• ই-পেপার

যুদ্ধ নয় শান্তি চাইছে তালেবান, নারী স্বাধীনতার কথাও বলছে!

হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করল ভারত

অনলাইন ডেস্ক
হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করল ভারত
ছবি : রয়টার্স

পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রেল যোগাযোগের নতুন যুগে পদার্পণ করল ভারত। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জার্মানি, জাপান, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর পর এবার ভারতও রেল যোগাযোগে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির এলিট ক্লাবে যোগ দিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর রেলওয়ের ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপৎ রুটে চলাচলকারী ১০ কোচের এই ট্রেনটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ বিপরীত ধারায় চলা এই হাইড্রোজেন ট্রেন কোনো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে অনবোর্ড বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে একটি ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াটের প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল, যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। 

ট্রেনের চালক বিদ্যুৎবাহী দুটি পাওয়ার কারের উচ্চ-চাপ সিলিন্ডারে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস বহন করা হয়। এই হাইড্রোজেন যখন ফুয়েল সেলে প্রবেশ করে, তখন একটি প্ল্যাটিনাম অনুঘটকের সাহায্যে হাইড্রোজেনের প্রোটন ও ইলেকট্রন আলাদা হয়ে যায়।

ইলেকট্রনগুলো যখন একটি বাহ্যিক বৈদ্যুতিক সার্কিটের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হয়, তখনই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং তা ট্রেনের ট্র্যাকশন মোটরকে সচল করে। একই সময়ে চারপাশের বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেন হাইড্রোজেন প্রোটন ও ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়। এই সম্পূর্ণ তড়িৎ-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোনো দহন বা ধোঁয়া তৈরি হয় না। 

ফলে ক্ষতিকারক কার্বন নির্গমনের পরিবর্তে উপজাত হিসেবে কেবল জলীয় বাষ্প ও তাপ নির্গত হয়, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত করেছে। ফুয়েল সেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারিতে জমা থাকে, যা ট্রেনটি যখন গতি বাড়ায় তখন অতিরিক্ত শক্তি জোগায় এবং ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুত্পাদন করে সংরক্ষণ করে।

ডিজেলের তুলনায় হাইড্রোজেনের শক্তির ঘনত্ব অনেক বেশি। যেখানে ডিজেলের শক্তির ঘনত্ব প্রতি কেজিতে ৪৩ মেগাজুল, সেখানে হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১২০ মেগাজুল। ফলে এটি কার্বন নির্গমন ছাড়াই উচ্চ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারে। 

এই ট্রেনকে সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন স্টোরেজ এবং রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয়েছে।

রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশনের কারিগরি নির্দেশনায় নির্মিত এই ১০ কোচের ট্রেনটিতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিবেগের নকশায় তৈরি এই ট্রেনটি আপাতত সুরক্ষার স্বার্থে ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চালানো হবে।

জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন এবং সোনিপতের মধ্যে সংযোগকারী এই ট্রেনের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হয়নি। এতে যুক্ত রয়েছে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফ্লেম ডিটেকশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোজেন শাট-অফ মেকানিজম এবং চালকদের জন্য রিয়েল-টাইম হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা।

৬ সেতুতে আঘাতের জবাবে ৬ দেশে ইরানের হামলা

অনলাইন ডেস্ক
৬ সেতুতে আঘাতের জবাবে ৬ দেশে ইরানের হামলা
রয়টার্স ছবি

সাম্প্রতিক দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশে ৬টি সেতুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহীনি। এর জবাবে রাতভর উপসাগরীয় ৬টি দেশে অবিস্থত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, গত ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ৬০ দিনব্যাপী আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন হামলায় ৩৮ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এর মধ্যে কেবল গত রাতের হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান।

প্রতিবেদনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে তারা ইরানের ওপর সর্বশেষ বড় আকারের হামলা সম্পন্ন করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কোথায় হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

অন্যদিকে, ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের অন্তত ৬টি সেতু, একটি রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ৮জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ হরমোজগান প্রদেশে আক্রান্ত ৬টি সেতুর মধ্যে রয়েছে–বন্দর আব্বাসকে খমীর ও লারার সঙ্গে সংযোগকারী গারিভেহ সেতু, লাতিদান গ্রামের কাছের একটি সেতু, কাহুরেস্তান-লার রুটে অবস্থিত দুটি সেতু, বন্দর-ই-খমীর, কেশার ও বন্দর আব্বাসকে সংযোগকারী নির্মাণাধীন একটি সেতু ও খমীর জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু।

ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় বন্দর আব্বাস ও এর আশপাশের গ্রামগুলোর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে, তবে কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার কাজ শুরু হয়েছে।

৬ দেশে হামলা ইরানের হামলা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সংঘাত শুরুর পর ১৩তম দফায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে তারা। শুক্রবার সকালে বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। 

কাতারে শুক্রবার ভোরে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশ কিছু ইরানি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব প্রজেক্টাইল আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশু আহত হয়েছে, সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ওমানের ঘানিম অঞ্চলে একটি মার্কিন এয়ার কন্ট্রোল রাডার এবং হরমুজ প্রণালির জলসীমায় একটি মেরিটাইম কন্ট্রোল রাডার ধ্বংস করেছে। 

যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি ট্যাংকারে অজানা প্রজেক্টাইলের আঘাত হেনেছে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির দাবি, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। এতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রাগার এবং দুটি হাইমার্স সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল লঞ্চার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। 

ইরানের দাবি, ইরানশাহরে তাদের সেনা হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবহরে হামলায় নিহত ৪৫, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির দায় স্বীকার

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান সেনাবহরে হামলায় নিহত ৪৫, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির দায় স্বীকার
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় অন্তত ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলুচিস্তানের অশান্ত মাস্তুং এলাকার কাছে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে।

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি তৃতীয় বড় হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত হতাহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংগঠনের যোদ্ধারা নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়, এর নিরাপত্তা এসকর্ট এবং হামলা শুরুর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বিএলএর বিশেষ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ এই হামলা পরিচালনা করেছে এবং এটিকে একটি সমন্বিত অভিযান বলে উল্লেখ করেন। জিয়ান্দ বেলুচ আরো বলেন, বিবৃতি প্রকাশের সময়ও বিএলএ যোদ্ধা ও পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সমন্বিত জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ সপ্তাহে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় হামলায় ২৭ জন পুলিশ সদস্য এবং লাসবেলায় ১১ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়।

অভিযানটি পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এতে গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমান বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

হামলাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যোদ্ধারা যেন পাকিস্তানি বাহিনীর জবাবে ‘সংযম বা আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া’ আশা না করে।

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হলেও সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ প্রদেশ বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। আন্দোলনকারীরা অধিক রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের আয়ে বৃহত্তর অংশীদারির দাবি জানিয়ে আসছে। 

ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এই প্রদেশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবস্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর গওয়াদার, যা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের আওতায় চীনা বিনিয়োগে উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রচুর খনিজ সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সশস্ত্র সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও প্রদেশটি পরিচিত।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় হামলার ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে হামলার পুরো ঘটনাক্রম পুনর্গঠন, সম্ভাব্য নেতৃত্বগত ব্যর্থতা খতিয়ে দেখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি হামলার জন্য দায়ী ছিল কি না তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় হামলা হয়। এর মধ্যে একটি চালায় বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং বাকি দুটি চালায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ৭ জুলাই টিটিপির একটি হামলা জিম্মি সংকটে রূপ নেয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একটি চেকপোস্ট দখলের পর টিটিপি সদস্যরা জীবিত থাকা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, পরে ওই সব জিম্মিকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৮ জুলাই বেলুচিস্তানের লাসবেলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকার এন-২৫ মহাসড়কের কাছে একটি সেনা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র যোদ্ধারা। এই মহাসড়কটি প্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার জন্য বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-কে দায়ী করে জানায়, এতে একজন জুনিয়র কমিশন্ড কর্মকর্তা (জেসিও) ও ১০ জন সৈন্যসহ মোট ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হন।

তবে বিএলএ ভিন্ন দাবি করে বলেছে, হামলায় তারা ১৭ জন সেনাকে হত্যা করেছে এবং সেনা কনভয় থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে। বিএলএর এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
 

একের পর এক উপসাগরীয় মার্কিন ঘাটিতে ইরানের হামলা

অনলাইন ডেস্ক
একের পর এক উপসাগরীয় মার্কিন ঘাটিতে ইরানের হামলা
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, রাতভর মার্কিন হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার পর এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও অনেক বিমানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।

জর্ডানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইআরজিসি বলেছে, তারা যেন নিজেদের দেশে থাকা ‘আগ্রাসী ও ইসলামবিরোধী মার্কিন স্বার্থের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়।

সিরিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলা

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত একটি মার্কিন বিশেষ কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশাহরে সেনা সদস্যদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে এ বিষয়ে সিরিয়ার সরকার বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, সিরিয়া-জর্ডান-ইরাক সীমান্তবর্তী আল-তানফ ঘাঁটি থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।

ইরাক-কাতার-কুয়েতে হামলা

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর মধ্যে কাতার, কুয়েত ও ইরাকও রয়েছে।

উত্তর ইরাকের ইরবিল ও সুলাইমানিয়া শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরানবিরোধী কুর্দি সংগঠন কোমালাকে লক্ষ্য করে এই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি ইরান।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও তীব্র হচ্ছে সংঘাত

গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের টাওয়ার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। 

যদিও এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চাপ কমাতে অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বান্দার-ই-লেনগেহসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে মার্কিন হামলা হয়েছে। এছাড়াও বন্দর-ই-খামির এলাকায় তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্দর আব্বাসের তাপেহ আল্লাহ আকবর এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেল অবকাঠামোতে হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

এছাড়া ইরানশাহর বিমানবন্দরেও হামলার ফলে স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে। কিশ দ্বীপেও বিমান হামলার পর সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এ পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। শুক্রবারের সর্বশেষ হামলাতেও নতুন করে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

যুদ্ধ নয় শান্তি চাইছে তালেবান, নারী স্বাধীনতার কথাও বলছে! | কালের কণ্ঠ