kalerkantho


শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইউপি চেয়ারম্যানদের সালিশ!

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৯



শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইউপি চেয়ারম্যানদের সালিশ!

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় ধর্ষক রেজাউল করিমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।

ধর্ষক রেজাউল করিম উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রেজাউল করিম ধর্ষণ করে। এর আগে ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় ৬ মাস আগ থেকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল রেজাউল করিম।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মোবাইলে ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ির বাইরে আসতে বলে। পরে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় মেয়েটি চিত্কার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ধর্ষককে আটক করে। পরে ধর্ষকের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ধর্ষণের বিষয়টি স্থানীয় ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদুকে জানানো হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ইউপি চেয়ারম্যান তার বাড়িতে গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির ও ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের আয়োজন করে।

সালিশে সিদ্ধান্ত হয় মেয়ের বাবা ধর্ষক রেজাউল করিমকে যৌতুক হিসেবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করলে ৫ লাখ টাকার দেলমোহরে বিয়ে হবে। কিন্তু ধর্ষিতার বাবা যৌতুক দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সালিশ ভেস্তে যায়।

পরবর্তিতে ধর্ষিতার পরিবারকে থানায় মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রবিবার ধর্ষিতার বাবা বাদি হয়ে ধর্ষক রেজাউল করিমকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। অপর আসামিরা হচ্ছে আব্দুল মজিদ, আব্দুর রশিদ, বাদল।

ধর্ষিতার পিতা জাহিদুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় তিন ইউপি চেয়ারম্যান সালিশের নামে সময় নষ্ট করে। সালিশে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে।  

ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম কাউছার চৌধুরী জানান, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় ধর্ষকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় চেয়ারম্যানরা সালিশের আয়োজন করেছিল বলেও বাদী মামলায় তা উল্লেখ করেছে। আসামিদের মধ্যে বাদলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


মন্তব্য