kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাজারের সেরা ১০ স্মার্টফোন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:০৪



বাজারের সেরা ১০ স্মার্টফোন

অপারেটিং সিস্টেমের ভিত্তিতে স্মার্টফোন দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত: আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড। এই দুটি অপারেটিং সিস্টেম যথাক্রমে অ্যাপল এবং অন্য আর সকলে ব্যবহার করে।

তবে অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম অনেকে বেশি অভিজাত বা মার্জিত এবং সুসংহত। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে অনেক বাড়তি সুবিধা আছে।
অ্যান্ড্রয়েডে আপনি চাইলেই সনি এবং স্যামসাংয়ের মতো ব্র্যান্ডগুলোতে কোনো দ্বিঁধা ছাড়াই স্থানান্তরিত হতে পারবেন। স্মার্টফোনের আরেকটি অপারেটিং সিস্টেম হলো মাইক্রোসফট উইন্ডোজ। তবে মাইক্রোসফটের স্মার্টফোন সংখ্যায় খুবই কম এবং এতে অনেক অ্যাপসই নেই।
বেশিরভাগ ফোনেই আগে চার্জ দেওয়ার জন্য মাইক্রো ইএসবি সকেট ব্যবহার করা হত। কিন্তু নুতন অনেক ফোনে এর জায়গায় ইইএসবি-সি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এগুলোতে আর আগের চার্জার কাজে লাগবে না। অ্যাপলের সর্বশেষ স্মার্টফোনে একই পোর্টে চার্জ এবং অডিও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ফলে এর সর্বশেষ আইফোনে কোনো হেডফোন জ্যাক নেই।
মাইক্রোসফট ফোন ছাড়া বেশিরভাগ নতুন আইফোনে ফোনটি খোলার জন্য একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে। এছাড়া অ্যাপল পে এবং অ্যান্ড্রয়েড পের জন্য এটিকে একটি ভার্চুয়াল ওয়ালেট হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
এখানে বাজারের সেরা ১০টি স্মার্টফোনের বিবরণ এবং তাদের মূল্য তালিকা তুলে ধরা হলো:
১. অ্যাপল আইফোন ৭ প্লাস : ৮৮৫ মার্কিন ডলার
অ্যাপলের সর্বশেষ আইফোনে একটি আকর্ষণীয় ১২ মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা আছে। ল্যান্ডস্কেপের জন্য এতে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলস লেন্স আর পোট্রেইটের জন্য একটি টেলিফটো আছে। এটি পানি নিরোধক। এটি দ্রুত গতিতে কাজ করে। এর ব্যাটারি আইফোন সিক্স এস প্লাসের চেয়ে একঘন্টা বেশি স্থায়ী হয়। যা পুরো একদিনের জন্য যথেষ্ট। এর ডিসপ্লেটি ৫.৫ ইঞ্চি। ফলে সবার হাতেই এটি আঁটবে না। এর ৪.৭ ইঞ্চি ডিসপ্লে সম্বলিত একটি সংস্করণও আছে। অ্যাপলের তারবিহীন এয়ারপড আপনার পকেট থেকে আরো ১৯৫.৮ ডলার খসাবে।

২. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৭ : ৮৬২ ডলার
এর ডিসপ্লেটি ৫.৭ ইঞ্চি। তবে এটি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে আইফোন ৭ প্লাসের চেয়ে খাটো। অবশ্য এর পুরুত্ব বেশি। এতে আছে একটি আইরিস স্ক্যানার। ফলে ফোনটির দিকে তাকিয়েই এটি খোলা যায়। এর সর্বনিম্নের কোনা থেকে এস পেন নামের একটি লেখনী টেনে বের করা যায়। যা দিয়ে স্ক্রিনে লেখা যায়।

৩. সনি এক্সপেরিয়া এক্স জেড : ৬৫২.৬৬ ডলার
গত অক্টোবর বাজারে আসা এক্সপেরিয়া এক্স জেড একটি অসাধারণ হ্যান্ডসেট এবং এ পর্যন্ত সনির সেরা স্মার্টফোন এটি। এটি পানি নিরোধক এবং এতে ২০.৩ মেগা পিক্সেলের একটি ক্যামেরা আছে। এর ফোকাসটি নজিরবিহীন দ্রুততায় কাজ করে। ফলে এতে ছবিও ওঠে অসাধারণ। এটি চার্জ করার পদ্ধতিও একেবারেই নতুন। ব্যাটারির জীবনকাল বৃদ্ধিতে এই ফোন ব্যবহারকারীরা চার্জ অভ্যাস রপ্ত করে নেয়। ফলে যখন আপনি এটি পুনরায় চার্জ করতে যাবেন তখন এটি নিজে নিজেই ৯০ শতাংশ চার্জ হবে। আর শেষ মুহূর্তে গিয়ে বাকীটুকু পুরণ করবে। ফোনের অস্বাস্থ্যকর অতিচার্জ এড়ানোর একটি অভিনব উপায় এটি। সনিই সর্বপ্রথম ব্যাটারির চার্জের স্থায়িত্বকালের চেয়ে বরং ব্যাটারির নিজের স্থায়িত্বকাল বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়।

৪. অ্যাপল আইফোন ৭ : ৭৩৪. ৬৪ ডলার
এই ক্ষুদ্রতর আইফোনটির ডিসপ্লে ৪.৭ ইঞ্চি। আইফোন ৭ প্লাসের মতো বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট আছে এতে। এর নতুন কালার ভার্সন ব্ল্যাক অ্যান্ড জেট ব্ল্যাক খুবই জাঁকালো। গত বছরের মডেলের চেয়ে এর ব্যাটারির স্থায়িত্ব দু্ই ঘন্টা বেশি। অন্যান্য নুতন আইটেমের মধ্যে রয়েছে, একটি হোম বাটন। এটি একটি ব্যাতিক্রমী ফোন। আর শুধু ৭ প্লাসই এতে ছাড়িয়ে গেছে।

৫. অনার ৮ : ৪৫১.৯৩ ডলার
চীনা উৎপাদক হুয়াওয়েই এর একটি সাব ব্র্যান্ড অনার। বাঁকা প্রান্ত সম্বলিত এই হ্যান্ডসেটটির ডিজাইন সত্যিই বেশ আকর্ষণীয়। তুলনামুলকভাবে সস্তা হওয়া সত্ত্বেও এতে স্মার্টফোনের উন্নত বৈশিষ্টগুলো আছে। ১২ মেগা পিক্সেলের একটি ক্যামেরা, শক্তিশালি ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং স্ক্রিন খুলতে ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা আছে এতে। এতো কম মূল্যের ফোনে এসব বৈশিষ্ট দেখা যায় না। ফোনটি বেশ অভিজাতও বটে।

৬. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এজ : ৬৭৭.২৯ ডলার
এই ফোনটির স্ক্রিন ৫.৫ ইঞ্চি। নোট ৭ এর মতো এটিও ঢালু প্রান্ত সম্বলিত। ফলে ফোনটি উপুড় করে রাখা অবস্থায়ও কেউ কল করলে তার নামপরিচিতি দেখা যায়। এর ডিজাইন চমৎকার, নির্মাণ গুন উত্তম, এর স্ক্রিন উজ্বল ও প্রখর এবং এতে ১২ মেগাপিক্সেলের একটি শক্তিশালি ক্যামেরা আছে। এর ডিসপ্লেটি সার্বক্ষণিকভাবে অন থাকে। তবে এতে ব্যাটারির চার্জ প্রতি ঘন্টায় মাত্র ১ শতাংশ ক্ষয় হয়।

৭. এইচটিসি ১০ : ৭০১.৯২ ডলার
এইচটিসি সবসময়ই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে এর সেরা লুকে হাজিরের চেষ্টা করেছে। এতে আরো রয়েছে, প্রচুর সংখ্যক অতিরিক্ত থিম এবং ওয়ালপেপারসহ সাবধানে সংকলিত অ্যাপস। এইচটিসি ১০ ক্যামেরাটি ১২ আল্ট্রা পিক্সেলের। এটি আরো বড় পিক্সেলের এবং এতে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এর অডিওটিও খুবই শক্তিশালি; স্টেরিও স্পিকার এবং হেডফোন উভয় মাধ্যমেই। একটি উজ্বল ৫.২ ইঞ্চির ডিসপ্লে সম্বলিত হ্যান্ডসেটটির ডিজাইনও খুবই সুদর্শন। ফোন কম্পানিগুলোর মধ্যে এইচটিসি সর্বপ্রথম ব্যাটারির দ্রুত চার্জের বিষয়টি বিবেচনায় আনে। মাত্র আধা ঘন্টায় এর ব্যাটারির ৫০ শতাংশ চার্জ হয়।

৮. মাইক্রোসফট লুমিয়া ৯৫০ : ৩৮১.৭৪ ডলার
মাইক্রোসফটের সর্বশেষ ফোনগুলোতে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০ যুক্ত করা হয়েছে। তার মানে ফোনটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেমে অ্যান্ড্রয়েড বা অ্যাপল থেকে অনেক কম ফিচার আছে। তবে এতে একটি ২০ মিগা পিক্সেলের অসাধারণ ক্যামেরা, ৫.২ ইঞ্চির স্ক্রিন এবং একটি কনকনে প্রসেসর আছে। আর ফোনটি খোলার জন্য চোখের দৃষ্টি ব্যবহারের জন্য আছে একটি আইরিশ স্ক্যানার।

৯. হুয়াওয়েই পি ৯ : ৪৯২.৯৭ ডলার
আইফোন ৭ প্লাসের মতো এই ফোনেও লেইকা লেন্সযুক্ত দুটি ক্যামেরা আছে। এর দুটি সেন্সর একসঙ্গে ফটোশুট করে। ফলে এটি দিয়ে অসাধারণ সুন্দর ছবি তোলা যায়। এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি অনার এবং এলজির মতো ফোনটির পেছনে যুক্ত করা আছে।

১০. এলজি জি ফাইভ : ৫০৪.৮৮ ডলার
এলজির সর্বশেষ ফোনটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ব্যাটারি বদলানোর জন্য এর তলাটি সহজেই অপসারণ করা যায়। ১৬ পিক্সেলের উচ্চ রেজুল্যুশনের ডুয়াল লেন্সের একটি ক্যামেরাও আছে এতে। একটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল এবং আরেকটি পোট্রেট লেন্স। এর ৫.৩ ইঞ্চি ডিসপ্লেতে স্যামসাং ফোনের মতোই স্থায়ীভাবে সময় প্রদর্শিত হয়।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট


মন্তব্য