kalerkantho


মেয়েটি এখন কোথায় যাবে: কালই তো মুক্তি, আজ কী করছেন জলি?

সাকিব সিকান্দার   

৯ মার্চ, ২০১৭ ১৯:০৫



মেয়েটি এখন কোথায় যাবে: কালই তো মুক্তি, আজ কী করছেন জলি?

দারুণ ক্লান্ত তিনি। 'কাল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রেডিও-তে লাইভ করেছি। বাসায় ফিরেছি দেড়টায়। ঘুমাতে ঘুমাতে তিনটা। আবার ভোট ৬টায় উঠে দিনের প্রস্তুতি', ক্লান্ত হলেও উচ্ছসিত কণ্ঠেই কথাগুলো বললেন জলি। এ সময়ের সম্ভাবনাময় ঢাকাই চলচ্চিত্র তারকা ফাল্গুনী রহমান জলির চরম ব্যস্ততা চলছে গত ১০ দিন ধরে। আগামীকালই মুক্তি পাচ্ছে তার আলোচিত মুভি 'মেয়েটি এখন কোথায় যাবে'। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। তাই জলি ও তার ভক্তদের উত্তেজনা একটু বেশিই।

সন্ধ্যায় যখন তাকে ফোন দেয়া হলো, তখনো তিনি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মাঝে আরো তিনটি প্রোগ্রামে সময় দিয়ে এসেছেন।

ক্লান্তি তাকে কাবু করতে পারেনি মোটেও। দর্শকের মনে ঠাঁই চান নিজের অভিনয়গুণ দিয়ে।

অল্প সময়ের মধ্যই সিনেমার সব বিষয় নিয়েই কথাই বলে ফেললেন। ব্যাপক প্রোমোশন চালাচ্ছেন দিন-রাত এক করে। 'আমি, শাহরিয়াজ (নায়ক) এবং নাদের স্যার (পরিচালক নাদের চৌধুরী) অনেক ছোটাছুটি করছি'।

এই ছবির দিকে সবার চোখ, কালই তো মুক্তি পাচ্ছে। কালকের দিনটাকে সামনে রেখে কেমন লাগছে এখন? 'মনে হচ্ছে কাল আমার ঈদ। ছোটবেলার যেমন ঈদের আগের দিন দারুণ এক উত্তেজনা কাজ করতো, আজ তেমনই লাগছে। কিন্তু ভয়ও লাগছে। আমার আশাবাদ অনেক বেশি। দর্শক আমাকে গ্রহণ করবে তো?', আবেগ ফুটে উঠলো জলির কণ্ঠে।

তবে আত্মবিশ্বাস তার আকাশ সমান। বললেন, 'জাজ মাল্টিমিডিয়ার শ্রদ্ধেয় আজিজ ভাই আমার মধ্যে অনেক বড় শিল্পীকে খুঁজে পেয়েছেন। আমি নাকি একদিন বিদ্যা বালানকেও ছাড়িয়ে যাবো'।

'তবে এটা তিনি বেশি বেশিই বলেছেন। কোথায় বিদ্যা বালান, আর কোথায় আমি জলি। আমি তো মাত্র সিনেমায় প্রবেশ করেছি। কিন্তু তার কথায় আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। একদিন হয়তো ঠিকই তার পর্যায়ের অভিনয়শিল্পী হতে পারবো। তবে এ কথা সেদিনই বুঝবো যেদিন একই কথা দর্শক আমাকে নিয়ে বলবেন', জলির কণ্ঠে এবার প্রতিজ্ঞা।      

গ্রাম-বাংলার অতি সাধারণ এক হিন্দু মেয়ের চরিত্র ফুটিয়ে তোলাটা ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। ছবিতে কৃষ্ণকলি তার নাম। ধর্মকে কেন্দ্র করে কাহিনী এগিয়েছে। হৃদয়কে নাড়া দেওয়া এক চরিত্রকে এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। বেশ স্বাবলীল ছিলেন বলেই জানালেন।

'ছবির সঙ্গে জড়িত সবাই ব্যাপক সহায়তা করেছেন। সবাই পরামর্শ দিয়েছেন। ভুল হলে বলেছেন, এটা তো ভুল করেছো। আবার ভুলটা ঠিকও করে দিয়েছেন', জানান জলি।

'সিনেমায় শাহরিয়াজ এক মুসলমান তরুণ। নাম তার রাজ। সে নিজেকে সীতারামপুরের রাজা বলেই মনে করে। ছবিতে আমার একটা ডায়লগ আছে। এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আমি নায়ককে বলি- সীতারামপুরের মাস্তানী কামারপাড়ায় চলবো না', হাসতে হাসতে বললেন নায়িকা।

'একটি ভয়ের বিষয় ছিল', বলতে থাকেন জলি। 'শুটিংয়ের অনেকটা হয়েছে নৌকায় চড়ে। আমি তো সাঁতার জানি না। শুটিংয়ের সবাই একটা বড় ট্রলারে থাকলেও আমি ছিলাম ছোট একটা নৌকায়। বিরাট বিরাট সব ঢেউ আসে। মাঝে মাঝেই অনেক ভয় পেয়েছি। কিন্তু একটা বিষয়টই মাথায় ছিল। আমি পারবো না কেন। পড়ে গেলেও এক সেকেন্ড তো ভেসে থাকতে পারবো। কেউ না কেউ আমাকে বাঁচাবেন ঠিকই। শুটিং করতে করতে স্রোতে ভাসতে ভাসতে সেই কোথায় চলে গেছি, কোনো খবর নাই। আসার সময় বুঝেছি কত দূর চলে গেছিলাম! প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা লেগেছে ফিরতে। কড়া রোদের মধ্যে শুটিং করে গেছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দুপুরেও কোনো খাওয়া-দাওয়া নেই। শুধু কিছু শুকনো ফল নেওয়া হয়েছি। দুপুরে ড্রাই ফ্রুট খেয়ে লাঞ্চ সেরেছি'।

এটি নারী-কেন্দ্রিক চরিত্রের ছবি। আমার দায়িত্ব অনেক বেশি। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছি সব ঠিকমতো করতে। বাকিটা দর্শকরাই বলতে পারবেন।

কাল সকাল থেকে নতুন ব্যস্ততা। হলে হলে ঘুরে বেড়াবেন জলি। দর্শকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তার বিশ্বাস, স্বপ্নটা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে এ ছবির মাধ্যমে। দোয়া চেয়েছেন সবার কাছে।

 


মন্তব্য