• ই-পেপার

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক

শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক

ফরিদুর রেজা সাগর

অনলাইন ডেস্ক
শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক

আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে বইমেলায় বের হতো একুশের সংকলন। এসব সংকলন বের করত মূলত স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা। নানান রকম সংকলন। সংকলনে বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকত। দেশপ্রেম, একুশ, স্বাধীনতা এরকম বিষয় নিয়েই বেশি লেখা থাকত। এসব সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি সকালবেলা আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিলি করতে চেষ্টা করতাম। এই সংকলনের নির্দিষ্ট কোনো দাম ছিল না। যে যা পারে সেটাই দিতেন। সংকলনগুলো প্রকাশের জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হতো। আর এই টাকা সংগ্রহের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনের জন্য যেতাম। তখন এসব সংকলন বা একুশের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একটা বরাদ্দ রাখত।

বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সূত্র ধরেই আমার সঙ্গে জনাব আবদুস সাদেকের পরিচয়। আমাদের স্কুলবন্ধু হাবিবুর রহমান বাবলুর মামা হতেন। তিনি তখন একটা বড় কোম্পানির প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস ছিল বগুড়ায়। গুলিস্তানে ছিল তাদের সাব অফিস। সাদেক সাহেব বসতেন গুলিস্তান অফিসে। আমি বগুড়াতেও গিয়েছি। ঢাকার অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো। দেখেই আমি তাকে চিনে ফেললাম। কারণ পত্রিকায় মাঝেমধ্যে তার ছবি দেখতাম। তিনি যে চেয়ারে বসতেন ঠিক তার পেছনেই একটি ছবি ছিল তিনি হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম বাবলুর এই মামা কোনো সাধারণ একজন মানুষ নন।

তিনি যদিও এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সঙ্গে তিনি আমাদের হকির জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে সাদেক মামার মতো একজন সজ্জন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জানাশোনা ছিল। তিনি আমাদের এই একুশের সংকলনে পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করতেন। আবার কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবেও তার সাহায্য পেয়েছি। তিনি যেমন খেলোয়াড় ছিলেন তেমনি ছিলেন শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী।

সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছিল বলেই আমরা যখনই তার কাছে যেতাম তিনি আমাদের নিরাশ করতেন না। বাবলুকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম মামার কাছে। মাঝেমধ্যে তিনি আমাদের ‘খাবার দাবার’ দোকানে আসতেন। আমাকে স্নেহ করতেন। তার সঙ্গে তখন আসতেন প্রতাপ শংকর হাজরা, রফিকুল ইসলাম কামালসহ আরও অনেকেই। আমরা জুনিয়র হওয়ার সুবাদে আদর করতেন। তারা আমাদের খেলাধুলার প্রতি জোর দিতে বলতেন। খেলাধুলা করলে শরীর ঠিক থাকে সেটাও বলতেন। সাদেক মামা লেখাপড়া করতেন আরমানিটোলা স্কুলে। তারপর তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। আমরা যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলে মনির হোসেন নামে একজন শিক্ষক ছিলেন। মনির স্যারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আসতেন বিখ্যাত রেফারি ননী বসাক। তিনি প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা শবনমের বাবা। ননী বসাক এবং মনির হোসেন স্যার খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে বাবলুর সম্পর্কটাই আমার সঙ্গে গড়ে উঠল।

আমিও আবদুস সাদেক সাহেবকে মামা ডাকা শুরু করলাম। নানান সময়ে নানান কাজে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এর কারণ ছিল আমাদের খাবার দাবার পিঠাঘর যেহেতু গুলিস্তানে ছিল সেই সুবাদে সাদেক মামার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো আমার। খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন তিনি। দেখা হলেই বলতেন স্বাস্থ্যটা ঠিক রাখো খেলাধুলা কর। বাংলাদেশে হকি স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ঢাকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান এলাকাতে। হকি স্টেডিয়াম কিংবা হকির যে উন্নয়ন হয়েছিল তার কৃতিত্বের দাবিদারদের অন্যতম ছিলেন সাদেক মামা অর্থাৎ আবদুস সাদেক। ২০ জুন তার চলে যাওয়ার সংবাদে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে গেল। চোখ ছলছল করে উঠল আর চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরোনো স্মৃতি। মামার অফিসকক্ষ, হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি। সাদেক মামা আপনার এই চলে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত। দেশ একজন দক্ষ সংগঠক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারাল। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

লেখক : মিডিয়াব্যক্তিত্ব

ভিক্টর হুগোর ‘ওডস এট বেলাডেস’ উদযাপনে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক
ভিক্টর হুগোর ‘ওডস এট বেলাডেস’ উদযাপনে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন
সংগৃহীত ছবি

ফরাসি সাহিত্যের অন্যতম কবি ও ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগোর ‘ওডস এট বেলাডেস’ কাব্যগ্রন্থের দুইশ বছর উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ কবিতা ও সংগীত আলেখ্য ‘বেলাড ফর লিওপলডাইন হুগো : ভিক্টর হুগো থ্রু বেঙ্গলি মিস্টিক্স’। 

আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডিতে অবস্থিত ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আলিয়ান্স ফ্রসেসের নুভেল ভ্যাগ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃটেনে দক্ষিণ এশীয় ধ্রুপদী শিল্পের শীর্ষ সংস্থা সৌধের প্রযোজনায় অনুষ্ঠিত এই গীতি-আলেখ্য গ্রন্থনা ও পরিচালনায় আছেন কবি টি এম কায়সার। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দোতারা বাদক সাব্বির শাহ, ইতালিয়ান জ্যাজশিল্পী মার্থা, চিত্রশিল্পী তারেক আমিন, সরোদ বাদক রুম্মান। 

ভিক্টর হুগো থেকে পাঠ করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনাসিব কামাল। আলোক প্রক্ষেপণ, কবিতা ও সঙ্গীতের দৃশ্য-ভাষ্য রচনায় আছেন আলোকচিত্রী পাবলো খালেদ। 

সৌধ পরিচালক টি এম কায়সার জানান, বিশ্বের ধ্রুপদী শিল্পের প্রচার ও নতুন নতুন ভাষ্য নির্মাণে সৌধ গত ১৫ বছর থেকে বৃটেনের মূলধারার আর্ট-প্লাটফর্মে ভূমিকা রেখে চলেছে। আমরা কাফকার সাড়ম্বর সেন্টিনারি যেমন উদযাপন করেছি কাফকার সাহিত্যকর্মের নতুন প্রেক্ষিত অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে, ঠিক তেমনি এ বছর হুগো, গিন্সবার্গ বা সুকান্তকেও নতুন আলোয় দেখতে চাই অভিনব সব পরিবেশনা দিয়ে। 

তিনি আরো জানান, বৃটেনের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা ইউরোপ ভারত বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্রেও আমাদের বিচিত্র শিল্প-উপস্থাপনা মঞ্চস্থ করেছি। এই প্রক্রিয়া আরো নিয়মিত রাখতে চাই এবং আরো বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে চাই।

নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্ক
নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ

উপমহাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত ও পথিকৃৎ নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ। ডাকনাম ‘নূরী’ নামে পরিচিত এই প্রখ্যাত সম্পাদক নারী সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় নারীদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

তিনি উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ ছয় দশক পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

নূরজাহান
এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরজাহান বেগম

নূরজাহান বেগম জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৫ সালের ৪ জুন চাঁদপুরের চালিতাতলি গ্রামে। তার পারিবারিক নিবাস ছিল পাইকারদী গ্রামে, যা মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলে তার পরিবার চালিতাতলিতে বসতি স্থাপন করে। তার পিতা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিখ্যাত ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক। মা ফাতেমা বেগম ছিলেন গৃহিণী।

শৈশবে ১৯২৯ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। সেখানে ১১ ওয়েলেসলি স্ট্রিটে ‘সওগাত’ পত্রিকার দপ্তরে বসবাস শুরু করেন। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন।

১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই নারীদের জন্য প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ প্রকাশিত হয়, তখন তিনি বিএ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। শুরুতে পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল। পরে নূরজাহান বেগম পত্রিকাটির সম্পাদনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় এর নেতৃত্ব দেন।

নূরজাহান
২০০৭ সালে ‘নূরজাহান জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে নূরজাহান বেগম

‘বেগম’ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি নারীদের লেখা, ছবি ও মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেন। নারীদের অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতিতে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়।

তিনি সাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫০ সালে তিনি বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার শরৎ গুপ্ত স্ট্রিটে দীর্ঘ সময় বসবাস করেন এবং সেখান থেকেই ‘বেগম’ পত্রিকার কাজ পরিচালনা করেন। নারীদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করতে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে লেখা ও ছবি সংগ্রহ করতেন বলেও জানা যায়।

নূরজাহান
নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নূরজাহান বেগম

নারী জাগরণ, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৭ সালের রোকেয়া পদকসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সামাজিক সম্মাননা।

২০১৬ সালের ২৩ মে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জন্মদিনে নারী সাংবাদিকতার এই অগ্রদূতকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নূরজাহান
লেখক নূরজাহান বেগম


ছবি : সালমা আহমেদ
শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত হলো ড. অণিমা রায়ের ‘পঞ্চগীতিকবির গানে স্বদেশচেতনা’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত হলো ড. অণিমা রায়ের ‘পঞ্চগীতিকবির গানে স্বদেশচেতনা’

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়েছে অণিমা রায়ের গবেষণাগ্রন্থ ‘পঞ্চগীতিকবির গানে স্বদেশচেতনা’। বাংলা একাডেমি বইটি প্রকাশ করেছে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সাইম রানা। ১৭৬ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ৩৮০ টাকা।

বাংলা একাডেমি জানায়, এটি বাংলা স্বদেশি ও দেশাত্মবোধক গানের ইতিহাস, প্রভাব এবং জাতীয় চেতনায় গীতিকবিদের অবদান নিয়ে লেখা একটি গবেষণাধর্মী বই। স্বদেশি আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন এবং অতুলপ্রসাদ সেনের স্বদেশি সংগীত বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধতর করেছে।

অসহযোগ আন্দোলনপর্বে কাজী নজরুল ইসলামের স্বদেশি গান যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। স্বদেশচেতনার গান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীকালের লড়াই-সংগ্রামে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছে।

এসব গানে স্বদেশচেতনার যে বিকাশ ঘটে, বর্তমান গ্রন্থে তার তথ্য-সংকলন ও পর্যালোচনা উপস্থাপিত হয়েছে। স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনায় এ গীতিকবিদের অবদানের কথা এবং সুর-বাণীর সমন্বিত আলোচনা গ্রন্থটির মূল উপজীব্য।’

পঞ্চগীতি কবির গানে স্বদেশচেতনার আগ্রহ সঞ্চারে গ্রন্থটি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। বইটি বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক | কালের কণ্ঠ