kalerkantho


ভিন্ন চারজনের দৃষ্টিতে যেমন ছিল বিল গেটসের সঙ্গ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৪ ১৭:৪০



ভিন্ন চারজনের দৃষ্টিতে যেমন ছিল বিল গেটসের সঙ্গ

মাইক্রোসফট করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি বিল গেটস একজন জনহিতৌষি ব্যক্তিও বটে। তবে এ অবস্থা সব সময় একরকম ছিল না। গত ৩৯ বছরে ধীরে ধীরে নানা পরিস্থিতিতে নিজেকে তৈরি করেছেন গেটস।
প্রথমে তিনি একজন ‘মেধাবী কিন্তু নোংরা’  টেকনিক্যাল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হন। এরপর মেধাবী কিন্তু বদরাগি সিইও হিসেবে পরিচিত হন গেটস। এ ছাড়াও একজন নির্মম ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি মার্কিন বিচার বিভাগের মুখোমুখি হন। তবে সবশেষে তিনি পূর্ণকালীন জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এখন তার কাজ হলো শিশুদের পোলিও থেকে রক্ষা করা, ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিহত করা ও দারিদ্র্য দূর করার মতো নানা বিষয়।
আর এসব নানা বিষয়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখায় মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা এ ব্যক্তিটি নিয়ে যে নানা গল্প থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি একটি ওয়েবসাইট এ বিষয়ে পাঠকদের কাছে লেখা আহ্বান করে। পরে বিল গেটসের সঙ্গে স্মৃতি আছে, এমন বহু লোক সেখানে বিল গেটসের সঙ্গে তাদের স্মৃতি তুলে ধরে।

এ লেখায় থাকছে সে ধরনের চারটি কাহিনী। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

১. ব্র্যাড সিলভারবার্গ
ব্র্যাড ১৯৯০-১৯৯৯ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের এসভিপি ছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘১৯৯০ সালে বিল গেটস ও আমা কয়েকজন নিউ ইয়র্ক থেকে সিয়াটলে একটি কাস্টমার মিটিংয়ের জন্য বিমানে করে রওনা দিয়েছিলাম। প্রায় ২৫ বছর আগের এ ঘটনার সময় উইন্ডোজ ৩.০ বাজারে ছাড়া হয়েছে। সে সময় মাইক্রোসফট সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সবাইকেই বিমানের সাধারণ আসনে বসতে হতো। এ কারণে বিল গেটসও আমাদের সঙ্গে কোচের মাঝামাছি একটি আসনে বসেছিলেন। এটা তার কাছে কোনো বিষয় ছিল না। বিমানে পুরো যাত্রাপথ তিনি পড়াশোনা করলেন।
এ বিষয়টি আমার মনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করল। মাইক্রোসফটের নতুন একজন কর্মী হিসেবে তিনি আমার সামনে উদাহরণ হয়ে রইলেন। ’
২. জোয়েল স্পোলস্কি
জোয়েল ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মাইক্রোসফটে কাজ করেছেন। সে সময় মাইক্রোসফটে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ছিল। সেখানে এক্সেল বেসিক নামে একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেন তিনি। পরে তা ভিজুয়াল বেসিকে পরিবর্তিত হয়।
স্পোলস্কি বলেন, ‘সেসব দিনে সফটওয়্যারের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই বিল গেটস পরীক্ষা করে দেখতেন। আর এ বিষয়কে ‘বিলজি’ রিভিউ বলা হতো।
সেখানেই বিল গেটস সফটওয়্যার রিভিউ করতেন এবং সফটওয়্যারের নানা ত্রুটিতে গালমন্দ করতেন। সে সময় তিনি প্রচুর ‘এফ ওয়ার্ড’ ব্যবহার করতেন।
আমার বিলজি রিভিউতে একজন ব্যক্তি এলেন যার কাজ ছিল বিল গেটস কতোবার ‘এফ ওয়ার্ড’ ব্যবহার করেন তা সঠিকভাবে গোনার জন্য। এতে তিনি যত কমবার এ গালটি ব্যবহার করবেন সফটওয়্যারটি তত ভালো হয়েছে বলে ধরা হবে।
সেবার মিটিংয়ে তিনি চারবার সে গালটি উচ্চারণ করেছিলেন। ফলে সে ব্যক্তি জানালেন, মাত্র চারবার! এটা তার স্মরণকালের সবচেয়ে কম বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
সে সময় বিল গেটস ৩৬ বছর বয়সি ছিলেন। এরপর বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য হয়েছিল। বিল খুবই টেকনিক্যাল মানুষ। তিনি কোনো বিশ্বাসযোগ্য সফটওয়্যারের ভেতর হস্তক্ষেপ করতে চাইতেন না। কিন্তু তিনি একজন প্রোগ্রামার। আর একজন প্রোগ্রামার হিসেবে নিজের দায়িত্ব তার মতো করেই পালন করতেন। ’

৩. মেরি জো ফলেই
মাইক্রোসফটের বিখ্যাত ব্লগার মেরি জো ফলেই তার ক্যারিয়ার জীবনে পাঁচবার বিল গেটসের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তবে একটি সাক্ষাৎকারের সময় বিল গেটস বাথরুমের ভেতর নিজেকে বন্দী করে রাখেন। মজার এ কাহিনী তিনি পরে একটি টিভি শোতে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে মেরি বলেন, ‘এটা একটা মজার ঘটনা। আমরা একটা ইন্টারভিউয়ের জন্য কয়েকজন সাংবাদিক বিল গেটসের মুখোমুখি হই। সেখানে জজ ডজও ছিলেন। তার ইন্টারভিউয়ের ধরন আমার থেকে ভিন্ন। সে মানুষকে খুঁচিয়ে কথা বের করে। এটা অনেকক্ষেত্রে বোকার মতো কাজ করে।
সাক্ষাৎকারের মধ্যে খোঁচা দিতে থাকলে বিল গেটস পাগলপ্রায় হয়ে যান। তিনি উঠে বাথরুমে চলে যান এবং সেখানেই থাকেন। এরপর ভেতর থেকে বলেন, জন দুঃখ প্রকাশ না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে বের হবেন না।
এরপর জন বাথরুমের দরজায় গিয়ে বলেন, তিনি দুঃখিত। এরপর বের হয়ে আসেন বিল গেটস। সেখান থেকে বের হওয়ার পর অবশ্য বিল গেটস কিছুটা বদলে যান। বিল গেটস আরেকবার বদলে গিয়েছিলেন তার সন্তান হওয়ার পর। প্রথমে তিনি কঠোর টেকনিক্যাল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এরপর একজন মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ’
৪. রেডিটর ব্রায়ানফ
বিল গেটস পরবর্তী জীবনে যথেষ্ট মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে তাকে প্রশ্ন করেন রেডিটর ব্রায়ানফ। সেখানে ‘আস্ক মি এনিথিং সেশন’-এ তাকে রেডিটর একটি প্রশ্ন করেন।
রেডিটর ব্রায়ানফ প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কাছ থেকে অন্য কেউ আশা করে না, এমন কোনো একটি কাজের কথা বলুন, যা আপনি উপভোগ করেন। ’
এর উত্তরে বিল গেটস বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রাতে থালাবাসন ধোয়াধুয়ি করি। অন্য মানুষ এতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে কিন্তু আমি এখানে আমার কাজের ধরন উপভোগ করি। ’


মন্তব্য