সেতুর নির্মাণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। তাতে গুরুত্ব দেয়নি প্রশাসন কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শেষপর্যন্ত হস্তান্তরের আগেই ভেঙে হেলে পড়েছে এর পার্শ্বদেয়াল।
ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর এলাকায়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ মে বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক কোটি ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯ টাকার কাজটির দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লুকাইয়া ট্রেডার্স, হাজির হাট।
কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় বাড়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সিডিউল না মেনে দায়সারাভাবে কাজ করতে থাকে। নির্মাণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, সেতুর তলদেশের বিম সমতল না করে উঁচু-নিচু রাখা হয় এবং সঠিক সেন্টারিং না করার কারণে গ্রেড বিম বাঁকা হয়ে যায়।
কাজ চলাকালে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করা হলেও ঠিকাদারের লোকজন তাতে গুরুত্ব দেননি। উল্টো দীর্ঘদিন ধরে কাজ ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়।
শনিবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে দেখা যায়, নুরাইনপুর খালের ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর পশ্চিম পাশের একটি পার্শ্বদেয়াল (উইং ওয়াল) দুই ভাগ হয়ে গেছে। এ ছাড়া পূর্ব পাশের বাকি দুটি পার্শ্বদেয়ালেও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু করার পর দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়। ঠিকাদার ইচ্ছেমতো কাজ করেছেন। অনিয়ম নিয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মকর্তাকে কাজের জায়গায় একবারও আসতে দেখা যায়নি।'
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে লুকাইয়া ট্রেডার্সের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়া অংশ সিডিউল অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ কাজের অনুকূলে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।