kalerkantho


ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ ও আগামী সংসদ নির্বাচন

আবদুল মান্নান

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ ও আগামী সংসদ নির্বাচন

বিভিন্ন আলামত থেকে এটি ধরে নেওয়া যায় যে বাংলাদেশে একাদশ সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশে পঁচাত্তর-পরবর্তীকালে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই দুই ধরনের খেলা শুরু হয়। প্রথমটি প্রকাশ্যে, দৃশ্যমান; আর দ্বিতীয়টি পর্দার অন্তরালে। যখন কোনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূত অযাচিতভাবে নির্বাচন নিয়ে নসিহত করা শুরু করেন, তখন ধরে নেওয়া যায় যে পর্দার অন্তরালের খেলা শুরু হয়ে গেছে। এই কাজ অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে শুরু করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ২০০৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিসের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন টিউসডে ক্লাব নামের কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূত।

২০০৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিউটেনিস বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু সেটি হলে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের পছন্দসই সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সেই সরকারের প্রধান না-ও হতে পারতেন। সেই ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের পছন্দসই একজনকে নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান বানানোর জন্য বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার বয়স দুই বছর বাড়িয়ে বিএনপির একসময়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বিচারপতি হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান বানানোর সব ব্যবস্থা করে এনেছিলেন চারদলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ কাজটি তিনি ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসেই সংসদে একটি বিল এনে বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার বয়স বাড়িয়ে করে নিয়েছিলেন। তখন কিন্তু আওয়ামী লীগ বিষয়টি ঠিক বুঝতে পারেনি।

নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি আর একটি কাজ করেছিল, আর তা হচ্ছে ভোটার তালিকায় দেড় কোটি ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা। পরবর্তীকালে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আওয়ামী লীগ এই নীলনকশার নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিল। সেই পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগকে পা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো দু-একটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন; তবে তাঁরা সফল হতে পারেননি। সে সময় জাতিসংঘও চাইছিল, যেকোনো উপায়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসুক। তাদের সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হলে ক্ষমতা দখল করে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন গং।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অর্থই হচ্ছে আওয়ামী লীগ বনাম অন্যান্য। সামনের নির্বচানকে কেন্দ্র করে এই অন্যান্যের সংখ্যা আর কর্মকাণ্ড বহু গুণ বেড়েছে। কিছুদিন আগে কিছু তামাদি রাজনীতিবিদ ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে ‘সামনের নির্বাচনে নৌকাকে ফেলে দিতে হবে’ স্লোগান দিয়ে একটি অসাড় রাজনৈতিক ফ্রন্টের জন্ম দিয়েছে। এই ফ্রন্টের দু-একজন বর্ষীয়ান নেতা ‘গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার’ করতে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার ডাক দেন। ডাক দিয়ে এই নেতাদের কেউ কেউ কিছুদিনের জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। এঁদের নিয়মিত ইন্ধন জোগান কিছু বামপন্থী রাজনৈতিক দল আর সুধীসমাজের কিছু চেনা মুখ। বাংলাদেশ সুধীসমাজের অন্তর্ভুক্ত হতে শুধু একটি বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন। তা হচ্ছে কারণে-অকারণে আওয়ামী লীগের তুমুল সমালোচনা করতে হবে। এই সুধীদের আবার প্রমোট করে দেশের কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়া। সেদিন এক জনপ্রিয় বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক শোতে এমন একজন স্বঘোষিত বামপন্থী সুধীকে অংশ নিতে দেখা গেল, যিনি ঢাকা শহরের মেয়র নির্বাচনে দুই হাজার ভোট পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগবিরোধী অন্যান্যের মধ্যে আছে দেশের দু-একটি বহুল প্রচারিত প্রিন্ট মিডিয়া। এসব মিডিয়ার খবর পড়লে মনে হতে পারে বাংলাদেশ নামের দেশটা এই মুহূর্তে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যেমন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরের দিন তাদের একজন ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি তাঁর পত্রিকায় লিখলেন, ‘বুথের বাইরে সব ঠিকঠাক, ভেতরে কী জানি হচ্ছে।’ সেই নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে অনিয়ম হলে নির্বাচন কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করে দেয়। এই মিডিয়াগুলোতে ঘুরেফিরে এই ভোটকেন্দ্রগুলোই সংবাদ শিরোনাম হতে দেখা গেল কয়েক দিন।

নির্বাচন আসন্ন হলে আর সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে, দেশের বেশ কিছু গোষ্ঠী ও দল নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করে। কেউ শহীদ মিনারে আমরণ অনশনের শয্যা পাতে; কেউ কেউ আবার রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে শহরের মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। আর এদের নিরবচ্ছিন্নভাবে সমর্থন জোগায় উল্লিখিত মিডিয়া হাউসগুলো। তবে এ সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগে বানের পানির মতো জামায়াত, বিএনপি আর আওয়ামী লীগবিরোধীদের ঢালাও অনুপ্রবেশ। এই অনুপ্রবেশকারীরা দলের ভেতরে থেকে বিভিন্ন ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং এদের দাপটে দলের ত্যাগী নেতারা দ্রুত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই অনুপ্রবেশকারীরা দলের কোনো সিনিয়র নেতার হাত ধরে দলে প্রবেশ করে। এই কাজ বর্তমান সময়ে অনেক বেশি ঘটছে এবং তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আর তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু ধারণাগত ভুল দলের জন্য সব সময় ক্ষতির কারণ হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী মনে করেন, ২০০৯ সাল থেকে পরপর দুই মেয়াদে শেখ হাসিনার সরকার দেশে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে, তাকে পুঁজি করে সামনের নির্বাচনে সহজে পার পওয়া যাবে। এটি একটি ভুল ধারণা। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার কম উন্নয়ন করেনি। কিন্তু সেই উন্নয়নের ফসল ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঘরে তুলতে পারেনি। নির্বাচনে বিজয় অবধারিত, তা বিশ্বাস করে অনেক নির্বাচনী এলাকায় দেখেছি নেতাকর্মীদের কেমন যেন একটা গাছাড়া ভাব। সেই ফাঁকে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে পরাজিত করতে তলে তলে যে একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তা নেতাকর্মীরা বোঝার চেষ্টাও করেনি। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় লাভ কঠিন  হতে পারে, তার একটা পূর্বাভাস দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগে আশঙ্কা জানিয়ে আমার একটা লেখা পঠিয়েছিলাম। লেখাটি প্রকাশিত হয়নি। পরে আমাকে সম্পাদক জানিয়েছেন, তিনি ওই মুহূর্তে এমন একটা লেখা প্রকাশ করে দলের ভেতর আতঙ্ক বা হতাশা সৃষ্টি করতে চাননি। শুধু উন্নয়ন দিয়ে যদি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া যেত তাহলে এর আগে সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল আর খুলনায় কেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হয়েছিল—সেই প্রশ্ন করা যেতেই পারে।

নির্বাচন আসন্ন হলে দেশের ও দেশের বাইরের কিছু জরিপ সংস্থা তাদের মতো করে নির্বাচনের জয়-পরাজয় নিয়ে কিছু জরিপ পরিচালনা করে। কিছু প্রচারমাধ্যমকেও এমন জরিপ চালাতে দেখা যায়। ২০১০ থেকে দুইবার বাংলাদেশের একটি ইংরেজি ও একটি বাংলা দৈনিক এই জরিপ চালাতে গিয়ে দেখে প্রতিবারই আওয়ামী লীগের অবস্থান ভালো আর শেখ হাসিনার অবস্থান দলের চেয়েও ভালো। তারপর তারা জরিপ চালানো বন্ধ করে দেয়। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি জরিপ সংস্থা এমন দুটি জরিপ পরিচালনা করেছে। প্রথমটি হচ্ছে আইআরআই। তারা গত বছর এই জরিপ কাজ পরিচালনা করে উপসংহারে বলেছে, সব দিক থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিএমআই নামের আরেকটি গবেষণা সংস্থা একই ধরনের জরিপ চালিয়ে বলেছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অবস্থান বিএনপির চেয়ে ভালো থাকবে। এমন সব জরিপের ওপর অতিমাত্রায় আস্থাশীল হয়ে গাছাড়া ভাব নিয়ে সামনের নির্বাচনের দিকে হাঁটা শুরু করলে তা আত্মঘাতী হতে পারে। বুঝতে হবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই ‘নৌকাকে ফেলে দিতে হবে’ পার্টি তাদের ষড়যন্ত্রমূলক  কর্মকাণ্ড বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। এবার খেলার মূল লাটাই থাকবে লন্ডনে। সেখান থেকে লর্ড কারলাইলদের আরো সক্রিয় হতে দেখা যাবে। নানা অজুহাতে বাংলাদেশে তাদের আনাগোনা বেড়ে যাবে। 

এটি বহুবার বলেছি, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সামনে শক্তিশালী কোনো প্রতিপক্ষ নেই। আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। বর্তমান অবস্থায় বলা যেতে পারে, বিএনপি আর তাদের মিত্র জামায়াত অনেকটা মৃত ঘোড়া। তবে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির তেমন একটা ক্ষয় হয়েছে বলে মনে হয় না। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে তাদের গোপন অবস্থান বেশ শক্তিশালী বলে অনেকের ধারণা এবং সেই ধারণা হয়তো তেমন একটা অমূলকও নয়। যাদের চৌদ্দগুষ্টি আজীবন জামায়াতের রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাদের অনেকেই এখন শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, সামনের নির্বাচন সহজ হবে না। তিনি তা বুঝেশুনেই বলেছেন। এই কঠিন নির্বাচনকে সহজ করতে হলে প্রথম কাজটি হবে দলের সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত করা। এটি বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন। তাঁর কন্যাও তা বোঝেন বলে সবাই মনে করে। কিন্তু পিতার সময়ের চেয়ে কন্যার আমলে দলের সাপোর্ট বেইজ অনেক বেশি বিস্তৃত বলে কাজটি এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। আগে প্রতিটি জেলায় একটি কমিটি ছিল। এখন জেলার সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি, আর প্রায় প্রতিটি জেলায় একাধিক কমিটি আছে। যেমন—মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ। এসব কারণে অনেক জেলায় সাংগঠনিক কাঠামো শুধু দুর্বলই নয়, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অন্তর্দলীয় কোন্দল। নির্বাচনের প্রাক্কালে এসবই হচ্ছে দলের জন্য বড় ধরনের সমস্যা। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শখানেক আসনে পরাজিত হয়েছিল এই কোন্দলের কারণে। বাস্তব চিত্রটা যখন দল উপলব্ধি করেছে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। নির্বাচনের দিন কয়েকজন কর্মরত ও সাবেক সচিব বিএনপির হয়ে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, যাঁরা শেখ হাসিনার শাসনকালে তাঁর সরকারের আমলা ছিলেন। সময়মতো তাঁদের শনাক্ত করা কঠিন ছিল না। সামনের নির্বাচনে বিষফোড়া হয়ে দেখা দিতে পারে অনুপ্রবেশকারীরা। এরা আওয়ামী লীগের মতো দলের জন্য কি খুবই অপরিহার্য? আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক প্রতীক নৌকা। তার সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছে ব্র্যান্ড শেখ হাসিনা, যাঁর নেতৃত্ব সারা বিশ্বে এখন স্বীকৃত।

সত্তরের পর আওয়ামী লীগ বর্তমান সময়ের মতো আর কখনো এত সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আওয়ামী লীগের এই যুগের নেতৃত্বের অনেকেই এই বাস্তবতাটা উপলব্ধি করতে পারেন না। এর ফলে তাঁদের বহিরাগত এনে দল ভারী করতে হয়। আর ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ যে বর্তমান সময়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে, অনেক নেতাকর্মী তা উপলব্ধি করে না। খুলনা আর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের শক্তির একটি বড় উদাহরণ। সামনে আরো তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন আছে। সেই নির্বাচনেও যদি আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে, তাহলে প্রকৃত আওয়ামী লীগের শক্তি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে, যদি দলের এই যুগের নেতাকর্মীরা তা পেতে চায়। শেষ কথা হচ্ছে, সামনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। কোনো রকমের ছলচাতুরী বা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় না নিয়ে তা করা মোটেও কঠিন নয়। শুধু প্রয়োজন নেতা-নেত্রীদের একটু দূরদর্শিতা আর বাস্তবতার উপলব্ধি। সব কিছু একজন শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে মহা অন্যায়। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর একজন হাসিনা দেশ ও দলের জন্য যা করেছেন, তার জন্য ইতিহাসে তিনি নিজের জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা করে নিয়েছেন। তাঁর কাছে এখন আর চাওয়া নয়, তাঁকে এখন দেওয়ার পালা।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

 

 



মন্তব্য