি তদন্তের আওতায় এসেছে তা জানানো হয়নি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এটি সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে শুরু করা আইন মেনে চলার তদন্ত। বাইরের কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়নি। হার্ভার্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরও মার্কিন শিক্ষার্থীদের মতো আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হয়। যদিও ফেডারেল সরকারের অনুদান ও কিছু সরকারি সহায়তা শুধু মার্কিন শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত, তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, হার্ভার্ডের নিজস্ব বৃত্তি ও ক্যাম্পাসে কাজের সুযোগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত।

কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি দাতারা নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা তহবিলও গঠন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অনুদান আসে ২০১৪ সালে। সে সময় চীনের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান সোহো চায়নার সহপ্রতিষ্ঠাতা পান শিই এবং ঝ্যাং শিন হার্ভার্ডকে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন। এই অর্থ বিশেষভাবে চীনা শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই অনুদান তখন চীনের ভেতরেও সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকদের দাবি ছিল, এই অর্থ বিদেশে না দিয়ে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত ছিল। বিচার বিভাগের দাবি, এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, যদি কোনো ব্যক্তিগত অনুদান নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে অন্যদের বাদ দেওয়া হয়, তাহলে তা মার্কিন নাগরিকদের নাগরিক অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিচার বিভাগের ভাষ্য, হার্ভার্ড দাতাদের এমন শর্তযুক্ত অর্থ গ্রহণ করছে এবং সেই শর্ত মেনে সম্ভবত চীনা শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এতে অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা, এমনকি মার্কিন নাগরিকরাও বঞ্চিত হতে পারেন।

এই তদন্ত এমন সময় শুরু হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ও হার্ভার্ডের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ চলছে। উচ্চশিক্ষায় কথিত ‘ওক’ সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং ক্যাম্পাসে অভিযোগ থাকা ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নামে ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের ওপর একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে এক ফেডারেল বিচারক হোয়াইট হাউসকে হার্ভার্ডের জন্য নির্ধারিত শত শত কোটি ডলারের গবেষণা তহবিল বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। তবে এরপরও প্রশাসনের চাপ কমেনি। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ভর্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতি নিয়ে নতুন নতুন তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। সবশেষ শুরু হওয়া এই তদন্তের মাধ্যমে হার্ভার্ডের অর্থায়ন, বৃত্তি নীতি এবং বিদেশি অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চলমান বিরোধ আরো বিস্তৃত হলো।
 

পুলিশের লাঠিচার্জে আহত তরুণী সংকটাপন্ন, দাবি ককরোচ জনতা পার্টির

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের লাঠিচার্জে আহত তরুণী সংকটাপন্ন, দাবি ককরোচ জনতা পার্টির
ছবি : রয়টার্স

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ লাঠিচার্জে আহত এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, নৃশংস লাঠিচার্জে আহত হওয়ার পর এক তরুণী দিল্লির আরএমএল হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনার পর অভিজিৎ দিল্লিতে দলের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে আহত বিক্ষোভকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে এক কিশোরীসহ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, বিক্ষোভকারীদের, বিশেষ করে আহত তরুণীদের যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে না পারায় তিনি দুঃখিত। তিনি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন।

দীপকে লেখেন, ‘আহত সবার কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আপনাদের আরো ভালোভাবে রক্ষা করার জন্য আমার কিছু করা উচিত ছিল। আমরা আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

তিনি আরো দাবি করেন, মিছিল চলাকালে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। যারা আহত হয়েছেন, তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চান বলেও জানান তিনি। তবে দিল্লি পুলিশ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো অনেক তথ্যই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

 

এর আগে আহত বিক্ষোভকারীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত এক তরুণী দিল্লির আরএমএল হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলেও কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে দিল্লি পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পুলিশের ভাষ্য, গীতাঞ্জলি নামে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তার চুল টানা হয়েছে এবং কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়।

পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে কথিত নিট-ইউজি ২০২৬  প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনার পর মঙ্গলবার সংসদ মার্গ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, সোমবারের বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

সিজেপির লিখিত আবেদন গ্রহণ, অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির লিখিত আবেদন গ্রহণ, অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ সরকারের
ছবি : দ্য হিন্দু

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বৈঠকের পর সরকার বিক্ষোভকারীদের তাদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নাড্ডা বলেন, বিক্ষোভকারীদের অনুরোধে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদল একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে।

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) হাজারো সমর্থক দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে পদযাত্রার প্রস্তুতি চলে। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে সিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। 

নাড্ডা বলেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে দিল্লি পুলিশও বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার, সংযম দেখানোর এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি গুজব, ভুল তথ্য ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে এবং জে পি নাড্ডা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

সৌরভ দাস বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’

 

সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিট ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং সাম্প্রতিক সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পোর্টাল সমস্যা ও পরীক্ষার বিলম্বের জন্য দায়ী করেছে। নাড্ডার কাছে দেওয়া চিঠিতে সিজেপি অভিযোগ করেছে, এসব সমস্যার সমাধানে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ।

এর আগে সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ মধ্য দিল্লির উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এলাকায় আগেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল, যা বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে।

তবে আন্দোলন এখনো চলমান রয়েছে। সূত্রের দাবি, যন্তর মন্তর থেকে কাউকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়নি এবং এ ধরনের কিছু খবর সঠিক নয়।

গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটিতে সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল করেন।

সংসদের ভেতরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল, তবে বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেশি নজর কাড়ে। সন্ধ্যার মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকা খালি করা হলেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এখনো কেরালা হাউসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে অনশনের ২৩তম দিনে পৌঁছানো সোনম ওয়াংচুক এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন, পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে তিনি তার অনশন চালিয়ে যাবেন। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও।

বিক্ষোভের সময় সরকার ওই এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। সকালে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে ব্যারিকেড বসানোর দৃশ্যও দেখা যায়। পরে বিক্ষোভকারীরা সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। অনেক বিক্ষোভকারী পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। আরএমএল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সংঘর্ষ-সংশ্লিষ্ট ৬৫টি মেডিকো-লিগ্যাল মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

সিজেপি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পায়। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে জনসংযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং আগে আম আদমি পার্টির (এএপি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দলে কাজ করেছেন।


 

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

জ্বালানি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা প্রধানের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করা এবং অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষার বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের রাজনীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত ড. সৌদ আল-সাতি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত এপ্রিলেও অজিত দোভাল সৌদি আরব সফরে গিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক করেছিলেন। এ ছাড়া বিগত বছরের ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে একটি কূটনৈতিক ভিসা মওকুফ চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের গতি বাড়াতে সাহায্য করছে।

ভারতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস হলো সৌদি আরব। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে বেশ সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লাখ ভারতীয় বসবাস করছেন, যারা দুই দেশের সম্পর্কের একটি বড় জীবন্ত সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতের এই সাম্প্রতিক আলোচনা ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্ককে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলি : নিহত ১; আহত ৩ | কালের কণ্ঠ