• ই-পেপার

এক কিশোরীর দুষ্টু টুইট থেকে লঙ্কাকাণ্ড

ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানে, চরম সংকটের সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

অনলাইন ডেস্ক
ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানে, চরম সংকটের সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের
সংগৃহীত ছবি

দুর্বল পানি ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পাকিস্তান দ্রুত একটি বড় ধরনের পানি সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর শত শত কোটি গ্যালন বৃষ্টির পানি ভূগর্ভস্থ জলস্তরে জমা হওয়ার পরিবর্তে সরাসরি নর্দমা ও নদীতে গিয়ে অপচয় হচ্ছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ত্রুটিপূর্ণ পানি ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ দেশটিতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং কংক্রিটের অবকাঠামো বেড়ে যাওয়ার কারণে লাহোর শহরের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ ইয়াসিন জানিয়েছেন, লাহোরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর প্রায় এক থেকে দেড় মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। শহরের ব্যাপক নির্মাণকাজের কারণে মাটি আর বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে শোষণ করতে পারছে না। ফলে বর্ষার বেশিরভাগ পানি মাটির নিচে না গিয়ে নিকাশী ব্যবস্থার মাধ্যমে অপচয় হচ্ছে, যা শহরের বন্যা পরিস্থিতিকেও বাড়িয়ে তুলছে।

এদিকে রুডা-র (রাভি আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) পরিবেশ পরিচালক আবিদ লতিফ সান্ধু সতর্ক করেছেন যে, মাটির ওপরের স্তরের পানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে এখন গভীর জীবাশ্ম পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এই পানির ভাণ্ডারগুলো তৈরি হতে হাজার হাজার বছর সময় লেগেছে, যা মানুষের জীবনকালে স্বাভাবিকভাবে আর পুনরায় উৎপাদন হওয়া সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত শিল্প বর্জ্য, শহরের পয়ঃবর্জ্য ও কৃষি রাসায়নিকের কারণে অবশিষ্ট ভূগর্ভস্থ মিঠা পানিও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এই সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডব্লিউডব্লিউএফ-পাকিস্তান যৌথভাবে ইতিমধ্যে একটি সফল ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ বা বৃষ্টির পানি সংগ্রহের মডেল তৈরি করেছে, যা ফিল্টারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানিকে পুনরায় মাটির নিচে পাঠায়।

পরিবেশবিদরা এই সংকট মোকাবিলায় দেশটির সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রতিটি নতুন আবাসন বা হাউজিং প্রকল্পে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে শহরাঞ্চল জুড়ে গোষ্ঠীভিত্তিক পুনঃপূরণ কূপ নির্মাণের আহ্বান জানান। একই সাথে মাটির গভীর জলস্তর থেকে যত্রতত্র ও অবাধে পানি উত্তোলন কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। সর্বোপরি, পুরো দেশকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে সমগ্র পানিচক্রকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা নীতি’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর ইরানে নতুন মার্কিন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর ইরানে নতুন মার্কিন হামলা
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি বেসামরিক জাহাজে হামলা চালানোর জবাবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এটি চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের তৃতীয় দফার হামলা। তাদের দাবি, আইআরজিসি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি'-তে সরাসরি হামলা চালায়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজটি আর চলতে পারেনি। এ ঘটনায় একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া একটি জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ ছেড়ে অন্য পথে চলার চেষ্টা করেছিল। এ কারণে আইআরজিসি প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়। পরে জাহাজটি নির্দেশ না মানায় সেটির দিকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আইআরজিসি দাবি করেছে, অভিযুক্ত জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার বিভিন্ন যোগাযোগ ও নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ করে অনুমোদিত পথ ছেড়ে অন্য রুটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। বারবার নির্দেশ অমান্য করার পর সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে জাহাজটিকে থামানো হয়। ইরান আরো সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার পর আন্তর্জাতিক সমঝোতা মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই নতুন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ওই বিবৃতি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের সেই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হবে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হামলার শিকার জাহাজের নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে একটি লাইফবোটে আশ্রয় নেন। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়। ওই জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করছিল। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হয়।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমার ভেতরের নির্ধারিত পথই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের একমাত্র নিরাপদ রুট। ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এ পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে কার্যত যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তবে উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী নতুন করে সংলাপ শুরু করতে কাজ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাগুলো ভুলবশত ঘটেছে। এ জন্য তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে- এ কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে। 

এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তার বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা আসে। এর আগে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, এক বিমান হামলায় নিহত হন। গত শুক্রবার তাকে তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হয়।  রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে মোজতবা খামেনি বলেন, প্রতিশোধ নেওয়াই 'জাতির ইচ্ছা'। তিনি বলেন, 'শহীদ নেতার রক্ত এবং দুই যুদ্ধে নিহত সব শহীদের রক্তের প্রতিশোধ আমরা সেই অপরাধীদের কাছ থেকে নেব।' তিনি আরো বলেন, 'এটি কোনো এক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করছে না। আমরা থাকি বা না থাকি, একদিন এই প্রতিশোধ নেওয়া হবেই।'

গত কয়েক দিনে আলি খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া অনেক মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ নিয়ে শনিবার ট্রাম্প কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের 'সব এলাকা গুঁড়িয়ে দেবে এবং ধ্বংস করে ফেলবে।' এদিকে চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' সহ কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে- ইরান সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করেছে। তবে ট্রাম্প এ দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তেহরান নতুন কোনো হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। একই সঙ্গে তিনি অস্বীকার করেন যে ওই গোয়েন্দা তথ্যের উৎস ছিল ইসরায়েল। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'অনেক দিন ধরেই আমি ইরানের হত্যার তালিকার এক নম্বরে আছি।'


 

তিব্বতে চীনের নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বিক্ষোভ, আটক ৩

অনলাইন ডেস্ক
তিব্বতে চীনের নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বিক্ষোভ, আটক ৩
সংগৃহীত ছবি

তিব্বতে চীনের নীতির বিরুদ্ধে এবং তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেনের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো পদক্ষেপের দাবিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্টুডেন্টস ফর অ্যা ফ্রি তিব্বতের (এসএফটি) ৩ সদস্য। তারা সদর দপ্তরের ফটকে নিজেদের শিকল দিয়ে বেঁধে এই প্রতিবাদ জানান।

তিব্বতি সংবাদমাধ্যম ফায়ুলের বরাতে এ তথ্য জানায় এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)। প্রতিবেদনে বলা হয়, লোবগা রাংজেন জাতিসংঘ ভবনের সামনে আত্মাহুতি দেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাংজেনের আত্মাহুতির পর তিব্বতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা উল্লেখযোগ্য বিবৃতি দেয়নি।

যদিও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছিলেন। তবুও তিব্বতি কর্মীদের দাবি, শুধু সমবেদনা জানানো যথেষ্ট নয়।

বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের প্রতি তিব্বতের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া, স্বাধীন তদন্তকারীদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং চীনের বিরুদ্ধে কথিত পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের বিষয়ে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান। এ সময় তিব্বতি সম্প্রদায়ের সমর্থকরাও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘ ভবনের একটি প্রবেশপথ অবরোধ করায় তেনজিন তসেতেন, তসেলা জোকসাং এবং তেনজিন কুনচক নামে ৩ বিক্ষোভকারীকে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে এসএফটির ক্যাম্পেইন পরিচালক তসেলা জোকসাং বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল তিব্বতের পরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চীনের চলমান দমননীতির অভিযোগের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করা।

তার দাবি, চীনা শাসনের প্রতিবাদে গত কয়েক বছরে ১৭০ জনের বেশি তিব্বতি আত্মাহুতি দিয়েছেন।

এছাড়া বিক্ষোভকারীরা ১ জুলাই কার্যকর হওয়া চীনের ‘এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রগ্রেস আইনের’ সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন তিব্বতে একীভূতকরণ নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এর ফলে তিব্বতি শিশুদের মান্দারিন ভাষার আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো, যাযাবর তিব্বতি জনগোষ্ঠীর জীবনধারা পরিবর্তন এবং তিব্বতি ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে দুর্বল করার মতো পদক্ষেপ আরও জোরদার হবে বলে তারা দাবি করেন।

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডেকম্ব হত্যায় নতুন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডেকম্ব হত্যায় নতুন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
ছবি: রয়টার্স

ব্রিটেনের সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী অ্যান উইডেকম্বকে হত্যার ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে সাউথ ইয়র্কশায়ারের একটি ঠিকানা থেকে আটক করা হয়েছে। তিনি একজন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিক এবং বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ব্রিটিশ সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ডেভনের হেটর এলাকায় নিজের বাড়িতে গুরুতর আঘাতসহ মৃত অবস্থায় অ্যান উইডেকম্বকে পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, এর প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।  এর আগে একই ঘটনায় হত্যার সন্দেহে ২৬ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে নিউটন অ্যাবট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ওই এলাকার দূরত্ব প্রায় ১১ মাইল বা ১৮ কিলোমিটার। তবে তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় শনিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, তিনি আর এই মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত নন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে সাউথ ইয়র্কশায়ারের একটি ঠিকানা থেকে আটক করা হয়েছে। স্থানটি ডেভনে উইডেকম্বের বাড়ি থেকে প্রায় ২৭০ মাইল বা ৪৩০ কিলোমিটার দূরে। 


 
ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তারের সময় তাদের সহায়তা করেছে কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং নর্থ ইস্ট এবং সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যাতে এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত বলে মনে হয়। তাই তদন্তের মূল দায়িত্ব এখনও ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের কাছেই রয়েছে। পুলিশ আরো জানিয়েছে, এটি একটি চলমান ও সক্রিয় তদন্ত। তাই তদন্তের স্বার্থে আপাতত আর কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে না। সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়টি অ্যান উইডেকম্বের পরিবারকেও জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

উইডেকম্বের মৃত্যুর পর থেকে পুরো সপ্তাহজুড়ে তার ডেভনের বাড়ির আশপাশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এ সময় ফরেনসিক কর্মকর্তারাও বাড়ির বাইরে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। গত শুক্রবার প্রথম অ্যান উইডেকম্বের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে তার ব্যবস্থাপনা দল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর। এরপর ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল ম্যাট লংম্যান জানান, তদন্তের শুরুতেই সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়েছিল। তবে পরে তারা এমন কোনো তথ্য পাননি, যাতে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ বা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ফলে সন্ত্রাসবাদের সম্ভাবনা বাতিল করা হয়েছে। শনিবার ম্যাট লংম্যান বলেন, তদন্তের স্বার্থে আপাতত কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনা, সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তিনি বলেন, এসব তথ্য আগেভাগে প্রকাশ করা হলে চলমান তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অ্যান উইডেকম্বের রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ। তিনি ১৯৮৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কেন্টের মেইডস্টোন আসনের কনজারভেটিভ দলের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের সরকারে তিনি কর্মসংস্থান, কারাগার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভদের পরাজয়ের পর তিনি ছায়া স্বাস্থ্য সচিব এবং ছায়া স্বরাষ্ট্র সচিবসহ দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পার্লামেন্ট ছাড়ার পর ২০১০ সালে তিনি বিবিসির জনপ্রিয় নৃত্যভিত্তিক অনুষ্ঠান 'স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিং'-এ অংশ নেন। পরে ২০১৮ সালে 'সেলিব্রিটি বিগ ব্রাদার' অনুষ্ঠানে রানারআপ হন। ২০১৯ সালে তিনি ব্রেক্সিট পার্টিতে যোগ দেন। একই বছর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালে তিনি রিফর্ম ইউকে দলে যোগ দেন। সেখানে তিনি অভিবাসন ও বিচারবিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উল্লেখ্য, গত এক দশকে দায়িত্বে থাকা দুইজন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য হত্যার শিকার হয়েছেন। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট প্রচারের সময় লেবার পার্টির এমপি জো কক্সকে নাৎসি মতাদর্শে প্রভাবিত এক ব্যক্তি গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। এরপর ২০২১ সালে কনজারভেটিভ দলের এমপি ডেভিড অ্যামেসকে আইএস-অনুপ্রাণিত এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
 

এক কিশোরীর দুষ্টু টুইট থেকে লঙ্কাকাণ্ড | কালের কণ্ঠ