এআই ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট নিয়ে কড়া নিয়ম করতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। নতুন কপিরাইট আইনে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন খসড়া আইনে এআই ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট নিয়ে স্পষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। এআই দিয়ে কোনো কনটেন্ট তৈরি করলে তা জানানো বাধ্যতামূলক হতে পারে।
তবে শুধু এআই দিয়ে তৈরি কোনো কাজ কপিরাইট সুরক্ষা পাবে না।
কপিরাইট পেতে হলে মানুষের সৃজনশীল অবদান থাকতে হবে। অর্থাৎ, কনটেন্ট তৈরিতে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে হবে।
এআই দিয়ে কোনো স্রষ্টার আলাদা বা বিশেষ সৃষ্টিশৈলী নকল করাও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও চাপে পড়তে পারে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সংবাদ কনটেন্ট সংগ্রহ, আবার প্রকাশ বা লিংকের প্রিভিউ দেখালে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে অর্থ দিতে হতে পারে।
এআই প্রশিক্ষণে সংবাদ কনটেন্ট ব্যবহার করলেও অর্থ দেওয়ার নিয়ম করা হচ্ছে।
এই অর্থ সংবাদ প্রকাশকদের দেওয়া হবে। তবে তা রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকা সংগঠনের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
নিয়ম না মানলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি ইন্দোনেশিয়ায় তাদের ব্যবসার অনুমতিও বাতিল হতে পারে।
গুগল এরই মধ্যে প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম স্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতাদের ক্ষতি করতে পারে।
এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নও ধীর হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে গুগল।
ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআইয়ের দ্রুত বিকাশ কপিরাইট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। মানুষের সৃষ্টিশীল কাজ রক্ষায় নতুন নিয়ম প্রয়োজন।
আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খসড়া নিয়ে আরো মতামত নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য আইনটি পাস হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এআইকে সরাসরি কপিরাইট আইনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রথম দেশ হতে পারে ইন্দোনেশিয়া।





