kalerkantho


শহীদ সালাহর কাছে 'জিহাদ' শিখুক কুপিয়ে মানুষ মারা জঙ্গিরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৮ ২০:৪৯



শহীদ সালাহর কাছে 'জিহাদ' শিখুক কুপিয়ে মানুষ মারা জঙ্গিরা

সালাহ নিশ্চয়ই জানতেন, কিছুক্ষণ পরেই তাকে শত্রুর বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যেতে হবে। ছবি : টুইটার

'জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী' আপ্তবাক্যটিতে জড়িয়ে আছে দেশপ্রেম আর বিশ্ব মানবতার উপলব্ধি। দেশ মায়ের মতো। মা এবং মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও বড়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন প্রিয় মাতৃভূমি থেকে হিজরত করেছিলেন, বার বার ফিরে ফিরে তাকাচ্ছিলেন। বার বার ঘুরে মক্কার পাহাড়ের দিকে, বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, হে মক্কা! আমি তোমাকে ভালোবাসি। নবীজীর দেশপ্রেম ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। দেশের জন্য জীবন দেওয়া, সে তো বিশাল পূণ্যের কাজ। 

চাপাতির আঘাতে মারা যান ব্লগার অনন্ত বিজয়

গত দুদিন ধরে সোশ্যাল সাইট আর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ফাদি আবু সালাহর ছবিটা দেখেছেন? দুই পা নেই মানুষটির। ২০০৮ সালে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় দুই পা হারিয়েছিলেন। কিন্তু এতে করে তার দেশপ্রের পবিত্র আবেগকে দমিয়ে দেওয়া যায়নি। সম্প্রতি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যায় এই আগ্রাসি পদক্ষেপের প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভে নেমেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরা। সেই বিক্ষোভকারীদের অগ্রভাগের একজন ছিলেন আবু সালাহ। 

নিহত অভিজিত রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের মিনতি করছেন স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।

 দুই পা নেই তাতে কী হয়েছে? হুইল চেয়ারে বসে হাতে ঠগীর ফাঁস নিয়ে ছুঁড়ে মেরেছেন শত্রুদের দিকে। শত্রুদের হাতে আছে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র। চোখের নিমিষে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে একের পর এক বিক্ষুব্ধ তাজা প্রাণ। সালাহকেও নিস্তার দেয়নি ইসরায়েলিরা। জীবিত অবস্থায় ক্যামেরাবন্দী হওয়ার পরদিনই অর্ধেক শরীরের মানুষটির মৃতদেহের ছবি ধরা পড়ে ক্যামেরায়। যে ছবি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে দাবানল ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের অগণিত স্বাধীনতাকামী মানুষের অন্তরে। 

নিহত ব্লগার নিলয় নীল।

এটাই দেশপ্রেম। এটাই আসল জিহাদ। নিরস্ত্র মানুষকে রাতের আঁধারে রাস্তায় কুপিয়ে খুন করা কিংবা বাসায় ঢুকে গুলি করে মারার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই। আছে নোংরামি, কাপুরুষতা আর হিংস্রতা। যাকে কুপিয়ে মারা হচ্ছে, সে তো কাউকে তার হাত দিয়ে সামান্যতম আঘাত করেনি। সে তার কথা বলছে, তার যুক্তি উপস্থাপন করছে। পারলে যুক্তি দিয়ে, কথা দিয়ে তাকে ঠেকানো যেতে পারে। তা না করে চোরের মতো সুযোগের সন্ধানে থেকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর মতো নৃশংসতাকে ইসলাম জিহাদ বলে স্বীকৃতি দেয় না। 

ব্লগার ওয়াশিকুর বাবুর নিথর দেহ। 

শহীদ সালাহর দিকে তাকান। ভাঙাচোরা একটি হুইল চেয়ারে বসে প্রচণ্ড গর্জনে ছুটে যাচ্ছিলেন ইসরায়েলি হায়নাদের দিকে। যা হবে মুখোমুখিই হবে। সালাহ জানতেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হতে যাচ্ছে। সালাহ জানতেন, তার ওই একটি ঢিল হানাদারদের শরীরে সামান্য টোকাও দিতে পারবে না। তাকে দেখে হয়তো ইসয়রায়েলি সেনারা হাসছিল। তারপরেও তিনি বীরের মতো ছুটেছেন শত্রুর দিকে। এটাই বীরত্ব। একেই বলে শহীদ হওয়া। 

সালাহ শহীদ হয়ে যে চেতনার মশাল জ্বালিয়ে গেলেন, তার আলোয় কি আলোকিত হবে ধর্মান্ধ জঙ্গিরা?


মন্তব্য