উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, ডলারের অস্থিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির চাপে দেশের টেক্সটাইল শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। এ অবস্থায় শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
বুধবার (১৫ জুলাই) গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।
চিঠিতে বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশের সুতা, কাপড়, রং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং শিল্প ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপে পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, কার্যকরী মূলধনের সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। এতে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
সংগঠনটি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিশেষ পুনর্বাসন সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পের আধুনিকায়ন, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। সবুজ রূপান্তর তহবিলের আওতা বৃদ্ধি এবং শূন্য তরল বর্জ্য নিঃসরণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
বিটিএমএ ভারতের প্রযুক্তি উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আদলে বাংলাদেশেও একটি বিশেষ প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে টেক্সটাইল শিল্পে দ্রুত প্রযুক্তি আধুনিকায়ন জরুরি।
চিঠিতে রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল পুনর্বহাল এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরতের সময়সীমা আরো নমনীয় করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা, বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ বিল ও বাণিজ্যিক নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রপ্তানি-সমতুল্য সুবিধা আরো কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে বিটিএমএ বলেছে, শক্তিশালী পশ্চাৎমুখী শিল্পভিত্তি ছাড়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। সংগঠনটির মতে, টেক্সটাইল শিল্প দেশের রপ্তানি আয়, বিনিয়োগ এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই শিল্পটির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ সময়ের দাবি।





