kalerkantho


অক্টোপাসের মতো রং বদলাবে যে কাপড়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৪ ১০:৪৫



অক্টোপাসের মতো রং বদলাবে যে কাপড়!

গল্প হলেও সত্যি: সেফালোপড গোত্রীয় সামুদ্রিক প্রাণীদের ত্বকে এক ধরনের সেন্সর থাকে, যার কল্যাণে তারা পারিপার্শ্বিকের রং ও নকশা নকল করতে পারে। মার্কিন প্রযুক্তিবিদ ও জীববিজ্ঞানীরা ঠিক সেই ধরনের কাপড় তৈরি করার চেষ্টা করছেন। কাটলফিশ, স্কুইড অথবা অক্টোপাস, এরা রং বদলায় হয় প্রাণ বাঁচানোর জন্য, নয়ত শিকার ধরার জন্য। ত্বকের রং ও প্যাটার্ন বদলে পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেয়ে সহজ আর কার্যকরী আর কি থাকতে পারে? একেই তো বলে কামোফ্লাজ, সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার সময় যে বিশেষ ধরনের রং ও ডিজাইনের উর্দি পরে, সেটারও কাজ হলো সৈন্যদের পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে মিলিয়ে অদৃশ্য করে দেওয়া। শুধু সৈন্যদের ফেটিগ বা ইউনিফর্মে কেন সামরিক বাহিনীর গাড়ি থেকে শুরু করে প্লেন, সব কিছুতেই এই কামোফ্লাজ পাওয়া যাবে।
কিন্তু সর্বক্ষেত্রেই কষ্ট করে রং ধরাতে হয়, এবং এক পরিস্থিতি কিংবা পরিবেশের রং অপর পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খায় না, সেটাও এক সমস্যা। সমাধান হলো : যদি সেফালোপডদের চামড়ার মতো কোনো কাপড় তৈরি করা যায়, যা নিজে থেকেই রং বদলে পারিপার্শ্বিকের অনুরূপ হয়ে যাবে। মার্কিন নৌবাহিনীর অর্থানুকূল্যে ঠিক সেই গবেষণাই চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, গত তিন বছর ধরে। এবং সেই গবেষণার ফলাফল এবার প্রকাশিত হয়েছে মার্কিন ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর সাপ্তাহিক প্রোসিডিংস-এ। সংবেদনশীল ডাই। ইঞ্জিনিয়ার এবং বায়োলজিস্টরা মিলে যে বস্তুটি সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছেন, তার বাজারে ছাড়ার উপযোগী হয়ে উঠতে এখনও ঢের বাকি।
অথচ স্থপতি, ইন্টিরিয়র ডিজাইনার, ফ্যাশন হাউস, কে না এই নতুন প্রোডাক্ট-টির আশায় বসে আছে। বিজ্ঞানীদের সর্বাধুনিক রিপোর্ট যে তাদের একেবারে হতাশ করেছে, এমন বলা যায় না। রিপোর্টটির মুখ্য রচয়িতা যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেটিরিয়াল সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জন রজার্স। তিনি জানিয়েছেন, আমরা যদি কাপড়টার ওপর সাদা আলো এবং বিভিন্ন নকশা ফেলি, তাহলে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া হয়ে কাপড়টা অনুরূপ একটা প্যাটার্ন তৈরি করে। তা সত্ত্বেও আমরা রং বদলাতে পারে, এমন ওয়াল পেপার সৃষ্টি করা থেকে অনেক দূরে। তবে এই ফলাফল কালে আমাদের সেদিকে নিয়ে যেতে পারে। কাপড় নামধারী পরীক্ষামূলক পদার্থটি নমনীয়। এর বিভিন্ন স্তরে রয়েছে তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল ডাই, অর্থাৎ কাপড় রং করার ইমালশন এবং ফটোসেন্সর, যেগুলি এক-দুই সেকেন্ডের মধ্যে কাপড়টির নকশা বদলে দিতে পারে। ডাইটাও মজার, কেননা তা কম তাপমাত্রায় কালো দেখালেও, ৪৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের ওপরে স্বচ্ছ হয়ে যায়।
সেফালোপডদের কেরামতি
রজার হ্যানলন সেফালোপডদের চামড়ার ফিজিওলজির ক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পড়েন। তিনি কাজ করেন ম্যাসাচুসেটস-এর উডস হোল-এ, মেরিন বায়োলজিকাল ল্যাবোরেটরিতে। তিনি বলেন যে, অ্যাডাপ্টিভ কামোফ্লাজ। সেফালোপড-গোত্রীয় প্রাণীদের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। সেফালোপডদের শরীর নরম এবং তারা তথাকথিত ‘ফুড চেইন'-এর ঠিক মাঝামাঝি। কাজেই তারা ডুবুরি পাখি ও শিকারি মাছদের খাদ্য হিসেবে গণ্য। কাজেই সেফালোপডরা তাদের রং ও নকশা পরিবর্তনের ক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়েছে : মাত্র তিন থেকে পাঁচটি বুনিয়াদি টেম্পলেট থেকে বেছে নিয়ে। সেফালোপডদের চামড়া বা ত্বকের সর্বত্র আলোর সেন্সর ছড়ানো আছে, অর্থাৎ সেই মলিকিউলগুলি আছে। অর্থাৎ তারা ছদ্মবেশ ধরার জন্য আলোক ব্যবহার করে কিন্তু কিভাবে? সেটা কারো জানা নেই। তবুও বিজ্ঞানীরা যে কামোফ্লাজ ধারণের উপযোগী কৃত্রিম ত্বক সৃষ্টির পথে এতটা এগিয়েছেন, সেটাই বা কম কিসে?
সূত্র : ডয়চে ভেলে


মন্তব্য